মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তাসহ একাধিক ইস্যুতে সহযোগিতা জোরদার
মিয়ানমারের রাষ্ট্রপতি মিন অং মিন অং হলাইং-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এই বৈঠকে প্রতিবেশী কূটনীতিতে মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট। দীর্ঘতম স্থলসীমান্ত ভাগাভাগি করা প্রতিবেশী হিসেবে চীন মিয়ানমারের একটি নির্ভরযোগ্য বন্ধু ও অংশীদার। পরিবর্তনশীল ও অস্থির আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে দুই দেশের সংহতি ও সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। এছাড়া ভূমিকম্প-পরবর্তী পুনর্গঠনে মিয়ানমারকে সহায়তা বাড়াতে প্রস্তুত রয়েছে চীন। এর পাশাপাশি অনলাইন জুয়া, টেলিযোগাযোগ জালিয়াতি এবং মাদক পাচারের মতো অপরাধ দমনে যৌথ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট। মঙ্গলবার (১৬ জুন) বেইজিং শহরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া সংবাদ প্রকাশ করেছে। প্রেসিডেন্ট শি বলেন, মিয়ানমারের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং জনগণের সমর্থন নিয়ে নতুন সরকারকে উন্নয়ন ও নিরাপত্তার মধ্যে সমন্বয় সাধন করে একটি উন্নয়নপথ খুঁজে নিতে সমর্থন করে চীন। তিনি বলেন, চীন অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি অনুস
মিয়ানমারের রাষ্ট্রপতি মিন অং মিন অং হলাইং-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এই বৈঠকে প্রতিবেশী কূটনীতিতে মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট। দীর্ঘতম স্থলসীমান্ত ভাগাভাগি করা প্রতিবেশী হিসেবে চীন মিয়ানমারের একটি নির্ভরযোগ্য বন্ধু ও অংশীদার। পরিবর্তনশীল ও অস্থির আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে দুই দেশের সংহতি ও সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
এছাড়া ভূমিকম্প-পরবর্তী পুনর্গঠনে মিয়ানমারকে সহায়তা বাড়াতে প্রস্তুত রয়েছে চীন। এর পাশাপাশি অনলাইন জুয়া, টেলিযোগাযোগ জালিয়াতি এবং মাদক পাচারের মতো অপরাধ দমনে যৌথ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বেইজিং শহরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া সংবাদ প্রকাশ করেছে।
প্রেসিডেন্ট শি বলেন, মিয়ানমারের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং জনগণের সমর্থন নিয়ে নতুন সরকারকে উন্নয়ন ও নিরাপত্তার মধ্যে সমন্বয় সাধন করে একটি উন্নয়নপথ খুঁজে নিতে সমর্থন করে চীন।
তিনি বলেন, চীন অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি অনুসরণ করে এবং মিয়ানমারের জনগণের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ নীতি বজায় রাখে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার প্রচেষ্টাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে চীন।
তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৬-২০৩০ সময়কালের জন্য চীনের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এ বছর শুরু হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে চীন তার উন্নয়নের অভিজ্ঞতা মিয়ানমারের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে এবং রাজনৈতিক আস্থা, পারস্পরিক লাভজনক উন্নয়ন, নিরাপত্তা সমন্বয় ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগের ভিত্তিতে চীন-মিয়ানমার অভিন্ন ভবিষ্যতের সম্প্রদায় গড়ে তুলতে প্রস্তুত।
এছাড়া চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোরকে(China-Myanmar Economic Corridor) দুই দেশের মধ্যে বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতার অন্যতম প্রধান প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করেন চীনা প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর নিরাপদ বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখতে হবে যাতে মিয়ানমারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনগণের জীবনমান উন্নত হয়।
মিয়ানমারের সব পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ও পুনর্মিলনের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে শি বলেন, উত্তর মিয়ানমারে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা দেশটির জনগণের মৌলিক ও দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বৈঠকে মিন অং হ্লাইং দুই দেশের ঐতিহ্যবাহী ‘পাউক-ফাও’ (ভ্রাতৃপ্রতিম) বন্ধুত্বের প্রশংসা করেন এবং মিয়ানমারের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা, শান্তি ও পুনর্মিলনে চীনের দীর্ঘদিনের নিঃস্বার্থ সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, মিয়ানমার দৃঢ়ভাবে ‘এক-চীন নীতি’ অনুসরণ করবে।
তিনি আরও বলেন, চীনের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন মিয়ানমারসহ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করবে। মিয়ানমার চীনের সঙ্গে সর্বাত্মক সহযোগিতা গভীর করতে, মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোর যৌথভাবে নির্মাণ করতে এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও উন্নত করতে আগ্রহী।
মিন অং হ্লাইং বলেন, মিয়ানমারে চীনা প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের নিরাপত্তাকে দেশটি অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। এছাড়া অনলাইন জুয়া ও টেলিকম জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চীন-মিয়ানমার ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।
বৈঠকের পর দুই নেতা পরিবহন ও জনকল্যাণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক একাধিক নথি স্বাক্ষরের সাক্ষী হন। এর আগে শি জিনপিং মিন অং হ্লাইংয়ের জন্য আনুষ্ঠানিক স্বাগত অনুষ্ঠান আয়োজন করেন। পরে তার সম্মানে একটি মধ্যাহ্নভোজেরও আয়োজন করা হয়।
কে এম
What's Your Reaction?