লেবেল বদলে ৪ টাকার ইনজেকশন ৪০০ টাকায় বিক্রি!
ওষুধের বাজারে একশ্রেণির প্রতারক চক্র অতিরিক্ত মুনাফার আশায় জালিয়াতির আশ্রয় নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মাত্র ৩ থেকে ৪ টাকা দামের ডায়াজিপাম ইনজেকশনের অ্যাম্পুলে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা মূল্যের ন্যালবুফিনের লেবেল লাগিয়ে তা বাজারজাত করা হচ্ছে। ন্যালবুফিন ইনজেকশন সাধারণত অপারেশনের পর তীব্র ব্যথা উপশম, প্রসবকালীন ব্যথা নিয়ন্ত্রণ এবং গুরুতর আঘাত বা ট্রমার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, ডায়াজিপাম ইনজেকশন দ্রুত কার্যকরী একটি ওষুধ, যা জরুরি অবস্থায় স্নায়ু শান্ত করা, খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণ এবং রোগীকে প্রশমিত করতে ব্যবহৃত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের অপকর্মের তথ্য তুলে ধরেছেন কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক মোশিউর রহমান মজুমদার। তিনি লিখেছেন, ‘মাত্রাতিরিক্ত লাভের আশায় ডায়াজিপামের অ্যাম্পুলে ন্যালবুফিনের লেবেল লাগিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। যেখানে ডায়াজিপামের দাম ৩–৪ টাকা, সেখানে ন্যালবুফিন বাজারে না থাকায় ২০০–৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’ জীবনরক্ষাকারী ওষুধের সংকট ওই চিকিৎসক আরও জানান, কিছু গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ দীর্ঘদিন ধরে বাজারে নেই। যেমন মেথারস্প্যান, যা প্রসবকালীন মায়েদের জীবন রক্ষায় অ
ওষুধের বাজারে একশ্রেণির প্রতারক চক্র অতিরিক্ত মুনাফার আশায় জালিয়াতির আশ্রয় নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মাত্র ৩ থেকে ৪ টাকা দামের ডায়াজিপাম ইনজেকশনের অ্যাম্পুলে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা মূল্যের ন্যালবুফিনের লেবেল লাগিয়ে তা বাজারজাত করা হচ্ছে।
ন্যালবুফিন ইনজেকশন সাধারণত অপারেশনের পর তীব্র ব্যথা উপশম, প্রসবকালীন ব্যথা নিয়ন্ত্রণ এবং গুরুতর আঘাত বা ট্রমার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, ডায়াজিপাম ইনজেকশন দ্রুত কার্যকরী একটি ওষুধ, যা জরুরি অবস্থায় স্নায়ু শান্ত করা, খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণ এবং রোগীকে প্রশমিত করতে ব্যবহৃত হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের অপকর্মের তথ্য তুলে ধরেছেন কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক মোশিউর রহমান মজুমদার। তিনি লিখেছেন, ‘মাত্রাতিরিক্ত লাভের আশায় ডায়াজিপামের অ্যাম্পুলে ন্যালবুফিনের লেবেল লাগিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। যেখানে ডায়াজিপামের দাম ৩–৪ টাকা, সেখানে ন্যালবুফিন বাজারে না থাকায় ২০০–৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’
জীবনরক্ষাকারী ওষুধের সংকট ওই চিকিৎসক আরও জানান, কিছু গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ দীর্ঘদিন ধরে বাজারে নেই। যেমন মেথারস্প্যান, যা প্রসবকালীন মায়েদের জীবন রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, ‘দুই বছরের বেশি সময় ধরে এই ওষুধ বাজারে নেই। অথচ এটি অত্যন্ত জরুরি। কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করার।’
ভেজাল ও লেবেল জালিয়াতির ঝুঁকি তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা ভেজাল ওষুধ তৈরি করছে কিংবা এক ওষুধের লেবেল তুলে অন্য ওষুধের লেবেল লাগিয়ে বাজারে ছাড়ছে। “বাজারে মনিটরিং দুর্বল থাকায় সাধারণ মানুষ ও চিকিৎসকরা ঝুঁকিতে পড়ছেন। কে জানে, কোন বোতলে কোন ওষুধ রয়েছে! মানুষ অসুস্থ হচ্ছে, মারা যাচ্ছে— কিন্তু কারণ বুঝতে পারছে না,”— বলেন তিনি।
অতীতের মর্মান্তিক উদাহরণ চিকিৎসক তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, অতীতে ভেজাল হ্যালোথেন ব্যবহারের কারণে অস্ত্রোপচারের সময় শিশুমৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। সামাজিক প্রতিক্রিয়া সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুবুল কবীর মিলন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
তিনি লিখেছেন, চমৎকার বাংলাদেশ! সোনার বাংলাদেশ! যারা এই জাতি নিয়ে স্বপ্ন দেখে, তাদের জন্য করুণা ও ঘৃণা।” উপসংহার মাত্র ২০০–৩০০ টাকার অতিরিক্ত লাভের আশায় এ ধরনের প্রতারণা মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
চিকিৎসক মোশিউর রহমান মজুমদারের লেখাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুব কবীর মিলন।
এমইউ/এমএএইচ/
What's Your Reaction?