লাগামহীন কাঁচামরিচের দাম
টানা কয়েকদিনের বৃষ্টি ও নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার অজুহাতে সিরাজগঞ্জে কাঁচামরিচের দাম প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। সিরাজগঞ্জ শহরের বড় বাজারে রোববার (২৬ জুলাই) সকালে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। শহরের বড় বাজার ও বাহিরগোলা গুড়ের বাজার ঘুরে ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। এদিন সকালে সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের পাইকারি কাঁচা বাজারে কৃষকরা ২০০ থেকে ২১০ টাকা কেজিতে কাঁচা মরিচ বিক্রি করেছেন। সিরাজগঞ্জ শহরের পাইকারি আড়তদার বেল্লাল হোসেন সবুজ বলেন, পাইকারি থেকে খুচরা পর্যায়ে গেলে প্রতিটি পণ্যের দামই বাড়ে। তাছাড়া বাজারে কাঁচা মরিচের কিছুটা সরবরাহ ঘাটতিও রয়েছে। তাই দাম ঊর্ধ্বমুখী। মূলত টানা কয়েকদিনে বৃষ্টিতে শুধু কাঁচা মরিচ না, বেশ কিছু সবজির দামই বেড়েছে। তবে কাঁচামরিচের দাম সব চেয়ে বেশি বেড়েছে। অপরদিকে স্থিতিশীল রয়েছে আদা ও রসুনের দাম। কথা হয় পাইকারি সবজি বাজারে (আড়ত) কাঁচা মরিচ বিক্রি করতে আসা কৃষক মুজাম্মেল হোসেনের সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে জানান, ৪০ শতক জমিতে এবার তিনি মরিচ চাষ করেছেন। উৎপাদনও বেশ ভালো হচ্ছে। কয়েকদিন আগেও আড়তে তিনি প্রতি কেজি মরিচ ৫০ থেকে ৭০ টাকা কেজিতে
টানা কয়েকদিনের বৃষ্টি ও নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার অজুহাতে সিরাজগঞ্জে কাঁচামরিচের দাম প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। সিরাজগঞ্জ শহরের বড় বাজারে রোববার (২৬ জুলাই) সকালে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
শহরের বড় বাজার ও বাহিরগোলা গুড়ের বাজার ঘুরে ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। এদিন সকালে সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের পাইকারি কাঁচা বাজারে কৃষকরা ২০০ থেকে ২১০ টাকা কেজিতে কাঁচা মরিচ বিক্রি করেছেন।
সিরাজগঞ্জ শহরের পাইকারি আড়তদার বেল্লাল হোসেন সবুজ বলেন, পাইকারি থেকে খুচরা পর্যায়ে গেলে প্রতিটি পণ্যের দামই বাড়ে। তাছাড়া বাজারে কাঁচা মরিচের কিছুটা সরবরাহ ঘাটতিও রয়েছে। তাই দাম ঊর্ধ্বমুখী। মূলত টানা কয়েকদিনে বৃষ্টিতে শুধু কাঁচা মরিচ না, বেশ কিছু সবজির দামই বেড়েছে। তবে কাঁচামরিচের দাম সব চেয়ে বেশি বেড়েছে। অপরদিকে স্থিতিশীল রয়েছে আদা ও রসুনের দাম।
কথা হয় পাইকারি সবজি বাজারে (আড়ত) কাঁচা মরিচ বিক্রি করতে আসা কৃষক মুজাম্মেল হোসেনের সঙ্গে।
তিনি জাগো নিউজকে জানান, ৪০ শতক জমিতে এবার তিনি মরিচ চাষ করেছেন। উৎপাদনও বেশ ভালো হচ্ছে। কয়েকদিন আগেও আড়তে তিনি প্রতি কেজি মরিচ ৫০ থেকে ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছেন। আজ ২১০ টাকা কেজিতে দুই মণ বিক্রি করেছেন।
বৃষ্টির কারণে তার চাষকৃত জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার জমি উঁচু হওয়ায় তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাঁচামরিচের ধরন ও বাজারের অবস্থানভেদে দামে পার্থক্য রয়েছে। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ২০০ থেকে ২১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লঘুচাপ ও টানা বৃষ্টি শুরুর আগে পাইকারিতে কাঁচামরিচের কেজি ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা। অন্যদিকে শহরের বাজারে কেজিপ্রতি ৩০০ টাকার নিচে মিলছে না। বেশিরভাগ দোকানে ৩২০ টাকা কেজিতে মরিচ বিক্রি করেছেন বিক্রেতারা। আর পাড়া-মহল্লার দোকান বা যারা ভ্যানে করে মরিচ বিক্রি করছেন, সেখানে দাম আরও বেশি।
বিক্রেতারা জানান, এক সপ্তাহ আগেও খুচরায় সাধারণ ও ভালো মানের কাঁচামরিচের দাম ছিল কেজিপ্রতি ৮০ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা। সে হিসেবে খুচরায় দাম বেড়েছে প্রায় তিনগুণ। মূলত বৃষ্টির কারণেই বাজারে কাঁচা মরিচের সরবরাহ কমে গেছে। আর এ কারণেই দাম বেড়েছে। এ ছাড়া বৃষ্টি দেখে মরিচের আড়তদার ও পাইকারি বিক্রেতারাও বাড়তি দাম নিচ্ছেন। সব মিলিয়ে খানিকটা লাগামহীন কাঁচামরিচের দাম।
সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের বড় বাজারের সবজি বিক্রেতা আল-আমিন বলেন, আজ সকালে পাইকারি বাজার থেকে ২১০ টাকা কেজি দরে কাঁচামরিচ কিনেছি। সেগুলোই এখন ২৮০-৩০০ টাকা দরে বিক্রি করছি। তবে দাম বেশির কারণে যেসব ক্রেতারা আগে এক কেজি কিনতো, তারা ২৫০ গ্রাম কিনে বাড়ি ফিরছেন।
বাহিরগোলা গুড়ের বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, ২৫০ গ্রাম কাঁচামরিচের দাম হাঁকা হচ্ছে ৮০ টাকা। ক্রেতাদের এই দরেই কিনতে হচ্ছে। দর-কষাকষির সুযোগ নেই।
মনোয়ারা বেগম নামে এক ক্রেতা বলেন, রান্নার কাজে কাঁচামরিচ একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। কিন্তু কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে মরিচের দাম বেড়ে হাতের নাগালের বাইরে চলে গেছে। দাম একদম লাগামহীন। এতে তিনি অনেকটাই অস্বস্তিতে পড়েছেন বলে দাবি করেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু আওয়াল বলেন, চলতি খরিপ-১ মৌসুমে জেলায় মোট ২১৯ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। যা গত মৌসুমের চেয়ে বেশি। তবে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ায় প্রায় দেড় হেক্টর চাষকৃত জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তাড়াশ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, সাগরে লঘুচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামীকাল থেকে বৃষ্টির প্রবণতা শুরু হতে পারে। তবে রোববার বৃষ্টি হওয়ার তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই।
এম এ মালেক/এনএইচআর/জেআইএম
What's Your Reaction?