রাকসু নির্বাচনে মনোনয়ন বিতরণ শেষ রোববার

2 hours ago 3

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের মনোনয়ন বিতরণ শেষ হচ্ছে আগামী রোববার (৩১ আগস্ট)। এরই মধ্যে পুরো ক্যাম্পাসে শুরু হয়েছে নির্বাচনী উত্তাপ। 

চারবার তপশিল পুনর্বিন্যাস এবং দুবার ভোট গ্রহণের সময় পরিবর্তন করেছে নির্বাচন কমিশন, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। একই সঙ্গে চলছে প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট।

চলতি বছরের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর অনেকে রাজনীতিতে অনাগ্রহী থাকলেও এখন আবার ক্যাম্পাসে ফিরেছে রাজনৈতিক সক্রিয়তা। নির্বাচন কেন্দ্র করে আবার সরব হয়ে উঠেছেন শিক্ষার্থীরা।

পাঁচ দিনে মনোনয়ন তুলেছেন ৬৪৩ জন : রাকসুর কেন্দ্রীয় ২৩টি পদে ১৯৯ জন, সিনেটের পাঁচটি পদে ২৬ জন এবং হল সংসদের বিভিন্ন পদে ৪২০ জনসহ মোট ৬৪৩ প্রার্থী মনোনয়ন তুলেছেন। এর আগের চার দিনে এই সংখ্যা ছিল ৫৫৮ জন।

তপশিল অনুযায়ী, মনোনয়ন বিতরণের শেষ তারিখ ছিল ২৭ আগস্ট। কিন্তু মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন এক সংবাদ সম্মেলনে সময় বাড়িয়ে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত করে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ভোটকেন্দ্র একাডেমিক ভবনে স্থানান্তর, প্রধান নির্বাচন কমিশনার পরিবর্তন এবং ডোপ টেস্টের জন্য অতিরিক্ত সময় লাগছে। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন বিতরণের সময় বাড়ানো হয়েছে।’

তপশিল পুনর্বিন্যাসে ‘ফোর আউট অব ফোর’ : চারবার তপশিল পুনর্বিন্যাস এবং কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ভোটের তারিখ পরিবর্তনের ঘটনায় বিভ্রান্ত শিক্ষার্থীরা। প্রথমে ১৭ আগস্ট মনোনয়ন বিতরণ শুরুর কথা থাকলেও আগের রাতে তা স্থগিত করা হয়। পরে নতুন তপশিল অনুযায়ী ২৪-২৬ আগস্ট সময়ে মনোনয়ন নেওয়া শুরু হয়। এরপর আবার সময় বাড়িয়ে ৩১ আগস্ট করা হয়।

গত বুধবার একই দিনে দুবার তপশিল পরিবর্তন করা হয়। দুপুরে নির্বাচন ২৮ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করা হলেও রাতে জরুরি বৈঠকে তা আবার এগিয়ে এনে ২৫ সেপ্টেম্বর করা হয়। এ নিয়ে নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন শিক্ষার্থীরা।

রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, ‘সব শিক্ষার্থীর সেন্টিমেন্টকে উপেক্ষা করে নির্বাচন কমিশন তারিখ পরিবর্তন করেছে। এ কমিশনের পক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।’

রাকসুর ইতিহাসে প্রথমবার প্রার্থী বাছাইয়ে ডোপ টেস্ট : প্রথমবারের মতো রাকসু, হল সংসদ ও সিনেট নির্বাচনে প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মেডিকেল সেন্টারে নমুনা সংগ্রহ শুরু হয়। দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৮৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার।

ডোপ টেস্টের খরচ বহন করছে কমিশন। ফল পজিটিভ হলে প্রার্থিতা বাতিল হবে। রাকসু ও সিনেট নির্বাচনের জন্য দুই দিনে এবং হল সংসদের জন্য চার দিনে এই কার্যক্রম চলবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘এক-দুদিনের মধ্যে প্রার্থীরা রিপোর্ট পাবেন এবং তা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে।’

হলগুলোতে মনোনয়ন তুলেছে ছাত্রশিবির : রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মেহেদী হাসান বলেন, ‘শিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে রাকসু ও হল সংসদ মিলিয়ে ২১৭ জন প্রার্থী মনোনয়ন তুলেছেন। আমরা ইনক্লুসিভ প্যানেল দিচ্ছি, ইনশাআল্লাহ। খুব শিগগির প্যানেল প্রকাশ করব।’

জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনী প্রস্তুতিতে বাম সংগঠনগুলো : ছয়টি বাম সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট’ থেকে ২৮ জন প্রার্থী মনোনয়ন নিয়েছেন।

ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, ‘আমরা এখনো কয়েকটি সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করছি। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্যানেল ঘোষণা করব।’

মনোনয়ন সংগ্রহে শীর্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা : রাকসুর কেন্দ্রীয় ২৩টি পদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মনোনয়ন তুলেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। ছাত্রদল ছাড়া এখনো কোনো বড় ছাত্র সংগঠন কেন্দ্রীয় পদে মনোনয়ন তোলার তৎপরতা দেখায়নি।

এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী সজিবুর রহমান বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের দলিল হয়ে থাকবে আমার এই মনোনয়ন। আমি দল-গোষ্ঠীর বাইরে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বে প্রার্থী হয়েছি।’

নারীবিষয়ক সম্পাদক পদে মনোনয়ন নেওয়া প্রথম নারী স্বতন্ত্র প্রার্থী নিশা আক্তার বলেন, ‘নারী শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করতেই আমি মনোনয়ন নিয়েছি। নিরাপদ ক্যাম্পাস, নারী নিরাপত্তা ও আবাসন নিশ্চিত করাই আমার লক্ষ্য।’

Read Entire Article