রোহিঙ্গাদের ভুয়া জন্ম নিবন্ধন ইস্যুতে সাবেক ইউপি সচিবের কারাদণ্ড
কক্সবাজারের চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব মো. নূরুল আলমকে ভুয়া ও অস্তিত্বহীন চার রোহিঙ্গার নামে জন্ম নিবন্ধন সনদ ইস্যু করার দায়ে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মোকাররম হোসাইন বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন। দণ্ডিত নূরুল আলম (৪৭) কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার উত্তর মানিকপুর এলাকার মৃত আবু সালামের ছেলে। তিনি বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব ছিলেন। মামলার নথি অনুযায়ী, তিনি ছৈয়দ আহমেদ, মোহাম্মদ ইউনুস, শামসুন্নাহার ও রহিম উল্লাহ নামে চার অস্তিত্বহীন ব্যক্তির নামে ভুয়া জন্ম নিবন্ধন সনদ ইস্যু করেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন তথ্যভাণ্ডারে ওই চারজনের নামে ভুয়া জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করা হয়। পরে এসব সনদ ব্যবহার করে পাসপোর্ট তৈরির চেষ্টা করে। বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হলে ২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন আদালতে অভিযো
কক্সবাজারের চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব মো. নূরুল আলমকে ভুয়া ও অস্তিত্বহীন চার রোহিঙ্গার নামে জন্ম নিবন্ধন সনদ ইস্যু করার দায়ে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মোকাররম হোসাইন বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডিত নূরুল আলম (৪৭) কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার উত্তর মানিকপুর এলাকার মৃত আবু সালামের ছেলে। তিনি বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব ছিলেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, তিনি ছৈয়দ আহমেদ, মোহাম্মদ ইউনুস, শামসুন্নাহার ও রহিম উল্লাহ নামে চার অস্তিত্বহীন ব্যক্তির নামে ভুয়া জন্ম নিবন্ধন সনদ ইস্যু করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন তথ্যভাণ্ডারে ওই চারজনের নামে ভুয়া জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করা হয়। পরে এসব সনদ ব্যবহার করে পাসপোর্ট তৈরির চেষ্টা করে। বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হলে ২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে মামলার দুই আসামির অব্যাহতির আবেদন করা হয়।
২০২২ সালের ৩০ মার্চ চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের তৎকালীন বিচারক মুন্সি আব্দুল মজিদ নূরুল আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। অভিযোগে বলা হয়, ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে অস্তিত্বহীন চার ব্যক্তির নামে জন্ম নিবন্ধন সনদ ইস্যু করে তিনি দণ্ডবিধির ৪২০ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মঙ্গলবার নূরুল আলমকে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন। তবে মামলার অপর দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়।
খালাসপ্রাপ্ত দুজন হলেন- মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম এবং পেকুয়া উপজেলার তৎকালীন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সৌভ্রাত দাশ।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোকাররম হোসাইন কালবেলাকে বলেন, ভুয়া জন্ম নিবন্ধন সনদ ইস্যুর অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। তাই আদালত নূরুল আলমকে তিন বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।
What's Your Reaction?