মালিতে দেশজুড়ে সশস্ত্র হামলা কারা চালালো?

দু’দিন ধরে কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সমন্বিত হামলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালি। হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি গোষ্ঠী এসব হামলার দায় স্বীকার করেছে। গত রোববার (২৬ এপ্রিল) সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে আল-জাজিরা জানায়, রাজধানী বামাকোসহ দেশের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় সমন্বিত হামলার সময় মালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাদিও কামারা নিহত হয়েছেন। শনিবার কাটি এলাকায় তার বাসভবনেও হামলা চালানো হয়েছিল। মালির সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, অজ্ঞাত সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো রাজধানী এবং দেশের অভ্যন্তরে কিছু নির্দিষ্ট এলাকা ও ব্যারাকে হামলা চালিয়েছে। লড়াই অব্যাহত রয়েছে। হামলার নেপথ্যে কারা? আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী জামাত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম) রাজধানীর কাছে কাটি, বামাকো বিমানবন্দর এবং উত্তরের মপতি, সেভারে ও গাও অঞ্চলে হামলার দায় স্বীকার করেছে। পাশাপাশি যাযাবর গোষ্ঠী তুয়ারেগের বিদ্রোহীরাও সাম্প্রতিক হামলায় অংশ নেওয়ার দাবি করেছে। জেএনআইএম হলো সাহেল অঞ্চলে আল-কায়েদার শাখা এবং এই অঞ্চলের সবচেয়ে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠী। গত সেপ্টেম্বর থেকে তারা তে

মালিতে দেশজুড়ে সশস্ত্র হামলা কারা চালালো?

দু’দিন ধরে কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সমন্বিত হামলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালি। হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি গোষ্ঠী এসব হামলার দায় স্বীকার করেছে।

গত রোববার (২৬ এপ্রিল) সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে আল-জাজিরা জানায়, রাজধানী বামাকোসহ দেশের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় সমন্বিত হামলার সময় মালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাদিও কামারা নিহত হয়েছেন। শনিবার কাটি এলাকায় তার বাসভবনেও হামলা চালানো হয়েছিল।

মালির সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, অজ্ঞাত সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো রাজধানী এবং দেশের অভ্যন্তরে কিছু নির্দিষ্ট এলাকা ও ব্যারাকে হামলা চালিয়েছে। লড়াই অব্যাহত রয়েছে।

হামলার নেপথ্যে কারা?

আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী জামাত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম) রাজধানীর কাছে কাটি, বামাকো বিমানবন্দর এবং উত্তরের মপতি, সেভারে ও গাও অঞ্চলে হামলার দায় স্বীকার করেছে। পাশাপাশি যাযাবর গোষ্ঠী তুয়ারেগের বিদ্রোহীরাও সাম্প্রতিক হামলায় অংশ নেওয়ার দাবি করেছে।

জেএনআইএম হলো সাহেল অঞ্চলে আল-কায়েদার শাখা এবং এই অঞ্চলের সবচেয়ে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠী। গত সেপ্টেম্বর থেকে তারা তেলের ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে আসছে, যার ফলে ২০২৫ সালের অক্টোবরে বামাকো শহর স্থবির হয়ে পড়েছিল। তারা প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে মালিতে জ্বালানি আসার প্রধান মহাসড়কগুলো অবরোধ করে একটি অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকট তৈরি করেছিল।

গত শনিবার জেএনআইএম জানায়, তুয়ারেগ বিদ্রোহীদের নেতৃত্বাধীন ‘আজওয়াদ লিবারেশন ফ্রন্ট (এফএলএ)-এর সঙ্গে সমন্বয় করে তারা কিদাল শহরটি দখল করেছে। এফএলএর মুখপাত্র মোহাম্মদ এলমাওলুদ রামাদান সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, তাদের গোষ্ঠী কিদাল এবং গাওয়ের একাধিক অবস্থানের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। আল-জাজিরা নিরপেক্ষভাবে এই দাবি যাচাই করতে না পারলেও ভিডিও ফুটেজে সশস্ত্র ব্যক্তিদের কিদালের জাতীয় যুব ক্যাম্পে প্রবেশ করতে দেখা গেছে।

হামলার প্রভাব 

কিদাল শহরটি আয়তনে খুব বড় না হলেও এর প্রতীকী গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ যে কিদাল নিয়ন্ত্রণ করবে, সেই কার্যত পুরো উত্তর মালির নিয়ন্ত্রণ পায়।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের সাহেল অঞ্চলের উপ-পরিচালক ইব্রাহিম ইয়াহিয়া ইব্রাহিম বলেন, মালির কর্তৃপক্ষ সম্ভবত এই নতুন দফার হামলার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না। তিনি মনে করেন, এটি গত কয়েক বছরে সরকারের ওপর জেএনআইএমের ধারাবাহিক ও ভয়াবহ আক্রমণেরই একটি নাটকীয় অংশ।

সূত্র: আল-জাজিরা
কেএএ/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow