‘মৃত্যুর পরও বলা হয়েছে ওষুধ আনতে, চাওয়া হয়েছে ৫ থেকে ১৪ হাজার টাকা’

মৃত্যুর পরও ওষুধ আনতে বলা হয়েছে এবং ৫ থেকে ১৪ হাজার টাকা পর্যন্ত চাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ জানিয়েছেন রাজধানীর আদ্-দ্বীন মেডিকেল হাসপাতালে মারা যাওয়া ছয় শিশুর স্বজনরা। শিশুগুলোর স্বজনরা প্রশ্ন তুলছেন, মারা যাওয়ার পরে আইসিইউতে নেওয়া হলেও আগে কেন নেওয়া হলো না? বুধবার (২৭ মে) দৈনিক যুগান্তরের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। এদিন সকালে আদ্-দ্বীন মেডিকেল হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড-২ এ ছয় শিশু মারা যায়। এসব শিশুর বয়স ছিল এক থেকে দুই দিন। ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতাল সূত্র ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, ওয়ার্ডে মোট ১১ জন মা ও নবজাতক ভর্তি ছিলেন এবং শিশুদের বয়স ছিল দুই থেকে চার দিনের মধ্যে। ডেলিভারির পর প্রথমদিকে সবাই সুস্থ থাকলেও রাত ১২টার পর থেকে হঠাৎ করে অবস্থার অবনতি শুরু হয় এবং ভোর হওয়ার আগেই একে একে ছয় নবজাতকের মৃত্যু ঘটে। ঘটনার পর হাসপাতালজুড়ে কান্না ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ, ডিবি, পিবিআই ও ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। মুন্সীগঞ্জ থেকে আসা ব্যবসায়ী আকায়িদ গণমাধ্যমকে জানান, তার স্ত্রী ও সন্তান ভালো ছিল, কিন্তু ভোরে হঠাৎ চ

‘মৃত্যুর পরও বলা হয়েছে ওষুধ আনতে, চাওয়া হয়েছে ৫ থেকে ১৪ হাজার টাকা’

মৃত্যুর পরও ওষুধ আনতে বলা হয়েছে এবং ৫ থেকে ১৪ হাজার টাকা পর্যন্ত চাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ জানিয়েছেন রাজধানীর আদ্-দ্বীন মেডিকেল হাসপাতালে মারা যাওয়া ছয় শিশুর স্বজনরা। শিশুগুলোর স্বজনরা প্রশ্ন তুলছেন, মারা যাওয়ার পরে আইসিইউতে নেওয়া হলেও আগে কেন নেওয়া হলো না?

বুধবার (২৭ মে) দৈনিক যুগান্তরের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

এদিন সকালে আদ্-দ্বীন মেডিকেল হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড-২ এ ছয় শিশু মারা যায়। এসব শিশুর বয়স ছিল এক থেকে দুই দিন। ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, ওয়ার্ডে মোট ১১ জন মা ও নবজাতক ভর্তি ছিলেন এবং শিশুদের বয়স ছিল দুই থেকে চার দিনের মধ্যে। ডেলিভারির পর প্রথমদিকে সবাই সুস্থ থাকলেও রাত ১২টার পর থেকে হঠাৎ করে অবস্থার অবনতি শুরু হয় এবং ভোর হওয়ার আগেই একে একে ছয় নবজাতকের মৃত্যু ঘটে। ঘটনার পর হাসপাতালজুড়ে কান্না ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ, ডিবি, পিবিআই ও ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

মুন্সীগঞ্জ থেকে আসা ব্যবসায়ী আকায়িদ গণমাধ্যমকে জানান, তার স্ত্রী ও সন্তান ভালো ছিল, কিন্তু ভোরে হঠাৎ চিৎকার শুনে দৌড়ে গিয়ে দেখি একের পর এক বাচ্চা মারা যাচ্ছে। তবে এসময় পর্যাপ্ত চিকিৎসা সহায়তা পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সেতু, ফাহিমা ও ফারিহার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, রাত ১২টার পর থেকেই বাচ্চারা নিস্তেজ হতে শুরু করে এবং শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। ডাকাডাকি করলেও দ্রুত নার্স পাওয়া যায়নি। পরে সবাইকে একসঙ্গে আইসিইউতে নেওয়া হয়, কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়।

একই অভিযোগ করেন নাজমা, মনিরা ও শারমিনের পরিবারের সদস্যরা। তারা বলেন, রাতের বেলা স্টাফদের পাওয়া যাচ্ছিল না, বাচ্চারা কষ্ট পেলেও কেউ দ্রুত আসেনি। 

ফাহিমা ও রুমির পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, এসি বন্ধ বা গ্যাস লিকেজের কারণেই শ্বাসকষ্ট শুরু হয় বলে তারা জানতে পারেন। 

এছাড়া কিছু স্বজন অভিযোগ করেন, মৃত্যুর পরও ওষুধ আনতে বলা হয়েছে এবং ৫ থেকে ১৪ হাজার টাকা পর্যন্ত চাওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, অভিভাবকদের পর্যাপ্ত প্রবেশাধিকারও দেওয়া হয়নি।

ঘটনার বিষয়ে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্সিং বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন গণমাধ্যমকে বলেন, প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয় এবং এটিকে প্রাথমিকভাবে ‘দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

তিনি জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ তদন্ত করছে এবং ফরেনসিক টিমও কাজ করছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow