যার দলে থাকারই কথা ছিল না, তার ব্যাটেই লড়ছে পাকিস্তান

দলে থাকারই কথা ছিল না। জাতীয় দলের স্কোয়াডেও নাম ছিল না। ক্যারিবীয় অঞ্চলে ছিলেন অন্য একটি টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট খেলতে। কিন্তু ভাগ্যের মোড়ে হঠাৎ সুযোগ আসে, আর সেই সুযোগকে স্মরণীয় করে তুললেন পাকিস্তানের ওপেনার আবদুল্লাহ শফিক। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে সুযোগ পেয়েই দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে জবাব দিয়েছেন ২৬ বছর বয়সী এই ব্যাটার। ত্রিনিদাদ টেস্টে তার ব্যাটে চড়েই লড়ছে পাকিস্তান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩৪৪ রানের জবাবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৬ উইকেটে ৩১১ রান তুলেছে সফরকারী। আবদুল্লাহ শফিক অপরাজিত ১২৬ রানে। তৃতীয় দিনে প্রথম সেশনের খেলা চলছে। প্রথম টেস্টে অধিনায়ক শান মাসুদের আঙুলে চোট এবং আবদুল্লাহ ফজলের পিঠের ইনজুরির কারণে জরুরি ভিত্তিতে দলে ডাকা হয় শফিককে। তখন তিনি ক্যারিবীয় অঞ্চলে গ্লোবাল সুপার লিগে লাহোর কালান্দার্সের হয়ে খেলছিলেন। ফলে অল্প সময়েই টেস্ট দলের সঙ্গে যোগ দেওয়া সম্ভব হয়। শফিক অবশ্য সেই টুর্নামেন্টে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ২০ রান করে আউট হন এবং তার দল ১১১ রানে অলআউট হয়ে ৫৩ রানের ব্যবধানে হারে। কিন্তু টেস্টে সুযোগ পেয়েই সম্পূর্ণ

যার দলে থাকারই কথা ছিল না, তার ব্যাটেই লড়ছে পাকিস্তান

দলে থাকারই কথা ছিল না। জাতীয় দলের স্কোয়াডেও নাম ছিল না। ক্যারিবীয় অঞ্চলে ছিলেন অন্য একটি টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট খেলতে। কিন্তু ভাগ্যের মোড়ে হঠাৎ সুযোগ আসে, আর সেই সুযোগকে স্মরণীয় করে তুললেন পাকিস্তানের ওপেনার আবদুল্লাহ শফিক।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে সুযোগ পেয়েই দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে জবাব দিয়েছেন ২৬ বছর বয়সী এই ব্যাটার। ত্রিনিদাদ টেস্টে তার ব্যাটে চড়েই লড়ছে পাকিস্তান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩৪৪ রানের জবাবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৬ উইকেটে ৩১১ রান তুলেছে সফরকারী। আবদুল্লাহ শফিক অপরাজিত ১২৬ রানে। তৃতীয় দিনে প্রথম সেশনের খেলা চলছে।

প্রথম টেস্টে অধিনায়ক শান মাসুদের আঙুলে চোট এবং আবদুল্লাহ ফজলের পিঠের ইনজুরির কারণে জরুরি ভিত্তিতে দলে ডাকা হয় শফিককে। তখন তিনি ক্যারিবীয় অঞ্চলে গ্লোবাল সুপার লিগে লাহোর কালান্দার্সের হয়ে খেলছিলেন। ফলে অল্প সময়েই টেস্ট দলের সঙ্গে যোগ দেওয়া সম্ভব হয়।

শফিক অবশ্য সেই টুর্নামেন্টে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ২০ রান করে আউট হন এবং তার দল ১১১ রানে অলআউট হয়ে ৫৩ রানের ব্যবধানে হারে। কিন্তু টেস্টে সুযোগ পেয়েই সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে ধরা দেন তিনি।

গত বছরের অক্টোবরের পর এটাই ছিল শফিকের প্রথম টেস্ট। বাংলাদেশ সফরেও তিনি ছিলেন না, চলমান ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ কিংবা আসন্ন ইংল্যান্ড সফরের স্কোয়াডেও তার নাম ছিল না। মূলত সে কারণেই তাকে গ্লোবাল সুপার লিগে খেলার অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দিয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।

আট মাস লাল বলের কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ না খেলেই টেস্টে নেমে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন শফিক। ওয়েস্ট ইন্ডিজের গতিময় পেসার শামার জোসেফের বাউন্স ও গতি দক্ষতার সঙ্গে সামলেছেন তিনি।

দীর্ঘ সময় ধরেই পাকিস্তানের সবচেয়ে প্রতিভাবান ব্যাটারদের একজন হিসেবে বিবেচিত হলেও ধারাবাহিকতার অভাবে সমালোচনার মুখে ছিলেন শফিক। ক্যারিয়ারের শুরুতে দ্রুততম পাকিস্তানি হিসেবে এক হাজার টেস্ট রান করার পথে থাকলেও পরবর্তী ৩২ ইনিংসে তার গড় নেমে আসে মাত্র ২৮.৭০-এ।

তবে পোর্ট অব স্পেনে তিনি যেন পুরোনো আত্মবিশ্বাস ফিরে পান। একদিকে আজান আওয়াইস (৫৫) আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করলেও, অন্যদিকে শফিক ধৈর্যের সঙ্গে ইনিংস গড়ে তোলেন।

বিশেষ করে বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকানের বিপক্ষে দারুণ আধিপত্য দেখান। সুইপ, ফুটওয়ার্ক আর ইনসাইড-আউট শটে তাকে বারবার বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়ে চাপ উল্টো ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপর ফিরিয়ে দেন।

পরে বাবর আজমের (৮৮) সঙ্গে গড়ে তোলেন গুরুত্বপূর্ণ জুটি। বাবরকে ঘিরে যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং পরিকল্পনা ব্যস্ত, তখন নীরবে নিজের ইনিংস বড় করতে থাকেন শফিক। অভিজ্ঞ কেমার রোচের বিপক্ষে দুটি দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারিতে তুলে নেন অর্ধশতক, যা ছিল তার শেষ ১৮ ইনিংসে মাত্র তৃতীয় ফিফটি।

এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস ও নিখুঁত শট নির্বাচনের সমন্বয়ে তুলে নেন নিজের শতক। ৯৯ রানে পৌঁছে কিছুটা চাপ তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত জোমেল ওয়ারিকানকে মিডউইকেট দিয়ে পুল করে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন। শতক পূর্ণ করেই গর্জে ওঠেন শফিক-যেন উদ্‌যাপনের চেয়ে স্বস্তির প্রকাশই ছিল বেশি।

এক সময় পাকিস্তান ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখা এই ব্যাটার দীর্ঘদিন ছিলেন উপেক্ষিত। কিন্তু হঠাৎ পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি আবারও মনে করিয়ে দিলেন, প্রতিভা কখনো হারিয়ে যায় না।

এমএমআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow