শাকসু নিয়ে শিবির নেতার বক্তব্যে জবি ছাত্রদলের তীব্র প্রতিক্রিয়া

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন স্থগিতকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্ররাজনীতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শাখা ছাত্র শিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জকসুর শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ইব্রাহিম খলিলের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ছাত্রদল নেতাদের পাল্টা হুঁশিয়ারিমূলক বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল লেখেন, ‌‘জকসু নেতার বক্তব্যের পর ঢাকা শহরে কোথাও থাকতে পারবেন না-নয় ক্যাম্পাস, নয় বাসাবাড়িতে।’ তিনি লেখেন, ভদ্রতা, সহনশীলতা ও ক্যাম্পাসে সুস্থ ধারার ছাত্ররাজনীতি চর্চার স্বার্থে ছাত্রদল দীর্ঘদিন ধরে ধৈর্য ধরে এসেছে। তবে সীমা অতিক্রম করলে এর পরিণতি ভয়ানক হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। ওই পোস্টে তিনি আরও বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি আবেগের জায়গা। শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা ও সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার জন্য তারা অনেক ক্ষেত্রেই সহনশীল আ

শাকসু নিয়ে শিবির নেতার বক্তব্যে জবি ছাত্রদলের তীব্র প্রতিক্রিয়া

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন স্থগিতকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্ররাজনীতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

শাখা ছাত্র শিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জকসুর শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ইব্রাহিম খলিলের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ছাত্রদল নেতাদের পাল্টা হুঁশিয়ারিমূলক বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল লেখেন, ‌‘জকসু নেতার বক্তব্যের পর ঢাকা শহরে কোথাও থাকতে পারবেন না-নয় ক্যাম্পাস, নয় বাসাবাড়িতে।’

তিনি লেখেন, ভদ্রতা, সহনশীলতা ও ক্যাম্পাসে সুস্থ ধারার ছাত্ররাজনীতি চর্চার স্বার্থে ছাত্রদল দীর্ঘদিন ধরে ধৈর্য ধরে এসেছে। তবে সীমা অতিক্রম করলে এর পরিণতি ভয়ানক হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ওই পোস্টে তিনি আরও বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি আবেগের জায়গা। শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা ও সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার জন্য তারা অনেক ক্ষেত্রেই সহনশীল আচরণ করেছে। পাশাপাশি তিনি ‘ছাত্রলীগের লুঙ্গির নিচে থাকা সংগঠন’ উল্লেখ করেন।

এদিকে একই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন ফেসবুকের আরেক পোস্টে শিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহিমের বক্তব্যকে দায়িত্বহীন বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে এ ধরনের বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করছে। পোস্টে ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় তিনি শিবির নেতার আচরণ ও বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন।

শামসুল আরেফিন আরও লেখেন, ‘জকসুতে যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছো সেগুলো পূরণে মনোযোগী হও। জবি শিক্ষার্থীরা হিসাব নিতে জানে। এরই মধ্যে হিসাব নিয়ে বসেছে। জমি কিনে নিজস্ব অর্থায়নে ‘হল’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছো, স্টারলিংক নেটওয়ার্ক দেবে। এখন নাকি গতি কম। সম্পূরক বৃত্তি নিয়ে নাটক। এখন শুনি এক বছর দেবে।’

তিনি আরও লেখেন, ‘জকসুতে ভুয়া নির্বাচন কমিশনার ঢোকানো ও পোষ্য ভিসিকে ব্যবহার করে চারবার নির্বাচন পেছানোর কাহিনি আমরা ভুলিনি। ছুটির আড়ালে শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতিতে ম্যান্ডেট নেওয়ার সত্য একদিন দেশ জানবে। সিংহভাগ শিক্ষার্থী ছাত্রদলকে ভালোবাসে ও আস্থা রাখে-এটাই আমাদের অর্জন। নির্বাচনের ফল ছিল নৈতিক, স্বচ্ছ ও কারচুপিমুক্ত। জকসু নির্বাচনের পর শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা আরও বেড়েছে, আর তোমাদের মিথ্যাচার সবাই বুঝতে শুরু করেছে।

মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে শাকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে এক মানববন্ধনে শাখা ছাত্র শিবির সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল বলেন, ২০ তারিখে শাকসু নির্বাচন না হলে তাদের তথাকথিত দেশনায়ক তারেক রহমানের সিলেটের সমাবেশ বন্ধ করে দিন।

তিনি ছাত্রসমাজকে আহ্বান জানান, সিলেটের সড়কপথ, রেলপথ সবকিছু বন্ধ করে দিন। যারা শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার হরণ করে, তাদের সমাবেশ করার কোনো অধিকার থাকতে পারে না। শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার বন্ধ করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা যায় না। পূর্বে ভোটাধিকার হরণের কাজ করেছিল, ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার পেটুয়া বাহিনী ছাত্রলীগ।

এমআরএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow