রাজশাহীতে প্রকাশ্যে চলে মাদকের হাট, আতঙ্কে স্থানীয়রা
রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানার লক্ষ্মীপুর ও দাসপুকুর এলাকার আইডি বাগানপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা ও ট্যাপেন্টাডলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রি চলছে। এতে এলাকার শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজ ভয়াবহ মাদকঝুঁকিতে পড়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অবনতি ঘটছে। সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, আইডি বাগান রেলক্রসিং এলাকায় এক ব্যক্তি প্রকাশ্যেই কয়েকজনের কাছে ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট বিক্রি করছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, রেললাইন সংলগ্ন এলাকাটি এখন মাদক কারবারিদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন অনেকেই সেখানে মাদক কিনতে আসেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ১০ থেকে ১৫ সদস্যের একটি সিন্ডিকেট এ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক মাদক মামলা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর অভিযান না হওয়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় আমিনুল নামে এক মাদকসেবীর। তিনি জানান, তিনি তিনটি ট্যাপেন্টাডল ও তিনটি ইয়াবা ট্যাবলেট কিনেছেন। তার ভাষ্য, ওই এলাকায় ২০ থেকে
রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানার লক্ষ্মীপুর ও দাসপুকুর এলাকার আইডি বাগানপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা ও ট্যাপেন্টাডলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রি চলছে। এতে এলাকার শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজ ভয়াবহ মাদকঝুঁকিতে পড়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অবনতি ঘটছে।
সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, আইডি বাগান রেলক্রসিং এলাকায় এক ব্যক্তি প্রকাশ্যেই কয়েকজনের কাছে ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট বিক্রি করছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, রেললাইন সংলগ্ন এলাকাটি এখন মাদক কারবারিদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন অনেকেই সেখানে মাদক কিনতে আসেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ১০ থেকে ১৫ সদস্যের একটি সিন্ডিকেট এ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক মাদক মামলা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর অভিযান না হওয়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।
প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় আমিনুল নামে এক মাদকসেবীর। তিনি জানান, তিনি তিনটি ট্যাপেন্টাডল ও তিনটি ইয়াবা ট্যাবলেট কিনেছেন। তার ভাষ্য, ওই এলাকায় ২০ থেকে ৩০ জন মাদক বিক্রেতা সক্রিয় রয়েছেন। দিনের যে কোনো সময়ই সব ধরনের মাদক পাওয়া যায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অলিগলিতে মাদকসেবীদের অবাধ যাতায়াত দেখা যায়। মোটরসাইকেল, রিকশা কিংবা হেঁটে এসে বিভিন্ন বয়সী মানুষ প্রকাশ্যেই মাদক সংগ্রহ করে। তাদের দাবি, স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী ও উঠতি বয়সী তরুণদের একটি অংশও সহজেই মাদক সংগ্রহ করছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণে তেমন পরিবর্তন আসেনি। বরং পরিচয় বদলে একই চক্র ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে ছোটখাটো বিক্রেতাদের আটক করা হলেও মূল হোতারা অধিকাংশ সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
মাদকের বিস্তারের কারণে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বেড়েছে বলেও অভিযোগ বাসিন্দাদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, সন্ধ্যার পর এই এলাকায় চলাচল করতেও ভয় লাগে। মাদকসেবীদের উৎপাত ও কারবারিদের দাপটে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে থাকে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিন্ডিকেটের অন্যতম কথিত হোতা জুয়েল। তিনি বলেন, মাদকের সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এখানে যারা মাদক ব্যবসা করে, তারা এক গ্রুপ আরেক গ্রুপের বিরুদ্ধে উসকানি দেয়।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। গত দুই মাসে ৪০ জনের বেশি মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আইডি বাগানপাড়া এলাকার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, রেললাইন সংলগ্ন বস্তি এলাকায় কিছু মাদক কারবারি হাতে কিছু মাদক নিয়ে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করে। ফলে তাদের হাতেনাতে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা তুলনামূলক কঠিন। তবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
What's Your Reaction?