‘যে নদী ছিল জীবিকার ভরসা, সেই তুরাগই কেড়ে নিল মাঝির বুকের ধন’
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, আকাশজুড়ে কালো মেঘ, নদীতে প্রচণ্ড স্রোত— ঠিক এমন এক বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে একটু আনন্দ করতে তুরাগ নদীতে নেমেছিল তিন কিশোর। কিন্তু কে জানতো, সেই নদীই মুহূর্তের মধ্যে কেড়ে নেবে দুটি তাজা প্রাণ! গাজীপুরের তুরাগ নদীর পাশে সাহেব আলী মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় ঘটে এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। ইদ্রিস আলীর ছেলে ইমরান (১৭)। তিনি উত্তরা মডেল একাডেমির অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। বন্ধু রোমান ও কায়েসকে নিয়ে নৌকায় করে নদীতে গোসল করতে নামে। রোমানও একই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। তার পিতার নাম মো. রানা মিয়া। কায়েসও তাদের সহপাঠি। স্থানীয়দের ভাষ্য, বিকেলের দিকে নদীতে ছিল ভয়ংকর স্রোত। আকাশ থেকে ঝরছিল গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, সঙ্গে দমকা বাতাস। তিন বন্ধু নৌকা নিয়ে নদীর মাঝামাঝি গিয়ে সাঁতার কাটতে নামে। একপর্যায়ে কায়েস নৌকায় উঠে পড়লেও, ইমরান ও রোমান পানির স্রোতে ভেসে যেতে থাকে। মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করতে করতে এক বন্ধু আরেক বন্ধুকে জড়িয়ে ধরে বাঁচার চেষ্টা করে। কিন্তু নির্মম তুরাগ তাদের আর ফিরে আসতে দেয়নি। নৌকায় থাকা কায়েস অসহায়ের মতো চিৎকার করতে থাকে বন্ধুদের বাঁচানোর জন্য। কিন্তু চোখের সামনেই দুই বন্ধুকে নদী
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, আকাশজুড়ে কালো মেঘ, নদীতে প্রচণ্ড স্রোত— ঠিক এমন এক বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে একটু আনন্দ করতে তুরাগ নদীতে নেমেছিল তিন কিশোর। কিন্তু কে জানতো, সেই নদীই মুহূর্তের মধ্যে কেড়ে নেবে দুটি তাজা প্রাণ!
গাজীপুরের তুরাগ নদীর পাশে সাহেব আলী মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় ঘটে এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনা।
ইদ্রিস আলীর ছেলে ইমরান (১৭)। তিনি উত্তরা মডেল একাডেমির অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। বন্ধু রোমান ও কায়েসকে নিয়ে নৌকায় করে নদীতে গোসল করতে নামে। রোমানও একই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। তার পিতার নাম মো. রানা মিয়া। কায়েসও তাদের সহপাঠি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিকেলের দিকে নদীতে ছিল ভয়ংকর স্রোত। আকাশ থেকে ঝরছিল গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, সঙ্গে দমকা বাতাস। তিন বন্ধু নৌকা নিয়ে নদীর মাঝামাঝি গিয়ে সাঁতার কাটতে নামে। একপর্যায়ে কায়েস নৌকায় উঠে পড়লেও, ইমরান ও রোমান পানির স্রোতে ভেসে যেতে থাকে।
মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করতে করতে এক বন্ধু আরেক বন্ধুকে জড়িয়ে ধরে বাঁচার চেষ্টা করে। কিন্তু নির্মম তুরাগ তাদের আর ফিরে আসতে দেয়নি। নৌকায় থাকা কায়েস অসহায়ের মতো চিৎকার করতে থাকে বন্ধুদের বাঁচানোর জন্য। কিন্তু চোখের সামনেই দুই বন্ধুকে নদীর গভীরে হারিয়ে যেতে দেখে সে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে ডুবুরি দল। দীর্ঘ প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর রাত ৮টার দিকে উদ্ধার করা হয় দুই কিশোরের নিথর মরদেহ। পরিবারের কোনো আপত্তি না থাকায় পোস্টমর্টেম ছাড়াই তুরাগ থানা পুলিশ মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে।
ইমরানের বাবা ইদ্রিস আলী একজন নৌকার মাঝি। নদীর পাড়ে ছোট্ট একটি ঘর বেঁধে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কোনোরকমে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। যে নদী তার সংসারের ভাত জুগিয়েছে বছরের পর বছর, সেই নদীই আজ তার বুক খালি করে দিল। সন্তানের মরদেহ দেখে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি।
অন্যদিকে রোমানের মা-বাবার আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। সন্তান হারানোর শোকে দুই পরিবার যেন জীবন্ত লাশে পরিণত হয়েছে। দুটি কিশোর প্রাণ ঝরে যাওয়ার এই ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
তুরাগ থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। পরিবারের আপত্তি না থাকায় পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
What's Your Reaction?