মৌলভীবাজারে বন্যায় সাড়ে ৩ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত
অতিবৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় মৌলভীবাজারে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় জানিয়েছে, বন্যায় জেলার প্রায় ৩ হাজার ৬৬৭টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৮৭ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার কাঁচা ও আধাপাকা সড়ক এবং দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতির মুখে পড়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রাথমিকভাবে সড়ক, সেতু ও কালভার্টের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৫টি উপজেলার ৩১টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে রাজনগর উপজেলায়। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা সরকারি হিসাবে ২৬ হাজারের বেশি হলেও স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত সংখ্যা অর্ধলাখ ছাড়িয়েছে। সোমবার পর্যন্ত জেলার ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ২৪ জন মানুষ অবস্থান করছেন। এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় ৩৩টি সড়কের প্রায় ৯৬ কিলোমিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এছাড়া চারটি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৪ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে এলজিইডির প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব দা
অতিবৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় মৌলভীবাজারে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় জানিয়েছে, বন্যায় জেলার প্রায় ৩ হাজার ৬৬৭টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৮৭ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার কাঁচা ও আধাপাকা সড়ক এবং দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতির মুখে পড়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রাথমিকভাবে সড়ক, সেতু ও কালভার্টের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৫টি উপজেলার ৩১টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে রাজনগর উপজেলায়। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা সরকারি হিসাবে ২৬ হাজারের বেশি হলেও স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত সংখ্যা অর্ধলাখ ছাড়িয়েছে। সোমবার পর্যন্ত জেলার ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ২৪ জন মানুষ অবস্থান করছেন।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় ৩৩টি সড়কের প্রায় ৯৬ কিলোমিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এছাড়া চারটি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৪ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে এলজিইডির প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব দাঁড়িয়েছে ২৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ আব্দুল্লাহ বলেন, প্রাথমিকভাবে বন্যাদুর্গত এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে এবং ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া বলেন, বন্যার পানি কমলেও অনেক এলাকায় ঘরবাড়ি এখনও বসবাসের উপযোগী হয়নি। অনেক পরিবার এখনো প্রতিরক্ষা বাঁধে আশ্রয় নিয়ে আছে। বাড়িঘর শুকিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে আরও প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বন্যায় ২৪৮ হেক্টর আউশ ধান, ৮৬ দশমিক ৫০ হেক্টর আমনের বীজতলা এবং ৬৪ দশমিক ৫০ হেক্টর সবজির জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, বন্যার পানি দীর্ঘ সময় স্থায়ী না হওয়ায় কৃষিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক কম হয়েছে। পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় অধিকাংশ ফসল রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জেলার মনু, ধলাই, কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি কমলেও অনেক পরিবার এখনো নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে বসবাস করছে। ঘরবাড়ি শুকিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে তাদের আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে।
অন্যদিকে হাকালুকি, হাইল ও কাউয়াদীঘি হাওরে পানি বাড়তে শুরু করেছে। এতে হাওর তীরবর্তী গ্রামগুলো নতুন করে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলিদ বলেন, মনু ও ধলাই নদীর ভাঙনকবলিত এলাকায় পানি কমেছে। চলতি সপ্তাহেই ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।
What's Your Reaction?