মুন্সিগঞ্জে ডেঙ্গুর থাবা, লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে

শয্যা সংকটে বারান্দা-মেঝেতে চিকিৎসা জুলাইয়ে ২৩ দিনে ভর্তি ৩৩৪ জন চলতি বছর আক্রান্তের সংখ্যা ৬ শতাধিক অচল আইসিইউ ইউনিট মুন্সিগঞ্জে জুলাইয়ের শুরু থেকেই চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। এরসঙ্গে যোগ হয়েছে সিজনাল ভাইরাস জ্বর। হাসপাতালেও কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না বলে অভিযোগ। প্রয়োজনীয় স্যালাইনসহ পর্যাপ্ত ওষুধ ও মশারি না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে সরেজমিন দেখা গেছে, রোগীর চাপে যেন তিল ধারণের ঠাঁই নেই ২৫০ শয্যা মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে। নতুন ভবনের চতুর্থ ও পঞ্চম তলার বারান্দাসহ মহিলা, শিশু ও পুরুষ ওয়ার্ড রোগীতে ঠাসা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ছয় শতাধিক ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। আরও পাঁচটি অন্যান্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ছিলেন চার শতাধিক রোগী। তবে ডেঙ্গুর পাশাপাশি সিজনাল ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত রোগীরাই সবচেয়ে বেশি চিকিৎসা নিয়েছেন। যার সংখ্যা ছাড়িয়েছে আড়াই হাজারের বেশি। ‘জানুয়ারিতে ১১ জন, ফেব্রুয়ারিতে পাঁচজন, মার্

মুন্সিগঞ্জে ডেঙ্গুর থাবা, লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে
  • শয্যা সংকটে বারান্দা-মেঝেতে চিকিৎসা
  • জুলাইয়ে ২৩ দিনে ভর্তি ৩৩৪ জন
  • চলতি বছর আক্রান্তের সংখ্যা ৬ শতাধিক
  • অচল আইসিইউ ইউনিট

মুন্সিগঞ্জে জুলাইয়ের শুরু থেকেই চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। এরসঙ্গে যোগ হয়েছে সিজনাল ভাইরাস জ্বর। হাসপাতালেও কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না বলে অভিযোগ। প্রয়োজনীয় স্যালাইনসহ পর্যাপ্ত ওষুধ ও মশারি না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে সরেজমিন দেখা গেছে, রোগীর চাপে যেন তিল ধারণের ঠাঁই নেই ২৫০ শয্যা মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে। নতুন ভবনের চতুর্থ ও পঞ্চম তলার বারান্দাসহ মহিলা, শিশু ও পুরুষ ওয়ার্ড রোগীতে ঠাসা।

মুন্সিগঞ্জে ডেঙ্গুর থাবা, লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ছয় শতাধিক ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। আরও পাঁচটি অন্যান্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ছিলেন চার শতাধিক রোগী। তবে ডেঙ্গুর পাশাপাশি সিজনাল ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত রোগীরাই সবচেয়ে বেশি চিকিৎসা নিয়েছেন। যার সংখ্যা ছাড়িয়েছে আড়াই হাজারের বেশি।

‘জানুয়ারিতে ১১ জন, ফেব্রুয়ারিতে পাঁচজন, মার্চে চারজন, এপ্রিলে ৩৯ জন ও মে মাসে ৩৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। তবে জুন মাস থেকেই বদলে যায় পরিস্থিতি। ওই মাসে ১৫১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হন হাসপাতালে। এরপর জুলাই থেকে ক্রমেই ভয়াবহতার দিকে যাচ্ছে পরিস্থিতি। ২৩ দিনে ভর্তি হয়েছেন ৩৩৪ জন’

তথ্য বলছে, জুলাইয়ের শুরু থেকেই মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১৫-২০ জন করে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছেন। তীব্র জ্বর, শরীর ব্যথা, বমি, ডায়রিয়াসহ নানান উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছেন রোগীরা।

মুন্সিগঞ্জে ডেঙ্গুর থাবা, লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ৩৪ জন। আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে জানুয়ারিতে ১১ জন, ফেব্রুয়ারিতে পাঁচজন, মার্চে চারজন, এপ্রিলে ৩৯ জন ও মে মাসে ৩৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। তবে জুন মাস থেকেই বদলে যায় পরিস্থিতি। ওই মাসে ১৫১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হন হাসপাতালে। এরপর জুলাই থেকে ক্রমেই ভয়াবহতার দিকে যাচ্ছে পরিস্থিতি। ২৩ দিনে ভর্তি হয়েছেন ৩৩৪ জন।

চিকিৎসকরা বলছেন, আক্রান্তদের শরীরে রক্তের প্লাটিলেট দ্রুত কমছে। এতে দীর্ঘায়িত হচ্ছে রোগীদের সেরে ওঠার ক্ষেত্রে। ভর্তির পর থেকে রোগীদের প্রয়োজনীয় স্যালাইনসহ ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।

মুন্সিগঞ্জে ডেঙ্গুর থাবা, লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে

‘ডেঙ্গু আক্রান্তদের সেবার মান উন্নয়নে আলাদা আইসোলেশন কক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে। রোগীদের পর্যাপ্ত স্যালাইনসহ মশারি ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে’

হাসপাতালটির নতুন ভবনের পঞ্চম তলার শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে পাঁচ বছর বয়সী তাসনিম আক্তার। তার মা সুমি বেগম জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘জেলা শহরের খালিষ্ট এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করি। সেখানেই মশার কামড়ে আমার মেয়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে। বুধবার হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ও এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা চোখে পড়েনি। সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।

মুন্সিগঞ্জে ডেঙ্গুর থাবা, লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে

চতুর্থ তলার পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন শহরের উত্তর ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা সামিম মোল্লা। তিনি বলেন, ‘শরীরে তীব্র ব্যথা ও জ্বর নিয়ে ভর্তি হয়েছি। চিকিৎসা নেওয়ার পর এখন কিছুটা সুস্থ আছি।’

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার নিয়ন্ত্রণে জোরালো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় মুন্সিগঞ্জে ক্রমেই ভয়াবহ হচ্ছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। এতে প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। এমন পরিস্থিতিতেও সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবারে দেখা মেলে না চিকিৎসকদের।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই বলে পরামর্শ চিকিৎসকদের। মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন) ডা. সাইদুর রহমান হিমেল জাগো নিউজকে বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা না গেলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগের দিকে যেতে পারে। বাসাবাড়ির আঙিনা পরিষ্কার রাখাসহ পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর তরল খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

রোগীদের অভিযোগ অস্বীকার করে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘ডেঙ্গু আক্রান্তদের সেবার মান উন্নয়নে আলাদা আইসোলেশন কক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে। রোগীদের পর্যাপ্ত স্যালাইনসহ মশারি ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।’

অন্যদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর ঘোষণা দেওয়া হলেও লোকবল নিয়োগ না হওয়ায় কার্যত অচল রয়েছে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)। এতে ডেঙ্গু আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগী নিয়ে প্রায়ই বিড়ম্বনায় পড়ছেন স্বজনরা। কবে নাগাদ আইসিইউ কার্যক্রম চালু হতে পারে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি তত্ত্বাবধায়ক।

মিরকাদিম পৌর প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, এডিস মশার নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে পৌর কর্তৃপক্ষ।

শুভ ঘোষ/এসআর/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow