মোংলায় তিন নবজাতকের খাবার জোগাতে দ্বারে দ্বারে অসহায় বাবা

একই সঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম—স্বাভাবিকভাবে একটি পরিবারের জন্য আনন্দের সংবাদ। যা এখন মোস্তাকিন শেখের সংসারে পরিণত হয়েছে গভীর দুশ্চিন্তায়। সদ্য ভূমিষ্ঠ তিন নবজাতকের দুধ ও চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মোংলা ইপিজেডের এই শ্রমিক বাবা। মোংলা উপজেলার চাঁদপাই ইউনিয়নের চাঁপড়ার মোড় এলাকার বাসিন্দা মোস্তাকিন শেখ। সাত বছর আগে উপজেলার সোনাইলতলা গ্রামের এক কৃষক পরিবারের মেয়ে লাবনী খাতুনকে বিয়ে করেন তিনি। তাদের সংসারে আগে থেকেই শাহনাজ নামে পাঁচ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। গত ১ ডিসেম্বর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে লাবনী একসঙ্গে তিনটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। নবজাতকদের নাম রাখা হয়েছে রাফিউল ইসলাম, রিয়ান ইসলাম ও রাফসান ইসলাম। জন্মের পর থেকেই মা ও তিন শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েন। কয়েক দফা হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা করাতে গিয়ে মোস্তাকিনকে ধার-দেনা করতে হয়েছে। বর্তমানে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। শিশু তিনটি পর্যাপ্ত মায়ের বুকের দুধ না পাওয়ায় অপুষ্টিতে ভুগছে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাদের ফর্মুলা মিল্ক খাওয়াতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার টাকার দুধ প্র

মোংলায় তিন নবজাতকের খাবার জোগাতে দ্বারে দ্বারে অসহায় বাবা

একই সঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম—স্বাভাবিকভাবে একটি পরিবারের জন্য আনন্দের সংবাদ। যা এখন মোস্তাকিন শেখের সংসারে পরিণত হয়েছে গভীর দুশ্চিন্তায়। সদ্য ভূমিষ্ঠ তিন নবজাতকের দুধ ও চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মোংলা ইপিজেডের এই শ্রমিক বাবা।

মোংলা উপজেলার চাঁদপাই ইউনিয়নের চাঁপড়ার মোড় এলাকার বাসিন্দা মোস্তাকিন শেখ। সাত বছর আগে উপজেলার সোনাইলতলা গ্রামের এক কৃষক পরিবারের মেয়ে লাবনী খাতুনকে বিয়ে করেন তিনি। তাদের সংসারে আগে থেকেই শাহনাজ নামে পাঁচ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। গত ১ ডিসেম্বর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে লাবনী একসঙ্গে তিনটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। নবজাতকদের নাম রাখা হয়েছে রাফিউল ইসলাম, রিয়ান ইসলাম ও রাফসান ইসলাম।

জন্মের পর থেকেই মা ও তিন শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েন। কয়েক দফা হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা করাতে গিয়ে মোস্তাকিনকে ধার-দেনা করতে হয়েছে। বর্তমানে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। শিশু তিনটি পর্যাপ্ত মায়ের বুকের দুধ না পাওয়ায় অপুষ্টিতে ভুগছে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাদের ফর্মুলা মিল্ক খাওয়াতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার টাকার দুধ প্রয়োজন, যা জোগাড় করা তার পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মোস্তাকিন শেখ বলেন, আমার অল্প আয়ে আগে থেকেই সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হতো। এখন একসঙ্গে তিন সন্তানের দুধ ও স্ত্রীর চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে পুরোপুরি অসহায় হয়ে পড়েছি। সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে মানুষের কাছে সাহায্য চাইছি।

লাবনী খাতুন জানান, দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি থাকায় চিকিৎসা ব্যয় অনেক বেড়েছে। তিনি বলেন, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা কিছুটা সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু নিয়মিত দুধ কেনার মতো সামর্থ্য নেই। আমরা খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি।

প্রতিবেশী তৈয়ব আলী বলেন, মোস্তাকিন অত্যন্ত কষ্টে দিন পার করছে। সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত।

শিশুদের দাদা ওসমান শেখ বলেন, আমি বৃদ্ধ ও কর্মক্ষম নই। স্ত্রীও অসুস্থ। এমন পরিস্থিতিতে তিন নাতিকে নিয়ে আমরা বড় বিপদে আছি। সরকারি সহায়তা কামনা করছি।

শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তরুণ কান্তি জানান, তিন নবজাতকই জন্মগতভাবে অপুষ্টিতে ভুগছে। মায়ের শারীরিক দুর্বলতার কারণে পর্যাপ্ত বুকের দুধ পাচ্ছে না তারা। দ্রুত পুষ্টিকর বিকল্প খাবার নিশ্চিত করা না গেলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়তে পারে।

পরিবারটি ইতোমধ্যে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে সহায়তার আবেদন করেছে। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে এক দফায় কিছু দুধ সরবরাহ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। স্থানীয় কয়েকজন সহৃদয় ব্যক্তি সহযোগিতা করলেও তা চাহিদা পূরণ করতে পারছে না।

এ অবস্থায় অসহায় এই পরিবারটি মানবিক সহায়তার প্রত্যাশায় দিন গুনছে। ফুটফুটে তিন নবজাতকের চিকিৎসা ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে এবং তাদের সুস্থভাবে বাঁচিয়ে রাখতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, দাতব্য সংস্থা এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জরুরি সহযোগিতা প্রয়োজন।

সাহায্যের জন্য নবজাতকদের দাদা ওসমান শেখের মোবাইল নম্বর ০১৯২৬-১৩৬৬৪০-এ যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সামান্য সহায়তাই হতে পারে তিনটি নিষ্পাপ প্রাণের বেঁচে থাকার অবলম্বন। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এখনই এগিয়ে এলে একটি অসহায় পরিবারের মুখে ফিরতে পারে স্বস্তির হাসি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow