মেসির বিশ্বজয়ের নেপথ্যে বাবার অবদান
লিওনেল মেসির নাম উচ্চারিত হলেই সামনে আসে বিশ্ব ফুটবলের এক কিংবদন্তির গল্প। কিন্তু সেই গল্পের শুরুর পাতাগুলোতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নামগুলোর একটি তার বাবা জর্জ হোরাসিও মেসি। ছেলের প্রতিভা চিনতে পারা থেকে শুরু করে প্রতিকূল সময়ে পাশে থাকা, মেসির ফুটবলজীবন গড়ে ওঠার পেছনে বাবার অবদান ছিল অনস্বীকার্য। ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি অসাধারণ ঝোঁক ছিল মেসির। রোসারিওর রাস্তায় ও স্থানীয় ক্লাবে বল পায়ে তার প্রতিভার ঝলক দেখেছিলেন জর্জ। ছেলের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে তিনি সবসময় উৎসাহ জুগিয়েছেন। মেসির শারীরিক বৃদ্ধির সমস্যার চিকিৎসা নিয়েও পরিবারকে বড় ধরনের আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল তাকে। তবুও ছেলের ফুটবলস্বপ্ন থামিয়ে দেননি তিনি। মেসির জীবনের সবচেয়ে বড় বাঁক আসে যখন মাত্র ১৩ বছর বয়সে তাকে স্পেনের বার্সেলোনায় যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। নতুন দেশ, নতুন পরিবেশ, সবকিছুই ছিল অচেনা। সেই কঠিন সময়ে ছেলের পাশে দাঁড়াতে জর্জও বার্সেলোনায় যান। পরিবারের অন্য সদস্যরা তখন রোসারিওতেই থেকে যান। বার্সেলোনায় মেসির শুরুটা সহজ ছিল না। বয়স কম, পরিবার থেকে দূরে থাকা এবং নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার চাপ, সব মিলিয়ে কঠিন সময় পার ক
লিওনেল মেসির নাম উচ্চারিত হলেই সামনে আসে বিশ্ব ফুটবলের এক কিংবদন্তির গল্প। কিন্তু সেই গল্পের শুরুর পাতাগুলোতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নামগুলোর একটি তার বাবা জর্জ হোরাসিও মেসি। ছেলের প্রতিভা চিনতে পারা থেকে শুরু করে প্রতিকূল সময়ে পাশে থাকা, মেসির ফুটবলজীবন গড়ে ওঠার পেছনে বাবার অবদান ছিল অনস্বীকার্য।
ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি অসাধারণ ঝোঁক ছিল মেসির। রোসারিওর রাস্তায় ও স্থানীয় ক্লাবে বল পায়ে তার প্রতিভার ঝলক দেখেছিলেন জর্জ। ছেলের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে তিনি সবসময় উৎসাহ জুগিয়েছেন। মেসির শারীরিক বৃদ্ধির সমস্যার চিকিৎসা নিয়েও পরিবারকে বড় ধরনের আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল তাকে। তবুও ছেলের ফুটবলস্বপ্ন থামিয়ে দেননি তিনি।
মেসির জীবনের সবচেয়ে বড় বাঁক আসে যখন মাত্র ১৩ বছর বয়সে তাকে স্পেনের বার্সেলোনায় যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। নতুন দেশ, নতুন পরিবেশ, সবকিছুই ছিল অচেনা। সেই কঠিন সময়ে ছেলের পাশে দাঁড়াতে জর্জও বার্সেলোনায় যান। পরিবারের অন্য সদস্যরা তখন রোসারিওতেই থেকে যান।
বার্সেলোনায় মেসির শুরুটা সহজ ছিল না। বয়স কম, পরিবার থেকে দূরে থাকা এবং নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার চাপ, সব মিলিয়ে কঠিন সময় পার করতে হয়েছিল তাকে। সেই সময় জর্জ ছিলেন ছেলের সবচেয়ে বড় ভরসা। মেসির ফুটবল প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি তার মানসিক শক্তি ধরে রাখতেও বাবার উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
বার্সেলোনার একাডেমি লা মাসিয়ায় ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেন মেসি। এরপর বয়সভিত্তিক দল পেরিয়ে মূল দলে উঠে আসা, বিশ্ব ফুটবলে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা, প্রতিটি ধাপেই জর্জ ছিলেন আড়ালের একজন গুরুত্বপূর্ণ মানুষ।
মেসি বিশ্বসেরা ফুটবলার হয়ে ওঠার পরও জর্জের ভূমিকা শেষ হয়নি। বরং ছেলের পেশাগত জীবন ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি অন্যতম প্রধান প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মেসির চুক্তি, পেশাগত বিষয় এবং ক্যারিয়ারসংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্তে বাবার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
তবে জর্জ মেসি কখনোই ছেলের মতো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হতে চাননি। গণমাধ্যম থেকে অনেকটা দূরেই থেকেছেন তিনি। কিন্তু মেসির ক্যারিয়ারের শুরু থেকে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো পর্যন্ত নেপথ্যে তার উপস্থিতি ছিল প্রায় অবিচ্ছিন্ন।
মেসির সাফল্যের গল্প তাই শুধু একজন প্রতিভাবান ফুটবলারের গল্প নয়; এটি একজন বাবার বিশ্বাস, ত্যাগ ও নিরন্তর সমর্থনের গল্পও। ছোট্ট রোসারিও থেকে শুরু করে বার্সেলোনা, এরপর বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চ, মেসির এই দীর্ঘ যাত্রায় জর্জ মেসি ছিলেন ছেলের স্বপ্নের অন্যতম প্রধান সহযাত্রী।
What's Your Reaction?