মে দিবসে শ্রমজীবী মানুষের প্রতি ড. ইউনূসের শ্রদ্ধা

মহান ‘মে দিবস’ ও আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে বিশ্বের সব শ্রমজীবী মানুষের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, ভোরের আলো ফোটার আগেই যারা কাজে নেমে পড়েন— মাঠে, কারখানায় ও গার্মেন্টসে যাদের শ্রমে অর্থনীতির ভিত দাঁড়িয়ে আছে, তারাই প্রকৃত অর্থে দেশের চালিকাশক্তি; অথচ তারা প্রাপ্য স্বীকৃতি খুব কমই পান। শুক্রবার (০১ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।   ‘মে দিবস’ সংক্রান্ত ওই পোস্টে প্রবাসী শ্রমিকদের প্রতিও বিশেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে ইউনূস বলেন, পরিবার-পরিজন ছেড়ে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তারা প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠান, যা অর্থনীতিকে সচল ও সমৃদ্ধ রাখছে। দেশের অভ্যন্তরে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত শ্রমজীবী মানুষের অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। পোশাক শ্রমিক, কৃষক, নির্মাণ ও পরিবহন শ্রমিক, ক্ষুদ্র দোকানকর্মী ও উদ্যোক্তাদের ‘অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। নারী শ্রমিকদের বৈষম্যের বিষয়টি

মে দিবসে শ্রমজীবী মানুষের প্রতি ড. ইউনূসের শ্রদ্ধা

মহান ‘মে দিবস’ ও আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে বিশ্বের সব শ্রমজীবী মানুষের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, ভোরের আলো ফোটার আগেই যারা কাজে নেমে পড়েন— মাঠে, কারখানায় ও গার্মেন্টসে যাদের শ্রমে অর্থনীতির ভিত দাঁড়িয়ে আছে, তারাই প্রকৃত অর্থে দেশের চালিকাশক্তি; অথচ তারা প্রাপ্য স্বীকৃতি খুব কমই পান।

শুক্রবার (০১ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
 
‘মে দিবস’ সংক্রান্ত ওই পোস্টে প্রবাসী শ্রমিকদের প্রতিও বিশেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে ইউনূস বলেন, পরিবার-পরিজন ছেড়ে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তারা প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠান, যা অর্থনীতিকে সচল ও সমৃদ্ধ রাখছে।

দেশের অভ্যন্তরে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত শ্রমজীবী মানুষের অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। পোশাক শ্রমিক, কৃষক, নির্মাণ ও পরিবহন শ্রমিক, ক্ষুদ্র দোকানকর্মী ও উদ্যোক্তাদের ‘অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা।

নারী শ্রমিকদের বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরে প্রফেসর ইউনূস বলেন, বিশ্বব্যাপী নারী শ্রমিকরা একই কাজের জন্য এখনো পুরুষদের তুলনায় কম পারিশ্রমিক পান। শ্রমশক্তিতে তাদের অংশগ্রহণ সমান বা অনেক ক্ষেত্রে বেশি হলেও তাদের অবদান যথাযথ মূল্যায়ন পায় না।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে শ্রমজীবী মানুষ একটি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে— অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার। এর ফলে আগামী এক প্রজন্মের মধ্যেই কোটি মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, অটোমেশনকে এমনভাবে ব্যবহার করতে হবে, যাতে শ্রমিকরা ঝুঁকিপূর্ণ ও মর্যাদাহীন কাজ থেকে মুক্তি পায় এবং নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে মানুষের সৃজনশীলতা বিকাশ ও দারিদ্র্য থেকে মুক্তির হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

মে দিবসে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রফেসর ইউনূস বলেন, এমন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে যেখানে প্রত্যেক মানুষ নিজের পছন্দ অনুযায়ী কর্মজীবন বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে এবং চাইলে উদ্যোক্তা হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করতে পারবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow