মোদির প্রতিশ্রুতি বনাম শিক্ষার্থীদের অনড় অবস্থান, কী হতে যাচ্ছে

দিল্লি, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু এবং পাটনার মতো প্রধান শহরগুলোতে বর্তমানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমেছেন। আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তর এলাকা, যেখানে পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ, টিয়ার গ্যাস এবং লাঠিচার্জের ঘটনাও ঘটেছে। এই আন্দোলনের মূল কারণ হলো সাম্প্রতিক সময়ে নিট-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং কারিগরি ত্রুটি। গত পাঁচ বছরে অন্তত তিনবার নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ফুঁসে উঠেছেন শিক্ষার্থীরা। গত মে মাসে একটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন মুভমেন্ট হিসেবে শুরু হওয়া  ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ এখন একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। এই সংগঠনটিই বর্তমান ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাদের প্রধান দাবি হলো শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের তাৎক্ষণিক পদত্যাগ এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার।  সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কার মতে, এই সমস্যা কেবল আদালতের মাধ্যমে সমাধান সম্ভব নয়, বরং এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা। আন্দোলনের চাপে পড়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে মুখ খুলেছেন। তিনি একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যম

মোদির প্রতিশ্রুতি বনাম শিক্ষার্থীদের অনড় অবস্থান, কী হতে যাচ্ছে
দিল্লি, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু এবং পাটনার মতো প্রধান শহরগুলোতে বর্তমানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমেছেন। আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তর এলাকা, যেখানে পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ, টিয়ার গ্যাস এবং লাঠিচার্জের ঘটনাও ঘটেছে। এই আন্দোলনের মূল কারণ হলো সাম্প্রতিক সময়ে নিট-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং কারিগরি ত্রুটি। গত পাঁচ বছরে অন্তত তিনবার নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ফুঁসে উঠেছেন শিক্ষার্থীরা। গত মে মাসে একটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন মুভমেন্ট হিসেবে শুরু হওয়া  ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ এখন একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। এই সংগঠনটিই বর্তমান ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাদের প্রধান দাবি হলো শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের তাৎক্ষণিক পদত্যাগ এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার।  সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কার মতে, এই সমস্যা কেবল আদালতের মাধ্যমে সমাধান সম্ভব নয়, বরং এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা। আন্দোলনের চাপে পড়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে মুখ খুলেছেন। তিনি একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ‘ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। মোদি বলেন, আমাদের তরুণদের ভবিষ্যৎ ও কল্যাণের চেয়ে বড় কিছু নেই।’ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নফাঁস রোধে সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে ইনস্টাগ্রামে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। সেই ভিডিওতে ব্যাপক সাড়া পেয়ে আরেক বার্তায় তিনি তরুণদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। প্রকাশিত তার ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে ইতিবাচক সাড়া ও বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়ার জন্য তরুণদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। শুক্রবার মধ্যরাতে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় মোদি বলেন, আপনাদের ইতিবাচক সাড়া এবং মূল্যবান পরামর্শের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থন আমাদের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে। দিল্লির জন্তর মন্তরে প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই প্রকাশিত ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রশ্নফাঁস কোনো সাধারণ বিষয় নয়; এটি লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। তিনি জানান, গত আড়াই মাসে এ ধরনের ঘটনা মোকাবিলায় সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। মোদি দাবি করেন, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না হয়, সে জন্য দ্রুত পরীক্ষা আয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের প্রস্তাব তার কাছে এসেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর আগামী সপ্তাহে পার্লামেন্টে বিলটি দ্রুত পাসের চেষ্টা করা হবে। এদিকে, প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে আন্দোলনের পর কেন্দ্র সরকার উচ্চশিক্ষা সচিব বিনীত যোশিকে অন্য মন্ত্রণালয়ে বদলি এবং ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) ৪৭ কর্মীকে বরখাস্তসহ বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে আন্দোলনকারীরা তাদের মূল দাবি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ থেকে সরে আসেননি। শুক্রবার আন্দোলনকারী প্রতিনিধিরা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের দাবিপত্র জমা দেন। এতে নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এদিকে, সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, ধর্মেন্দ্র প্রধান বিজেপির পূর্ণ সমর্থন পাচ্ছেন এবং তাকে মন্ত্রিসভা থেকে সরানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। অচলাবস্থা ও ভবিষ্যৎ বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে মামলা না করার এবং নিট কেলেঙ্কারির কারণে আত্মহত্যা করা ২০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও আন্দোলনকারীরা তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট আসলে মূল সমস্যা থেকে নজর সরানোর একটি কৌশল মাত্র। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অভিজিৎ দিপকে সমালোচনা করে বলেছেন, মোদি সরকার দিল্লির মেট্রো স্টেশন বন্ধ করতে রাজি কিন্তু ব্যর্থ শিক্ষামন্ত্রীকে সরাতে নয়। দীর্ঘ ২৬ দিন অনশন করার পর অ্যাক্টিভিস্ট সোনাম ওয়াংচুক তার অনশন ভেঙেছেন সরকারের সাথে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে। তবে মূল সংকট এখনো কাটেনি। সরকার আন্দোলনকারীদের কাছে শনিবার দুপুর পর্যন্ত সময় চেয়েছে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। এই আন্দোলন কেবল একটি পরীক্ষা বাতিলের প্রতিবাদ নয়, বরং এটি ভারতের বিশাল সংখ্যক তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থার প্রতি দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। সরকারের ‘ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট’ গঠনের প্রস্তাব একটি আইনি সমাধান দিলেও শিক্ষার্থীদের কাছে এটি যথেষ্ট নয় যতক্ষণ না প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত হচ্ছে। শনিবারের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ বা বিকল্প কোনো কঠোর ব্যবস্থা না এলে এই আন্দোলন আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আলজাজিরার এক্সপ্লেইনার ‘Indian student protests: What’s next after Modi’s promise on exam leaks?’ থেকে সংক্ষেপিত

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow