যুক্তরাষ্ট্রে ঈদুল আজহা উদযাপন, কঠোর নিয়ম মেনে পশু কোরবানি

মুসলিম বিশ্বের দুটি বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসবের একটি পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের নামাজ শেষে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করেন সামর্থ্যবান মুসলমানরা। সারাবিশ্বের মতো যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয় সময় বুধবার (২৭ মে) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে। নিউ ইয়র্কসহ সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রে সাড়ে ৩ হাজারের অধিক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিউ ইয়র্কে বড় ধরনের ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার, আল আমিন মসজিদ, বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টার, বায়তুল জান্নাহ মসজিদ, আল আমান মসজিদ, পার্কটেস্টার জামে মসজিদ, স্প্রিংফিল্ড গার্ডেন মসজিদ, শাহজালাল জামে মসজিদ, জ্যাকসন হাইটসে বাংলাদেশ স্ট্রিটে। এ উপলক্ষে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এদিন নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানিও ব্রঙ্কসে বাংলাদেশিদের পরিচালনাধীন একটি মসজিদের ঈদ জামাতে অংশ নেন। অন্যান্য দেশের মতো যুক্তরাষ্ট্রে পশু কোরবানি হলেও মানতে হয় কঠোর নিয়ম। যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে নির্দিষ্ট নিয়মে এখানে পশু কোরবানি করেন ধর্মপ্রাণ সামর্থ্যবান মুসলমানরা। কেউ সরাসরি খামারে গিয়ে পশু পছন্দ করে সেখানকার নিয়ম মেনে পশু কোরবানি

যুক্তরাষ্ট্রে ঈদুল আজহা উদযাপন, কঠোর নিয়ম মেনে পশু কোরবানি

মুসলিম বিশ্বের দুটি বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসবের একটি পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের নামাজ শেষে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করেন সামর্থ্যবান মুসলমানরা। সারাবিশ্বের মতো যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয় সময় বুধবার (২৭ মে) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে।

নিউ ইয়র্কসহ সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রে সাড়ে ৩ হাজারের অধিক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিউ ইয়র্কে বড় ধরনের ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার, আল আমিন মসজিদ, বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টার, বায়তুল জান্নাহ মসজিদ, আল আমান মসজিদ, পার্কটেস্টার জামে মসজিদ, স্প্রিংফিল্ড গার্ডেন মসজিদ, শাহজালাল জামে মসজিদ, জ্যাকসন হাইটসে বাংলাদেশ স্ট্রিটে।

এ উপলক্ষে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এদিন নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানিও ব্রঙ্কসে বাংলাদেশিদের পরিচালনাধীন একটি মসজিদের ঈদ জামাতে অংশ নেন।

অন্যান্য দেশের মতো যুক্তরাষ্ট্রে পশু কোরবানি হলেও মানতে হয় কঠোর নিয়ম। যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে নির্দিষ্ট নিয়মে এখানে পশু কোরবানি করেন ধর্মপ্রাণ সামর্থ্যবান মুসলমানরা। কেউ সরাসরি খামারে গিয়ে পশু পছন্দ করে সেখানকার নিয়ম মেনে পশু কোরবানি করেন, কেউ আবার দূরত্ব ও নিয়মের জটিলতা বিবেচনায় সুপারশপের মাধ্যমে কোরবানির কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।

নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা রিদা নাজমুল জাগো নিউজকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে পশু কোরবানি করতে হয় নিয়ম মেনে। যত্রতত্র এখানে পশু কোরবানি করা যায় না। নির্ধারিত জায়গায় যথাযথ নিয়মে পশু কোরবানি করতে হয়। আমরা গত ২০ দিন আগে পেনসিলভিনিয়ায় ক্লোভার ফার্মে একটি গরু কোরাবনির জন্য নির্ধারণ করি। নিয়ম অনুযায়ী সেখানে আগাম কিছু টাকা পরিশোধ করে সেটি নিশ্চিত করি। সেখানে সবকিছু নিশ্চিতের পর সিরিয়াল নির্ধারণ করা হয়। সে অনুযায়ী ঈদের দিন সকালে ফার্মে গিয়ে আমরা পশু কোরবানি করি।

তিনি জানান, ফার্মে সুন্দরভাবে ছাউনি দেওয়া রয়েছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ এসেছে। পশু কোবানির আগে প্রথমে সেটিকে কিছুটা দুর্বল করে খামারে কর্মরতরা। এরপর যথাযথ মেশিনে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করে মাথা বের করে রাখা হয়, যেটি একজন মুসলিম নিয়ম অনুযায়ী পশু কোরবানি করে থাকেন। এরপর সেটি হুইল লোডার দিয়ে আমাদের নির্ধারণ করা স্থানে রেখে যায় তারা। পরে সেটি নিজেদের মতো করে কেটে নিয়ে আসতে হয়। আজ এই খামারে সন্ধ্যা পর্যন্ত শতাধিক পরিবার এসেছে গরু কোরবানি করতে। আমরা চুলা নিয়ে সেখানে বসেই রান্না করে খেয়েছি। সেখানে ছিল ঈদ উৎসবের আমেজ।

আকিব আকন্দ রাফি জাগো নিউজকে বলেন, আমি পরিবার নিয়ে লং আইল্যান্ডে গিয়েছিলাম পশু কোরবানি করতে। মূলত খামারে পশু জবাই করে আমরা কাছাকাছি এক আত্মীয়ের বাসায় বাকি কার্যক্রম সম্পন্ন করেছি। সেখানে মনে হয়েছে বাংলাদেশেই আছি। বিদেশের মাটিতে নিয়ম মেনে পশু কোরবানি করতে হয় তাই এত দূরে এসে পশু কোরবানি করেছি। পরিবারের সবার উপস্থিতিতে মনে হচ্ছিল যেন বাংলাদেশেই আছি।

জ্যামাইকার মান্নান সুপার মার্কেটের স্টাফ মো. অলিউল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, মূলত যারা দূরে গিয়ে পশু কোরবানি করতে সমস্যায় পড়েন তারা আমাদের মাধ্যমে পশু কোরবানি করেন। ঈদের প্রথম দিনে মোট ২০টি গরু ও বেশ কিছু খাসি কোরবানি হয়েছে। কাল ঈদের দ্বিতীয় দিনেও ১৫টা গরু কোরবানি হবে। এখান থেকে আমরা পশু কোরবানির জন্য হুজুর নিয়ে যাই। সেখানে গিয়ে গরু জবাই করে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এখানে সুপারশপে মাংস আসে।

কোন প্রক্রিয়ায় পশু ক্রয় বিক্রি হয় সেটি জানি তিনি বলেন, মূলত যারা কোরবানি করতে চান তারা এসে নাম দেন, মোট সাতজনের নাম নিয়ে পশু কেনা হয়। সেখানে কিছু আগাম ডলার পরিশোধ করে ক্রেতারা সেটি নিশ্চিত করেন। পরবর্তীতে কোরবানির দিন পশুর মাংস বুঝে নিয়ে বাকি অর্থ তারা পরিশোধ করেন। এক্ষেত্রে তাদের কোনো ঝামেলায় পড়তে হয় না। সাধারণত প্রতি ভাগে ৭০০ থেকে ৮০০ ডলার পড়ে। এবারে প্রতি ভাগে প্রায় ১২০ কেজি মাংস পেয়েছেন ক্রেতারা।

আইএইচআর/এমআরএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow