রক্তশূন্যতা দূর করতে আয়রন খেলেই হবে না, জানুন সঠিক নিয়ম
চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে যাচ্ছে, সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগছে, খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে গেছে কিংবা সামান্য কাজেই হাঁপিয়ে উঠার মতো লক্ষণ অনেক সময় রক্তস্বল্পতা সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে গেলে শরীরের বিভিন্ন অংশে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে সমস্যা হয়। ফলে দুর্বলতা, অবসাদ, মাথা ঘোরা কিংবা হৃদ্স্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। নারীদের মধ্যে আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তপাত হলে শরীর থেকে আয়রন কমে যেতে পারে। এ কারণে দৈনন্দিন খাবারে আয়রনসমৃদ্ধ উপাদান রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু আয়রনযুক্ত খাবার খেলেই হবে না, কীভাবে এবং কোন খাবারের সঙ্গে তা খাচ্ছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ফ্যাকাশে ভাব ও দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি কখনো কখনো রক্তশূন্যতার লক্ষণ হতে পারে খাবারে রাখুন আয়রন আয়রনের ঘাটতি পূরণে খাদ্যতালিকায় মসুর ডাল, মটরশুঁটি, পালংশাকসহ বিভিন্ন শাকসবজি, তিল, কিছু মাছ, খেজুর, কলা ও ব্রকলির মতো খাবার রাখা যেতে পারে। প্রাণিজ উৎসের আয়রন শরীরে তুলনামূলকভাবে সহজে শোষিত হয়। উদ্ভিজ্জ উৎসের আয়রনও উপকারী, তবে এর শোষণ বাড়াতে খাবা
চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে যাচ্ছে, সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগছে, খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে গেছে কিংবা সামান্য কাজেই হাঁপিয়ে উঠার মতো লক্ষণ অনেক সময় রক্তস্বল্পতা সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে গেলে শরীরের বিভিন্ন অংশে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে সমস্যা হয়। ফলে দুর্বলতা, অবসাদ, মাথা ঘোরা কিংবা হৃদ্স্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
নারীদের মধ্যে আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তপাত হলে শরীর থেকে আয়রন কমে যেতে পারে। এ কারণে দৈনন্দিন খাবারে আয়রনসমৃদ্ধ উপাদান রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু আয়রনযুক্ত খাবার খেলেই হবে না, কীভাবে এবং কোন খাবারের সঙ্গে তা খাচ্ছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
ফ্যাকাশে ভাব ও দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি কখনো কখনো রক্তশূন্যতার লক্ষণ হতে পারে
খাবারে রাখুন আয়রন
আয়রনের ঘাটতি পূরণে খাদ্যতালিকায় মসুর ডাল, মটরশুঁটি, পালংশাকসহ বিভিন্ন শাকসবজি, তিল, কিছু মাছ, খেজুর, কলা ও ব্রকলির মতো খাবার রাখা যেতে পারে। প্রাণিজ উৎসের আয়রন শরীরে তুলনামূলকভাবে সহজে শোষিত হয়। উদ্ভিজ্জ উৎসের আয়রনও উপকারী, তবে এর শোষণ বাড়াতে খাবারের সঙ্গে অন্য কিছু উপাদান যুক্ত করা যায়।
লোহার কড়াইয়ে রান্না করলে খাবারে কিছুটা আয়রন যোগ হতে পারে বলেও গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এটিকে আয়রনের ঘাটতি পূরণের একমাত্র উপায় নয়।
আয়রনের সঙ্গে ভিটামিন সি
আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে ভিটামিন সি যুক্ত করলে উদ্ভিজ্জ খাবার থেকে আয়রন শোষণে সহায়তা করতে পারে। তাই মসুর ডাল বা অন্য কোনো ডালের সঙ্গে লেবুর রস যোগ করা যেতে পারে। পালংশাক বা অন্যান্য শাক রান্নার সময় টমেটো ব্যবহার করাও ভালো উপায়।
এছাড়া খাবারের সঙ্গে লেবু, পেয়ারা, কমলা, আমলকি বা ভিটামিন সি সমৃদ্ধ অন্যান্য ফল রাখা যেতে পারে। এতে খাবারে থাকা নন-হিম আয়রন শরীরে শোষিত হতে সুবিধা হয়।
আয়রন খাওয়ার পর চা-কফি নয়
অনেকের খাবার শেষ করার সঙ্গে সঙ্গেই চা বা কফি পান করার অভ্যাস রয়েছে। তবে আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার আশপাশের সময়ে চা-কফি পান করলে এগুলোতে থাকা কিছু যৌগ আয়রন শোষণে বাধা দিতে পারে।
তাই আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে বা খাবারের পরপরই চা-কফি পান না করা ভালো। বিশেষ করে যাদের আয়রনের ঘাটতি রয়েছে, তারা চা-কফির সময় খাবার থেকে আলাদা রাখার চেষ্টা করতে পারেন।
দুগ্ধজাত খাবারেও সতর্কতা
দুধ, পনির, চিজসহ ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবারও আয়রন শোষণে কিছুটা বাধা দিতে পারে। তাই আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে একই সময়ে বেশি পরিমাণ দুগ্ধজাত খাবার না রাখাই ভালো। দিনের অন্য সময়ে এসব খাবার খাওয়া যেতে পারে।
নিজের মতো আয়রন সাপ্লিমেন্ট নয়
হিমোগ্লোবিন কমে গেলেই নিজের সিদ্ধান্তে আয়রন ট্যাবলেট বা সাপ্লিমেন্ট শুরু করা ঠিক নয়। রক্তস্বল্পতার কারণ সবসময় আয়রনের ঘাটতি নয়। ভিটামিন বি১২ বা ফোলেটের ঘাটতি, দীর্ঘদিনের কোনো অসুস্থতা কিংবা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণসহ বিভিন্ন কারণেও হিমোগ্লোবিন কমতে পারে।
তাই নিয়মিত দুর্বলতা, ফ্যাকাশে ভাব, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা বা অতিরিক্ত মাসিক রক্তপাত থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা উচিত।
কারণ নির্ণয়ের পরই উপযুক্ত চিকিৎসা নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পাশাপাশি সঠিক খাবারের সঙ্গে সঠিক উপাদান মিলিয়ে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে আয়রন শোষণে সহায়তা করা সম্ভব।তবে রক্তস্বল্পতার চিকিৎসায় খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শও জরুরি।
সূত্র: ওয়েবএমডি, এনডিটিভি
এসএকেওয়াই
What's Your Reaction?

