রংপুর মেডিকেলের দালাল-সিন্ডিকেট ভাঙার ঘোষণা ত্রাণমন্ত্রীর
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দালাল-সিন্ডিকেট ও অব্যবস্থাপনা দূর করে হাসপাতালকে জনবান্ধব ও আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার ঘোষণা দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী। এর আগে সভা শেষে হাসপাতালের দুটি ওয়ার্ড পরিদর্শন করে রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, বর্তমানে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ১২৪ জন কর্মী নিয়োজিত থাকলেও তা হাসপাতালের চাহিদা পূরণের জন্য পর্যাপ্ত নয়। এজন্য রংপুর চেম্বার অব কমার্স প্রতি মাসে ১০ জন কর্মীর সম্মানী বহনের আশ্বাস দিয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহবুবার রহমান বেলাল আরও পাঁচজন কর্মীর ব্যয় বহন করবেন বলে জানিয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় আরও প্রায় ৫০ জন কর্মী যুক্ত করার চেষ্টা করা হবে। তিনি বলেন, ‘বহিরাগত যারা এখানে কাজ করে,ট্রলি নেওয়ার ক্ষেত্রে, রোগী নেওয়ার ক্ষেত্রে নানান ধরনের পয়সা, নানান ধরনের
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দালাল-সিন্ডিকেট ও অব্যবস্থাপনা দূর করে হাসপাতালকে জনবান্ধব ও আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার ঘোষণা দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী। এর আগে সভা শেষে হাসপাতালের দুটি ওয়ার্ড পরিদর্শন করে রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, বর্তমানে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ১২৪ জন কর্মী নিয়োজিত থাকলেও তা হাসপাতালের চাহিদা পূরণের জন্য পর্যাপ্ত নয়। এজন্য রংপুর চেম্বার অব কমার্স প্রতি মাসে ১০ জন কর্মীর সম্মানী বহনের আশ্বাস দিয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহবুবার রহমান বেলাল আরও পাঁচজন কর্মীর ব্যয় বহন করবেন বলে জানিয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় আরও প্রায় ৫০ জন কর্মী যুক্ত করার চেষ্টা করা হবে।
তিনি বলেন, ‘বহিরাগত যারা এখানে কাজ করে,ট্রলি নেওয়ার ক্ষেত্রে, রোগী নেওয়ার ক্ষেত্রে নানান ধরনের পয়সা, নানান ধরনের অবৈধ দালাল চক্র এটাকে আমরা রাখব না। হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা সব কর্মচারীর পরিচয়সূচক ভেস্ট পরিধান বাধ্যতামূলক করা হবে। এছাড়া প্রতিটি রোগীর সঙ্গে এটেনডেন্ট হিসেবে একজনের বেশি স্বজনকে আমরা এলাও করব, তাদের ঝুলানো কার্ড দেব।’
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, উত্তরাঞ্চলের অতদরিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত পরিবাররাই বেশি এখান থেকে স্বাস্থ্যসেবা বা চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছে। দীর্ঘ সতেরোটি বছর একটি ফ্যাসিবাদী সরকারের আওতায় দেশের প্রত্যেকটি স্তরে, প্রত্যেকটি জায়গায় অব্যবস্থাপনা, অন্যায়, জুলুম, দুর্নীতি, অবহেলা ছিল, তার থেকে রংপুর হাসপাতালটাও বাইরে ছিল না।
তিনি বলেন, রংপুর বিভাগের অতি দরিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত পরিবাররাই বেশি এখান থেকে স্বাস্থ্যসেবা বা চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছে। দীর্ঘ সতেরোটি বছর একটি ফ্যাসিবাদী সরকারের আওতায় দেশের যেমন প্রত্যেকটি স্তরে, প্রত্যেকটি জায়গায় অব্যবস্থাপনা, অন্যায়, জুলুম, দুর্নীতি, অবহেলা ছিল, তার থেকে রংপুর হাসপাতালটাও বাইরে ছিল না।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেন, হাসপাতালের সেবার মান বাড়ানো এবং মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে তিন ধাপে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে আগামী দুই মাসের মধ্যে হাসপাতালের বিদ্যমান ১০টি আইসিইউ বেডের সঙ্গে আরও ১০টি বেড যুক্ত করে মোট ২০টি আইসিইউ বেড চালু করা হবে। রোগীর স্বজনদের দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনায় কেবিনে একজন করে অ্যাটেনডেন্টের থাকার ব্যবস্থা করা হবে।
দুলু বলেন, অ্যানেস্থেসিয়া–সংকটের কারণে অনেক সময় জরুরি অস্ত্রোপচার ব্যাহত হয়। যার কারণে রোগীরা অনেক সময় মৃত্যুঝুকিতে পড়ে যায়, মৃত্যুবরণও করে। সেটিকে আমরা সার্বক্ষণিক চালু রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।
হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়মের কথা তুলে ধরে ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, লাশ পরিবহনে একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। এ কারণে তালিকাভুক্ত অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে কিলোমিটারভিত্তিক নির্ধারিত ভাড়ায় সেবা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অ্যাম্বুলেন্স মালিক/চালক, সিটি করপোরেশন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।
তিনি বলেন, এত বড় একটি হাসপাতালে এখনো সিসিটিভি ক্যামেরা নেই। তাই আগামী এক মাসের মধ্যে পুরো হাসপাতালকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে আগামী সাত দিনের মধ্যে হাসপাতাল চত্বরে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আলোর ব্যবস্থা করা হবে, যাতে ছিনতাইসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা যায়। এবং নিরাপত্তার জন্য একটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম চালু থাকবে।
ত্রাণমন্ত্রী আরও বলেন, হাসপাতাল এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশনকে কয়েক দিনের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে তৈরি করা অবৈধ প্রবেশপথগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবার রহমান বেলাল, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান, রংপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম, মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ, জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু নগরীর আমাশু কুকরুল এলাকায় জিয়া খাল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি লালমনিরহাটের উদ্দেশে রওনা দেন।
What's Your Reaction?