যুবকের পেটে মিললো ২০ বছর আগে গিলে ফেলা থার্মোমিটার

পেটে তীব্র ব্যথা কোনোভাবেই কমে না। গেলেন হাসপাতালে, আর সেখানে পরীক্ষার পর ডাক্তার যা বললেন তাতেই চোখ কপালে চীনা যুবক আর তার পরিবারের। জানা গেছে, ২০ বছর আগে শৈশবে গিলে ফেলা পারদভর্তি একটি থার্মোমিটার বয়ে বেড়াচ্ছেন ওই যুবক। দক্ষিণ-পূর্ব চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের ওয়েনঝৌ শহরের বাসিন্দা ওয়াং (ছদ্মনাম) চিকিৎসার জন্য ওয়েনঝৌ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হাসপাতালের লংগ্যাং শাখায় যান। হাসপাতালে করা স্ক্যানে তার ডুওডেনাম বা ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রথম অংশে একটি অস্বাভাবিক বস্তু ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা ছিল, সেটি একটি পারদভর্তি থার্মোমিটার। চিকিৎসকেরা জানান, থার্মোমিটারের মাথাটি সরাসরি অন্ত্রের দেয়ালে চাপ দিচ্ছিল। এতে অন্ত্রে ছিদ্র হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি ও মারাত্মক অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের আশঙ্কা ছিল। ওয়াং চিকিৎসকদের জানান, তিনি ১২ বছর বয়সে দুর্ঘটনাবশত থার্মোমিটারটি গিলে ফেলেছিলেন। তবে ভয় পেয়ে তিনি বিষয়টি বাবা-মাকে জানাননি। সে সময় তার বাবা-মাও কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। আর কোনো উপসর্গ না থাকায় ঘটনাটি ধীরে ধীরে ভুলে যান ওই যুবক। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মাত্র ২০ মিনিটেই চিকিৎসকেরা থার্মোমিটারটি বে

যুবকের পেটে মিললো ২০ বছর আগে গিলে ফেলা থার্মোমিটার

পেটে তীব্র ব্যথা কোনোভাবেই কমে না। গেলেন হাসপাতালে, আর সেখানে পরীক্ষার পর ডাক্তার যা বললেন তাতেই চোখ কপালে চীনা যুবক আর তার পরিবারের। জানা গেছে, ২০ বছর আগে শৈশবে গিলে ফেলা পারদভর্তি একটি থার্মোমিটার বয়ে বেড়াচ্ছেন ওই যুবক।

দক্ষিণ-পূর্ব চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের ওয়েনঝৌ শহরের বাসিন্দা ওয়াং (ছদ্মনাম) চিকিৎসার জন্য ওয়েনঝৌ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হাসপাতালের লংগ্যাং শাখায় যান। হাসপাতালে করা স্ক্যানে তার ডুওডেনাম বা ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রথম অংশে একটি অস্বাভাবিক বস্তু ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা ছিল, সেটি একটি পারদভর্তি থার্মোমিটার।

চিকিৎসকেরা জানান, থার্মোমিটারের মাথাটি সরাসরি অন্ত্রের দেয়ালে চাপ দিচ্ছিল। এতে অন্ত্রে ছিদ্র হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি ও মারাত্মক অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের আশঙ্কা ছিল।

ওয়াং চিকিৎসকদের জানান, তিনি ১২ বছর বয়সে দুর্ঘটনাবশত থার্মোমিটারটি গিলে ফেলেছিলেন। তবে ভয় পেয়ে তিনি বিষয়টি বাবা-মাকে জানাননি। সে সময় তার বাবা-মাও কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। আর কোনো উপসর্গ না থাকায় ঘটনাটি ধীরে ধীরে ভুলে যান ওই যুবক।

অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মাত্র ২০ মিনিটেই চিকিৎসকেরা থার্মোমিটারটি বের করতে সক্ষম হন। তবে চিকিৎসকেরা জানান, অস্ত্রোপচারটি ছিল অত্যন্ত জটিল ও সূক্ষ্ম। কারণ, থার্মোমিটারটি দীর্ঘদিন ধরে শরীরে থাকার পাশাপাশি পিত্তনালীর কাছাকাছি অবস্থান করছিল, যা অন্ত্রের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বড় ঝুঁকি তৈরি করেছিল।

অস্ত্রোপচারের পর উদ্ধার করা থার্মোমিটারটি অক্ষত থাকলেও এর মাপের চিহ্নগুলো অনেকটাই মুছে গিয়েছিল।

হাসপাতালের এন্ডোস্কোপি বিভাগের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, কেউ যদি কোনো বিদেশি বস্তু গিলে ফেলেন, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ রাখতে হবে, কথা বলা কমাতে হবে ও দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

ওয়েনঝৌ ডেইলি নিউজপেপার গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, চীনে প্রতি বছর ১০ লাখের বেশি মানুষ দুর্ঘটনাবশত বিদেশি বস্তু গিলে ফেলার পর চিকিৎসা নেন। এর মধ্যে ৬০ শতাংশের বেশি শিশু ও উল্লেখযোগ্য অংশ বয়স্ক মানুষ। সবচেয়ে বেশি গিলে ফেলা বস্তুগুলোর মধ্যে রয়েছে মাছের কাঁটা, মুরগির হাড়, ব্যাটারি, চুম্বক ও কৃত্রিম দাঁত।

গত বছরের জুনে একই ধরনের আরেকটি ঘটনায়, মধ্য চীনের আনহুই প্রদেশের ৬৪ বছর বয়সী ইয়াং (ছদ্মনাম) বুকে অস্বস্তি নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারেন, তার শরীরে ৫২ বছর ধরে একটি টুথব্রাশ রয়ে গেছে।

ইয়াং জানান, তিনিও ১২ বছর বয়সে দুর্ঘটনাবশত টুথব্রাশটি গিলে ফেলেছিলেন। কিন্তু বকাঝকার ভয়ে বিষয়টি লুকিয়ে রাখেন এবং ভুলভাবে মনে করেছিলেন, এটি নিজে থেকেই গলে যাবে। বছরের পর বছর তিনি হালকা পেটব্যথা অনুভব করলেও বিষয়টি গুরুত্ব দেননি।

এদিকে, ওয়াংয়ের এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক চমক সৃষ্টি করে। একজন মন্তব্য করেন, তিনি ভীষণ ভাগ্যবান। থার্মোমিটারটি ভাঙেনি ও পারদ শরীরে ছড়িয়ে পড়েনি, এটাই বড় স্বস্তি।

সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

এসএএইচ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow