শয্যাশায়ীর পাশে পৌঁছে যাচ্ছে ‘নগদ সেবা’

বয়স ৮৩ বছর। একসময় এলাকায় জনপ্রিয় শিক্ষক ছিলেন। দুর্ঘটনায় আহত হয়ে গত কিছুদিন ধরে শয্যাশায়ী। বিছানা ছেড়ে ওঠার অবস্থা নেই। ওষুধ কেনার প্রয়োজনীয় টাকা নগদ ওয়ালেটে থাকার পরেও তুলতে পারছিলেন না। কারণ গোপন পিন ভুলে গেছেন অবসরপ্রাপ্ত এই শিক্ষক। নাটোরের সিংড়া উপজেলার হাট সিংড়া গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আবু নাসির খানের সামনে সংকটটা ছিল এমনই। হাতের নাগালে থাকা টাকাও তখন তার কাছে অধরাই হয়ে উঠেছিল। সমাধানের জায়গা, সিংড়া নগদ সেবা পয়েন্ট, তার বাড়ি থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে। সুস্থ একজন মানুষের জন্য যা কয়েক মিনিটের পথ, শয্যাশায়ী এই বৃদ্ধের কাছে তা ছিল কার্যত অসম্ভব। দাদার এই টাকাটা তোলার কি করা যায় সেটা নিয়ে আলোচনা করতে নাতনি ইন্টার্ন চিকিৎসক ফাতেম ফারুক ঐশী গেলেন সিংড়া নগদ সেবা পয়েন্টে। ‘দাদা বিছানা থেকে উঠতেই পারেন না। ওষুধ কেনার জন্য হলেও টাকাটা দরকার ছিল। কিন্তু পিন ভুলে যাওয়ায় নিজের টাকাটাও তুলতে পারছিলেন না। কী করায় সেটা জানতেই গেলাম ওনাদের কাছে,’ বলেন ফাতেম ফারুক ঐশী। নগদ সেবা পয়েন্টে গিয়ে ঘটনাটা জানালেন দায়িত্বরত কর্মকর্তা মো. মোস্তফা আনোয়ারকে। ঐশী আগে থেকেই জানতেন, শ

শয্যাশায়ীর পাশে পৌঁছে যাচ্ছে ‘নগদ সেবা’

বয়স ৮৩ বছর। একসময় এলাকায় জনপ্রিয় শিক্ষক ছিলেন। দুর্ঘটনায় আহত হয়ে গত কিছুদিন ধরে শয্যাশায়ী। বিছানা ছেড়ে ওঠার অবস্থা নেই। ওষুধ কেনার প্রয়োজনীয় টাকা নগদ ওয়ালেটে থাকার পরেও তুলতে পারছিলেন না। কারণ গোপন পিন ভুলে গেছেন অবসরপ্রাপ্ত এই শিক্ষক।

নাটোরের সিংড়া উপজেলার হাট সিংড়া গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আবু নাসির খানের সামনে সংকটটা ছিল এমনই। হাতের নাগালে থাকা টাকাও তখন তার কাছে অধরাই হয়ে উঠেছিল।

সমাধানের জায়গা, সিংড়া নগদ সেবা পয়েন্ট, তার বাড়ি থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে। সুস্থ একজন মানুষের জন্য যা কয়েক মিনিটের পথ, শয্যাশায়ী এই বৃদ্ধের কাছে তা ছিল কার্যত অসম্ভব। দাদার এই টাকাটা তোলার কি করা যায় সেটা নিয়ে আলোচনা করতে নাতনি ইন্টার্ন চিকিৎসক ফাতেম ফারুক ঐশী গেলেন সিংড়া নগদ সেবা পয়েন্টে।

‘দাদা বিছানা থেকে উঠতেই পারেন না। ওষুধ কেনার জন্য হলেও টাকাটা দরকার ছিল। কিন্তু পিন ভুলে যাওয়ায় নিজের টাকাটাও তুলতে পারছিলেন না। কী করায় সেটা জানতেই গেলাম ওনাদের কাছে,’ বলেন ফাতেম ফারুক ঐশী।

নগদ সেবা পয়েন্টে গিয়ে ঘটনাটা জানালেন দায়িত্বরত কর্মকর্তা মো. মোস্তফা আনোয়ারকে। ঐশী আগে থেকেই জানতেন, শয্যাশায়ী বা চলাফেরায় অক্ষম গ্রাহকদের জন্য নগদ মানবিক উদ্যোগ হিসেবে বাড়িতে গিয়ে সেবা দিয়ে আসে। এরপর নিজের মধ্যাহ্ন বিরতির সময় কাজে লাগিয়ে, পোস্টমাস্টারের অনুমতি নিয়ে তিনি রওনা দেন আবু নাসির খানের বাড়ির উদ্দেশে।

‘গ্রাহক যখন সেবা পয়েন্টে আসতে পারেন না, তখন ডোরস্টেপ সেবার মাধ্যমে তার কাছেই সেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা আমরা সব সময়েই করি,’ বলেন মোস্তফা আনোয়ার। ‘মূলত মানবিক জায়গা থেকে আমরা সব সময় গ্রাহকদের জন্যে এই সহায়তার চেষ্টা করে যাই।’

আবু নাসির খানের ঘরে পৌঁছে নিজের পরিচয় দিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে দেন মোস্তফা আনোয়ার। এরপর অ্যাকাউন্টের পিন রিসেট করে দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই আবু নাসির খান তার অ্যাকাউন্টে থাকা আড়াই হাজার টাকা ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে সক্ষম হন।

আবু নাসির খান জানান, অনেক দিন থেকে নগদ ব্যবহার করেন এবং প্রয়োজনীয় টাকা ওই অ্যাকাউন্টেই রাখেন তিনি। তবে দুর্ঘটনার পর থেকে বিছানা থেকে উঠতে না পারার কারণে অনেক দিন হয় এই অ্যাকাউন্টটা ব্যবহার করা হচ্ছিল না তার। একটা পর্যায়ে পিনও ভুলে যান তিনি। প্রয়োজন হয়ে পড়ে পিন রিসেটের। 

‘ছেলেটা বাড়ি পর্যন্ত বয়ে এসে যেভাবে সাহায্য করল, তা ভোলার নয়। ওর জন্য মন থেকে দোয়া করি। দোয়া করি নগদের জন্যেও’ বলছিলেন প্রবীণ এই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক।

নগদের কাছ থেকে এমন সেবা পেয়ে ফাতেমা ফারুক ঐশীও একটু অবাকই হয়েছেন। ‘আসলে এমন সেবার মানসিকতা নিয়ে কেউ কাজ করে ভাবতেও পারছি না।’ ঐশী জানান তার দাদার এই অবস্থায় বাড়িতে এসে সেবা দেওয়াটা তাদের জন্য স্বস্তির বিষয় ছিল।

ঘটনাটি বড় কোনো আয়োজন নয়, নেই কোনো ঢাকঢোল। কিন্তু একজন অসুস্থ, শয্যাশায়ী মানুষের ঘরের চৌকাঠ পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া — এইটুকু দায়িত্ববোধই একটি পরিবারের কাছে হয়ে উঠেছিল বড় স্বস্তির নাম, এক টুকরো ভরসা। সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা নগদের ৯৭টি সেবা পয়েন্ট থেকে এভাবেই গ্রাহকদেরকে প্রতিনিয়ত মানবিক সেবা দিয়ে যাচ্ছে নগদ।

নগদ তার সেবাকে কেবল ব্যবসার দিক থেকে বিবেচনা করে না। আর নগদ সেবাটি তো পুরোপুরি সেবার কাজেই নিয়োজিত। এ জন্যে প্রয়োজনে আমরা গ্রাহকের দোরগোড়ায় পৌঁছে যেতেও রাজি আছি, বলেন হেড অব নগদ সেবা আখতারুল আমিন।

‘কাজটা যে খুব বড় তেমনটা আমরা বলছি না। তবে ছোট্ট একটা সহায়তাও যে মানুষের জন্যে অনেক সময় বড় হয়ে ওঠে সেটা আমরা নানান সময় দেখেছি,’ যোগ করেন তিনি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow