মেয়াদ শেষ হলেও সরছেন না ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজমা বেগম

কিশোরগঞ্জের সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম পৌর মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজমা বেগমের বিরুদ্ধে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজ্ঞাপন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও তিনি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব ও মেয়াদ নিয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনের সাধারণ মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ছয় মাস। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে যুক্তিসংগত কারণ দেখিয়ে এক বছরের মধ্যে নিয়মিত অধ্যক্ষ নিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে। এতে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিয়মিত অধ্যক্ষ নিয়োগ না হলে ওই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের স্বাক্ষরিত কোনো আবেদন, কাগজপত্র বা কার্যবিবরণী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গ্রহণ বা স্বীকৃতি দেবে না। অভিযোগ রয়েছে, পৌর মহিলা কলেজে এক বছরের বেশি সময় ধরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নাজমা বেগম। তবে এখনও নিয়মিত অধ্যক্ষ নিয়োগের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি। এ পরিস্থিতিতে কলেজটির প্রশাসনিক কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের

মেয়াদ শেষ হলেও সরছেন না ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজমা বেগম

কিশোরগঞ্জের সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম পৌর মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজমা বেগমের বিরুদ্ধে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজ্ঞাপন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও তিনি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব ও মেয়াদ নিয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনের সাধারণ মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ছয় মাস। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে যুক্তিসংগত কারণ দেখিয়ে এক বছরের মধ্যে নিয়মিত অধ্যক্ষ নিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে।

এতে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিয়মিত অধ্যক্ষ নিয়োগ না হলে ওই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের স্বাক্ষরিত কোনো আবেদন, কাগজপত্র বা কার্যবিবরণী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গ্রহণ বা স্বীকৃতি দেবে না।

অভিযোগ রয়েছে, পৌর মহিলা কলেজে এক বছরের বেশি সময় ধরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নাজমা বেগম। তবে এখনও নিয়মিত অধ্যক্ষ নিয়োগের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি।

এ পরিস্থিতিতে কলেজটির প্রশাসনিক কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের সনদ, রেজিস্ট্রেশনসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কয়েকজন বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে দীর্ঘ সময় ভারপ্রাপ্ত দিয়ে কলেজ পরিচালনা করা বিধিবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। দ্রুত নিয়মিত অধ্যক্ষ নিয়োগ না হলে ভবিষ্যতে কলেজটির প্রশাসনিক কার্যক্রম সংকটে পড়তে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজের সভাপতি নূরল ইসলাম যাকের বলেন, আগামী সোমবার গভর্নিং বডির সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজমা বেগম বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই প্রজ্ঞাপনের পর এনটিআরসিএ থেকে আরেকটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে এনটিআরসিএর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছে ও ভাইভা পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে। এনটিআরসিএর মাধ্যমে নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ হলে তার কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে আমি সরে যাবো। আমি জোর করে দায়িত্বে থাকতে চাই না।

নাজমা বেগম আরও বলেন, গত এক বছরে আমার কর্মকাণ্ডে কলেজের শিক্ষকরা সন্তুষ্ট। সভাপতি অসুস্থ ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন সদস্যের সমস্যার কারণে গভর্নিং বডির সভা করা সম্ভব হয়নি। আগামী সোমবার সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার ড. মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘কোনো ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ৬ মাস বা সর্বোচ্চ ১ বছরের বেশি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না, এমন বিধান রয়েছে। এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই কলেজের শিক্ষকদের মধ্য থেকে জ্যেষ্ঠ তিনজনের একটি তালিকা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাতে হবে। পরে উপাচার্য সেই তালিকা থেকে একজনকে দায়িত্ব দেবেন, এটাই নিয়ম। এনটিআরসিএ কবে নিয়োগ দেবে, সেটি এখানে বিবেচ্য বিষয় নয়।’

এসকে রাসেল/এমএন/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow