রাঙামাটিতে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ, পানিবন্দি ৪৫ হাজার মানুষ
টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জেলার বরকল ও বিলাইছড়ি উপজেলায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ। বন্যা ও পাহাড় ধসের ঘটনায় জেলায় এ পর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোত ও দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন।
উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, ভারী বর্ষণের ফলে বরকল উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এরমধ্যে ভূষণছড়া ও বড় হরিণা ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। বরকলের চারটি আশ্রয়কেন্দ্রে এ পর্যন্ত ২২৪ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তবে পুরো উপজেলাজুড়ে প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।
ভূষণছড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক রেজাউল করিম জানান, শনিবারের অতিবর্ষণে ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউনিয়নের প্রায় ৪৪টি গ্রাম ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। এসব গ্রামের তিনটি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৭৭ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন, যাদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
ভূষণছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা জ্ঞান বিকাশ চাকমা জানান, বন্যা প
টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জেলার বরকল ও বিলাইছড়ি উপজেলায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ। বন্যা ও পাহাড় ধসের ঘটনায় জেলায় এ পর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোত ও দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন।
উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, ভারী বর্ষণের ফলে বরকল উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এরমধ্যে ভূষণছড়া ও বড় হরিণা ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। বরকলের চারটি আশ্রয়কেন্দ্রে এ পর্যন্ত ২২৪ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তবে পুরো উপজেলাজুড়ে প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।
ভূষণছড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক রেজাউল করিম জানান, শনিবারের অতিবর্ষণে ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউনিয়নের প্রায় ৪৪টি গ্রাম ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। এসব গ্রামের তিনটি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৭৭ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন, যাদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
ভূষণছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা জ্ঞান বিকাশ চাকমা জানান, বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। শতাধিক বাড়িঘর তলিয়ে গেছে এবং বিভিন্ন ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, বন্যাদুর্গত এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে কিংবা ত্রাণ সহায়তা প্রদান করতে কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা জনপ্রতিনিধি সেখানে যাচ্ছেন না।
প্রতিবিন্দু চাকমা নামের এক বাসিন্দা জানান, বড় হরিণা ইউনিয়নের কুকিছড়া বাজারসহ বহু দোকানপাট তলিয়ে গেছে। সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো সহায়তা বা ত্রাণ কার্যক্রম চোখে পড়েনি; তবে বড় হরিণা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজ উদ্যোগে বন্যাদুর্গতদের সহায়তা প্রদানে এগিয়ে এসেছেন।
বরকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব দাশ পুরকায়স্থ জানান, আমরা প্রতিনিয়ত আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষের সংখ্যা পর্যবেক্ষণ করছি। ভূষণছড়া ও বড় হরিণার পাশাপাশি নতুন করে শুভলং ইউনিয়নও প্লাবিত হতে শুরু করেছে। পুরো উপজেলায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি। আমাদের ত্রাণ কার্যক্রম চলমান থাকলেও প্রবল স্রোত ও দুর্গমতার কারণে ত্রাণ পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে। তবুও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
বরকলের পাশাপাশি বিলাইছড়ি উপজেলায় পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার। সব মিলিয়ে জেলায় রবিবার পর্যন্ত ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৬৩৭ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ১ হাজার ৪৪টি।
শনিবার রাতে রাঙামাটি শহরের কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড় ধস ও বন্যাদুর্গতদের সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়া হবে। সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনে আগামী তিন মাস পর্যন্ত ত্রাণ সহায়তা দেবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছেন। বন্যায় দুর্গতদের পুনর্বাসনের জন্য সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।’