যে স্বপ্ন সবার কাছে রেখে গেলেন ইলিয়াস কাঞ্চন

দীর্ঘ ১৫ মাস লন্ডনে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। ক্যানসার তার শরীরকে দুর্বল করে দিয়েছে। স্মৃতিরাও হয়ে গেছে এলোমেলো। অনেক কথাই মনে করতে পারেন না। যার সঙ্গেই দেখা হয় হাসিমুখে কাছে টেনে নিচ্ছেন। নিজের জন্য দোয়া চাইছেন। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা তিনি। তার অবর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ কী হবে? সেসব নিয়ে আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন জনপ্রিয় এই অভিনেতা। আরও পড়ুন নেটফ্লিক্সে বিনামূল্যে সিনেমা-সিরিজ দেখার সহজ উপায় শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে নিসচার ১১তম মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, নিরাপদ সড়কের আন্দোলন এখন আর কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি দেশের মানুষের আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘৩১ বছর আগে ব্যক্তিগত জীবনের গভীর এক বেদনাকে মানুষের জীবন রক্ষার আন্দোলনে রূপ দিয়েছিলাম। আজ এটি আর ইলিয়াস কাঞ্চনের আন্দোলন নয়, এটি দেশের মানুষের আন্দোলন।’ নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চান। ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, অসুস্থতার কারণে আগের মতো সক্রিয় থাকতে পারছেন না।

যে স্বপ্ন সবার কাছে রেখে গেলেন ইলিয়াস কাঞ্চন

দীর্ঘ ১৫ মাস লন্ডনে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। ক্যানসার তার শরীরকে দুর্বল করে দিয়েছে। স্মৃতিরাও হয়ে গেছে এলোমেলো। অনেক কথাই মনে করতে পারেন না। যার সঙ্গেই দেখা হয় হাসিমুখে কাছে টেনে নিচ্ছেন। নিজের জন্য দোয়া চাইছেন।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা তিনি। তার অবর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ কী হবে? সেসব নিয়ে আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন জনপ্রিয় এই অভিনেতা।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে নিসচার ১১তম মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, নিরাপদ সড়কের আন্দোলন এখন আর কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি দেশের মানুষের আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘৩১ বছর আগে ব্যক্তিগত জীবনের গভীর এক বেদনাকে মানুষের জীবন রক্ষার আন্দোলনে রূপ দিয়েছিলাম। আজ এটি আর ইলিয়াস কাঞ্চনের আন্দোলন নয়, এটি দেশের মানুষের আন্দোলন।’

নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চান। ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, অসুস্থতার কারণে আগের মতো সক্রিয় থাকতে পারছেন না। সুস্থ হয়ে আবারও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার শক্তি পাওয়ার জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের মানুষের নিরাপত্তা, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘আমার স্বপ্ন আপনাদের কাছে দিয়ে গেলাম। আমি না থাকলেও আপনারা নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবেন।’

নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যম এবং দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিককে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে যারা কাজ করছেন, তারা কেউ কারও প্রতিপক্ষ নন; বরং সবাই মানুষের জীবন রক্ষার সহযোদ্ধা।

মহাসমাবেশে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সড়ক ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথি, নিসচার নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।

১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চনকে হারানোর পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন ইলিয়াস কাঞ্চন। দীর্ঘদিনের সেই আন্দোলন পরবর্তী সময়ে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং ২২ অক্টোবর জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

দীর্ঘ চিকিৎসার পর সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। দেশে ফেরার পরই নিরাপদ সড়ক চাইয়ের মহাসমাবেশে অংশ নিয়ে আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার এই আবেগঘন বক্তব্য উপস্থিত অনেকের মধ্যেই আবেগের সৃষ্টি করে।

 

এলআইএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow