যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা চুক্তি কার্যকর, খুলছে হরমুজ

দীর্ঘ উত্তেজনা ও সংঘাতের পর অবশেষে সমঝোতার পথে হাঁটল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি আবারও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, তবে এই সমঝোতাকে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হলেও পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়নি। সমঝোতা অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা চালাবে। প্রয়োজন হলে এই সময়সীমা বাড়ানো যাবে। চুক্তিতে ইরান তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে কম সমৃদ্ধ পর্যায়ে নামিয়ে আনতে সম্মত হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়া কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, তা পরবর্তী আলোচনায় নির্ধারণ করা হবে। সমঝোতার অন্যতম আলোচিত অংশ হলো ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এই অর

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা চুক্তি কার্যকর, খুলছে হরমুজ

দীর্ঘ উত্তেজনা ও সংঘাতের পর অবশেষে সমঝোতার পথে হাঁটল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি আবারও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, তবে এই সমঝোতাকে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হলেও পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়নি।

সমঝোতা অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা চালাবে। প্রয়োজন হলে এই সময়সীমা বাড়ানো যাবে।

চুক্তিতে ইরান তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে কম সমৃদ্ধ পর্যায়ে নামিয়ে আনতে সম্মত হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়া কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, তা পরবর্তী আলোচনায় নির্ধারণ করা হবে।

সমঝোতার অন্যতম আলোচিত অংশ হলো ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এই অর্থ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র দেবে না। বরং আঞ্চলিক অংশীদারদের মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করা হবে।

চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে কাজ করবে। একই সঙ্গে ইরানের আটকে থাকা কিছু অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থাও করা হবে।

সমঝোতা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। যুদ্ধের কারণে এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল।

এদিকে চুক্তিতে লেবাননের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, উভয় পক্ষ লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করবে এবং নতুন করে সামরিক অভিযান চালাবে না।

তবে ইরানের আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা কাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনো অনিষ্পন্ন রয়েছে। ফলে আগামী দুই মাসের আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও বিতর্ক শুরু হয়েছে। কয়েকজন রিপাবলিকান নেতা অভিযোগ করেছেন, ইরানের কাছ থেকে পর্যাপ্ত ছাড় না নিয়েই ওয়াশিংটন অনেক সুবিধা দিয়েছে।

তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি না হলেও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। যদিও তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে আবারও সামরিক পদক্ষেপের পথ খোলা থাকবে।

সূত্র: বিবিসি

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow