ময়মনসিংহে জুয়ার বিস্তার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক হত্যাকাণ্ড, চুরি- ছিনতাই, সংঘর্ষ ও জুয়ার আসরকে কেন্দ্র করে সহিংস ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়েছে। গত এক মাসে ঘটে যাওয়া একাধিক ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বাড়ছে। শুক্রবার (২ এপ্রিল) দুল্লা ইউনিয়নের ইছাখালী টগারঘাট এলাকায় জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় লুতফর রহমান সাজু (৫৫) নামের একজন নিহত এবং তিনজন আহত হন। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন থেকে ওই এলাকায় প্রকাশ্যে জুয়ার আসর বসে, যা নিয়ে আগে থেকেই উত্তেজনা ছিল। কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে তা ভয়াবহ রূপ নেয়। এর একদিন পূর্বে বুধবার জগন্নাথবাড়ি গ্রামে মাত্র ৫ হাজার টাকার বিরোধকে কেন্দ্র করে ভাঙারি ব্যবসায়ী লোকমান হোসেনকে (৬৫) পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। (২৬ মার্চ) একই সময়ে অটোরিকশা চালক মানিক মিয়া হত্যাকাণ্ড এবং আন্তঃজেলা ছিনতাই চক্রের সক্রিয়তা নিয়ে পুরো উপজেলাজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। পুলিশ এসব ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়াও গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ও ১ মার্চ আটানি বাজার এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘ
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক হত্যাকাণ্ড, চুরি- ছিনতাই, সংঘর্ষ ও জুয়ার আসরকে কেন্দ্র করে সহিংস ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়েছে। গত এক মাসে ঘটে যাওয়া একাধিক ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বাড়ছে।
শুক্রবার (২ এপ্রিল) দুল্লা ইউনিয়নের ইছাখালী টগারঘাট এলাকায় জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় লুতফর রহমান সাজু (৫৫) নামের একজন নিহত এবং তিনজন আহত হন।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন থেকে ওই এলাকায় প্রকাশ্যে জুয়ার আসর বসে, যা নিয়ে আগে থেকেই উত্তেজনা ছিল। কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে তা ভয়াবহ রূপ নেয়।
এর একদিন পূর্বে বুধবার জগন্নাথবাড়ি গ্রামে মাত্র ৫ হাজার টাকার বিরোধকে কেন্দ্র করে ভাঙারি ব্যবসায়ী লোকমান হোসেনকে (৬৫) পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। (২৬ মার্চ) একই সময়ে অটোরিকশা চালক মানিক মিয়া হত্যাকাণ্ড এবং আন্তঃজেলা ছিনতাই চক্রের সক্রিয়তা নিয়ে পুরো উপজেলাজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। পুলিশ এসব ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে।
এছাড়াও গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ও ১ মার্চ আটানি বাজার এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন।
এলাকাবাসীর মতে, এসব ঘটনার পেছনে মূলত মাদক, জুয়া ও স্থানীয় বিরোধ বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সুরুজ আলী বলেন, মুক্তাগাছার বিভিন্ন গ্রামে এখন প্রায় প্রতিদিন কোথাও না কোথাও জুয়ার আসর বসে। এতে যুবসমাজ নষ্ট হচ্ছে, পরিবারগুলো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
মালতিপুর গ্রামের বাসিন্দা আবুল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চুরি, ছিনতাই, মাদক সবকিছু যেন স্বাভাবিক হয়ে গেছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার খেরুয়াজানী, দুল্লা, কাশিমপুর ও বাশাটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রতিদিনই গোপনে ও প্রকাশ্যে জুয়ার আসর বসে। এসব আসরকে কেন্দ্র করে প্রায় দ্বন্দ্ব ও সহিংসতা সৃষ্টি হয়, যা ধীরে ধীরে বড় অপরাধে রূপ নিচ্ছে।
একাধিক সচেতন নাগরিক জানান, জুয়ার বিস্তার শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, সামাজিক অবক্ষয়ও বাড়াচ্ছে। অনেক পরিবারে অশান্তি, ঋণের বোঝা এবং সহিংসতা বেড়ে গেছে। তারা মনে করেন, সময়মতো কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
এলাকাবাসী বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য জাকির হোসেন বাবলুর অবস্থানের কারণে কিছু এলাকায় অভিযান চালানো হলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করেন তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালানোর কথা বললেও বাস্তবে এর প্রভাব খুব কম দেখা যাচ্ছে।
মুক্তাগাছা থানার একাধিক কর্মকর্তা জানান, পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। টহল জোরদার, অভিযানের মাধ্যমে অপরাধীদের ধরার কাজ অব্যাহত রয়েছে। তবে অপরাধের ধরন পরিবর্তন হওয়ায় এবং বিভিন্ন চক্র সক্রিয় থাকায় পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান বলেন, জুয়ার বিষয়ে প্রতিনিয়ত গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, গতকালকে আসামি আটক করা হয়েছে। পুলিশ সবসময় তৎপর রয়েছে। ছিনতাইকারী চক্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছি। সার্বিক বিষয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু অভিযান নয়, জুয়ার আসর ও মাদকের আখড়াগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
মুক্তাগাছায় জুয়া, মাদক ও অপরাধের বিস্তার এখন বড় সামাজিক সংকটে রূপ নিয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট আরও গভীর হবে এমন আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
What's Your Reaction?