রোনালদোদের পেছনে খরচ, ২৬ হাজার কোটি টাকার ঋণে জর্জরিত আল-নাসর!

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ক্লাব আল-নাসর চলতি গ্রীষ্মকালীন দলবদল মৌসুমে এখন পর্যন্ত একজন খেলোয়াড়ও দলে ভেড়াতে পারেনি। এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে সামনে এসেছে ক্লাবটির ভয়াবহ আর্থিক সংকট। ঋণের বোঝা এতটাই বেড়েছে যে, সৌদি ক্লাবটির স্বাভাবিক ট্রান্সফার কার্যক্রমও কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সৌদি দৈনিক আররিয়াদিয়াহ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-নাসরের মোট ঋণের পরিমাণ বর্তমানে ৮০০ মিলিয়ন সৌদি রিয়ালেরও বেশি যা বাংলাদেশি টাকা ২৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি। গত মৌসুমে নেওয়া কিছু আর্থিক সিদ্ধান্তের ফলেই এই সংকট তৈরি হয়েছে। এই আর্থিক অবস্থার কারণেই পর্তুগিজ মিডফিল্ডার সামু কোস্তাকে স্প্যানিশ ক্লাব মায়োর্কা থেকে আনার বিষয়ে সমঝোতা হলেও চুক্তি সম্পন্ন করা যায়নি। এমনকি উইঙ্গার আবদুলরহমান ঘারিব-এর নতুন চুক্তির বিষয়টিও এখনো ঝুলে আছে। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, আল-নাসরের মালিক সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ) পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বর্তমান নির্বাহী ব্যবস্থাপনার কিছু আর্থিক ক্ষমতা সীমিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলেই ক্লাবট

রোনালদোদের পেছনে খরচ, ২৬ হাজার কোটি টাকার ঋণে জর্জরিত আল-নাসর!

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ক্লাব আল-নাসর চলতি গ্রীষ্মকালীন দলবদল মৌসুমে এখন পর্যন্ত একজন খেলোয়াড়ও দলে ভেড়াতে পারেনি। এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে সামনে এসেছে ক্লাবটির ভয়াবহ আর্থিক সংকট। ঋণের বোঝা এতটাই বেড়েছে যে, সৌদি ক্লাবটির স্বাভাবিক ট্রান্সফার কার্যক্রমও কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

সৌদি দৈনিক আররিয়াদিয়াহ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-নাসরের মোট ঋণের পরিমাণ বর্তমানে ৮০০ মিলিয়ন সৌদি রিয়ালেরও বেশি যা বাংলাদেশি টাকা ২৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি। গত মৌসুমে নেওয়া কিছু আর্থিক সিদ্ধান্তের ফলেই এই সংকট তৈরি হয়েছে।

এই আর্থিক অবস্থার কারণেই পর্তুগিজ মিডফিল্ডার সামু কোস্তাকে স্প্যানিশ ক্লাব মায়োর্কা থেকে আনার বিষয়ে সমঝোতা হলেও চুক্তি সম্পন্ন করা যায়নি। এমনকি উইঙ্গার আবদুলরহমান ঘারিব-এর নতুন চুক্তির বিষয়টিও এখনো ঝুলে আছে।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, আল-নাসরের মালিক সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ) পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বর্তমান নির্বাহী ব্যবস্থাপনার কিছু আর্থিক ক্ষমতা সীমিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলেই ক্লাবটি নতুন কোনো খেলোয়াড় সাইন করতে পারছে না। ক্লাবের নিজস্ব আয় থেকে পর্যাপ্ত অর্থ সংগ্রহ না করা পর্যন্ত নতুন ট্রান্সফার অনুমোদন দেওয়া হবে না।

দ্বিতীয় পদক্ষেপে আর্থিক, বাণিজ্যিক ও আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হবে। তাদের কাজ হবে বাণিজ্যিক আয় বৃদ্ধি, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং নির্দিষ্ট সময়সীমাসহ এমন একটি পরিকল্পনা তৈরি করা, যার মাধ্যমে ক্লাবকে বর্তমান আর্থিক সংকট থেকে বের করে আনা সম্ভব হবে।

তৃতীয় পদক্ষেপ হিসেবে আল-নাসর ক্লাব কেনার প্রস্তাবগুলোও বিবেচনা করা হচ্ছে। জানা গেছে, পিআইএফ-এর হাতে বর্তমানে দুটি গুরুত্ব সহকারে বিবেচিত প্রস্তাব রয়েছে। তবে তারা পুরো ক্লাব বিক্রির পরিবর্তে আংশিক মালিকানা হস্তান্তরকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

আল-নাসরের সমর্থকরা দ্রুত এই সমাধান বাস্তবায়নের আশা করছেন। কারণ তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আল-হিলাল ইতোমধ্যেই গত এপ্রিল মাসে প্রিন্স আল-ওয়ালিদ বিন তালালের মালিকানাধীন কিংডম হোল্ডিং কোম্পানির কাছে আংশিকভাবে বিক্রি হয়েছে, যা তাদের আর্থিক স্থিতিশীলতা আরও শক্তিশালী করেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আল-নাসরের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু নতুন খেলোয়াড় কেনা নয়, বরং ক্লাবের আর্থিক ভিত্তিকে পুনর্গঠন করে ভবিষ্যতের জন্য টেকসই একটি কাঠামো তৈরি করা।

আরআর/আইএইচএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow