শাহবাগী, হিজাবি ট্যাগ মোকাবিলা করা বড় চ্যালেঞ্জ নারী প্রার্থীদের

10 hours ago 3

কখনো শাহবাগী, কখনো হিজাবি এ ধরনের বহু ট্যাগ এরইমধ্যে লেগেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে নারীর প্রার্থীদের। বাদ পড়ছেন না পুরুষ প্রার্থীরাও। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এরকম শত শত বুলিং আর হয়রানির শিকার তারা। অনেকে নারীবিদ্বেষী মনোভাব আবার অনেকে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য এসব করছেন। এসব অভিযোগ আমলে নেওয়া জরুরি বলছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা।

সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমের ‘ঢাবির গতিপথ নির্ধারণ করবে শিক্ষার্থীরা, কোনো রাজনৈতিক দল নয়: উমামা’ শিরোনামের প্রতিবেদনে দেখা যায়, সেখানে ২৯টি মন্তব্যের মধ্যে অধিকাংশই ছিল কুরুচিপূর্ণ ও গালিগালাজে ভরা।

ডাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমাকে উদ্দেশ্য করে ‘শাহবাগী’ ট্যাগ দেওয়া থেকে শুরু করে নোংরা ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, কোনো কিছুই বাদ যায়নি। এমনকি নারী হয়ে ভিপি (ভাইস প্রেসিডেন্ট) পদে প্রার্থী হওয়াকেও অনেকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

উমামা ফাতেমার মতো ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ নারী প্রার্থীকেই সাইবারজগতে একই ধরনের হয়রানি ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের মুখোমুখি হতে হচ্ছে এবং একটি তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্যদিয়ে যেতে হচ্ছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবার ডাকসুতে ২৮টি পদের নির্বাচনে ৪৭১ প্রার্থীর মধ্যে ৬২ পদে প্রার্থী হয়েছেন ছাত্রীরা। ভিপি, জিএস এবং এজিএস পদের সঙ্গে বেশিরভাগ সম্পাদকীয় পদের জন্য মাঠে নেমেছেন তারা। হল সংসদগুলোতে ভোট হচ্ছে ভিসি-জিএসসহ ১৩ পদে। দীর্ঘ ২৮ বছর পর ২০১৯ সালের ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচন হয়। এটি ছিল ১৯৯০-এর পর প্রথম ডাকসু নির্বাচন। এরপর পাঁচ বছর পর আগামী ৯ সেপ্টেম্বর হতে যাচ্ছে ডাকসু নির্বাচন।

ডাকসু নির্বাচন ঘিরে নারী প্রার্থীদের হয়রানি প্রসঙ্গে উমামা ফাতেমা জাগো নিউজকে বলেন, ‘অনলাইনে হয়রানির বিষয়ে আমার এক ধরনের অভ্যস্ততা তৈরি হয়ে গেছে। আমি চেষ্টা করি সর্বোচ্চ মানসিক শক্তি দিয়ে এসব মোকাবিলা করতে, গায়ে না লাগিয়ে এগিয়ে যেতে। তবে অনলাইন হয়রানির কারণে আরও অনেক মেয়ের রাজনীতিতে আসার পথ রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে।’

আরও পড়ুন:

সাইবার বুলিংয়ের কারণে অনেক সামনের সারির মেয়েরাও এবার প্রার্থী হননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরেক ভিপি প্রার্থী তাসনিম ইমরোজ ইমি জাগো নিউজকে বলেন, ‘হয়রানিটা আসলে সবচেয়ে বেশি হচ্ছে অনলাইনে আর সেটা আমাদের, নারী প্রার্থীদের বিরুদ্ধেই বেশি। বিপক্ষ মতাদর্শের লোকজন, যারা দলীয় স্বার্থকে প্রধান করে দেখে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে এসব বুলিং করছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।’

গুজব সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়া একাধিক প্রার্থী জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে গুজবই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রার্থীদের ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য, মিথ্যা প্রচারণা ও উদ্দেশ্যমূলক আক্রমণ অনেক সময় ভোটারদের মানসিকভাবে প্রভাবিত করছে এবং নির্বাচনী পরিবেশকে কলুষিত করছে।

উমামা ফাতেমা বলেন, ‘ভোট কমানোর নানা পদ্ধতি থাকে, তবে এবার যে ধরনের ব্যক্তিগত আক্রমণ ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে, তা অমানবিক। আমাদের পুরো প্যানেলকে টার্গেট করা হলেও সবচেয়ে বেশি আক্রমণ এসেছে আমার দিকেই, মিথ্যা-সত্য মিশিয়ে হেয় করার চেষ্টা চলছে।’

শাহবাগী, হিজাবি ট্যাগ মোকাবিলা করা বড় চ্যালেঞ্জ নারী প্রার্থীদের

‘শুধু ভুয়া আইডি নয়, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরাও মিথ্যা-সত্য মিশিয়ে নানা তথ্য ছড়ায়। আমি গুরুত্ব না দিলেও অনেকেই এসব প্রচারণা বিশ্বাস করে ফেলেন, যা নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে,’ বলেন এই নারী ভিপি প্রার্থী।

আরেক ভিপি প্রার্থী তাসনিম ইমরোজ ইমি বলেন, ‘যখন বিষয়টা নারীর, তখন কিছু ডানপন্থী ও মধ্যপন্থী রাজনৈতিক দল মেয়েদের সম্মান করতে জানে না। এটা শুধু ডাকসু নির্বাচনেই নয়, দেশের পুরো রাজনৈতিক পরিসরেই দৃশ্যমান।’

নারীদের ক্ষেত্রে ‘ক্যারেক্টার অ্যাটাক’ বেশি

ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়া নারী প্রার্থীরা কেবল রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন না বরং ব্যক্তিগত আক্রমণ, যৌন হয়রানি ও কৌশলগত ‘ক্যারেক্টার অ্যাটাক’ এর শিকার হচ্ছেন।

ভিপি পদপ্রার্থী তাসনিম ইমরোজ ইমি বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে থাকা অনেক নারীকে নিয়মিত হেয় হতে হয়। মেয়েদের অস্তিত্ব এখনো সমাজ ও রাজনীতিতে শরীরনির্ভর দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যেই বন্দি। আমাদের অর্জনগুলোও যেন শরীর দিয়েই সংজ্ঞায়িত হয়, যা অত্যন্ত অপমানজনক।’

তবে এতসব প্রতিবন্ধকতার পরও দায়বদ্ধতা থেকে তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বলে জানান এই প্রার্থী।

মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক পদে অদম্য ২৪ প্যানেলের প্রার্থী ফাহমিদা আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার অনলাইন বক্তব্যের নিচে নানা ধরনের বডি শেমিং ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য যেন নারীদের নিরুৎসাহিত করা। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো দলবদ্ধভাবে সাইবার আক্রমণ চালাচ্ছে, যা প্রার্থীদের আত্মবিশ্বাসে আঘাত করছে এবং নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি তৈরি করছে।’

আরও পড়ুন:

তবে এসব অপপ্রচার ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলবে না বলেও মনে করেন ফাহমিদা। তার মতে, ‘কমেন্টকারীদের অধিকাংশই ভুয়া আইডি ব্যবহার করে। শিক্ষার্থীরা সচেতনভাবে যোগ্য প্রার্থীকে মূল্যায়ন করবেন।’

কমেন্টকারীরা ‘ধর্মীয় উগ্রবাদী’ শক্তি দাবি করে তিনি বলেন, ‘তাদের লক্ষ্য ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন, যেখানে নারীর নেতৃত্ব কাম্য নয়। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অসাম্প্রদায়িকতা ও প্রগতির পক্ষে দাঁড়ায়। সে কারণেই নারী প্রার্থীরা বেশি টার্গেট হন, ছেলেদের মতামত নিয়ে বিতর্ক হয়, মেয়েদের ক্ষেত্রে আসে যৌন হয়রানি ও বডি শেমিং।’

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঘোষিত প্যানেলের চারজন নারী প্রার্থীও অনলাইন হেনস্তার শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন এই প্যানেলের জিএস প্রার্থী সাদিক কায়েম।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এই নারী প্রার্থীরা মানসিক ট্রমায় ভুগছেন। যারা তাদের হয়রানি করছে, তারা অপরাধী। ছাত্রশিবিরের নেতৃত্ব পর্যায়ে কারও বিরুদ্ধে এমন আচরণের অভিযোগ প্রমাণ করা যাবে না।’

ছাত্রশিবিরের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক পদপ্রার্থী ফাতিমা তাসনীম জুমা। শিবিরের পক্ষে প্রার্থিতা ঘোষণার পর তার ব্যক্তিগত কিছু নাচের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। যদিও তিনি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে এসবের জবাব দিয়েছেন। সেসব ভিডিওর নিচে অবশ্য ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াই বেশি দেখা যায়।

এই প্যানেলের কার্যনির্বাহী সদস্য প্রার্থী সাবিকুন্নাহার তামান্না হিজাব পরেন। সাধারণ ছাত্রী পরিচয়ে ছাত্রদলের রাজনীতি নিষিদ্ধের মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়ার অল্প কিছু দিন বাদেই শিবির হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। এ নিয়ে সাবিকুন্নাহারকে কটূ কথা শুনতে হয়েছে। এমনকি তার একটি ছবিকে বিকৃত করে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে শিবিরের ভিপি প্রার্থী এস এম ফরহাদ বলেন, ‘এটি হিজাব, নারীর পোশাক ও স্বাধীনতার প্রতি বিদ্বেষ; হিজাবফোবিয়া তৈরির প্রচেষ্টা।’

সাবিকুন্নাহার তামান্না জাগো নিউজকে বলেন, ‘নারী অগ্রযাত্রার পথে বড় বাধা হচ্ছে হেনস্তা ও বিচারহীনতা। দলীয় পরিচয় প্রকাশ ও ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণার পর থেকে আমি সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছি, এমনকি ক্যাম্পাসে আমার ছবি বিকৃত করা হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তথাকথিত সচেতন নারীরাও এসব ঘটনায় নীরব।’

পুরুষের হয়রানিটা ভিন্ন

নারী প্রার্থীদের তুলনায় পুরুষ প্রার্থীদের অনলাইনে সমালোচনার ধরন তুলনামূলকভাবে সংযত। তাদের বিরুদ্ধে সমালোচনা মূলত রাজনৈতিক অবস্থান বা কর্মকাণ্ড ঘিরে হলেও, ভাষাগত শালীনতা বজায় থাকে; সেখানে নারী প্রার্থীদের মতো কুরুচিকর বা লিঙ্গভিত্তিক মন্তব্যের উপস্থিতি নেই বললেই চলে।

আরও পড়ুন:

একটি গণমাধ্যমের ‘দুই ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম-আবিদুলের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়’ শিরোনামের আরেকটি ভিডিওর নিচে ছয় হাজারের বেশি কমেন্ট। যার বেশিরভাগই ইসলামী ছাত্রশিবির প্যানেলের প্রার্থী সাদিক কায়েমের প্রশংসা করে। বিএনপি প্রার্থীর সমালোচনা করা হলেও তার ক্ষেত্রে কুরুচিপূর্ণ শব্দ ব্যবহার হয়নি। দুই প্রার্থীর মধ্যে কে কতটা যৌক্তিক মতামত উপস্থাপন করেছে সে বিষয়ে মন্তব্য করেন অনেকে।

স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেল থেকে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী আল সাদী ভূঁইয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘নারীদের পাশাপাশি পুরুষ প্রার্থীরাও অনলাইন হয়রানির শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গ্রুপে যখন আমরা আমাদের নির্বাচনী এজেন্ডা, স্বপ্নের কথা লিখি সেখানে বিভিন্ন দলের অনলাইন অ্যাকটিভিস্টরা নেগেটিভ কমেন্ট করে আমাদের হ্যারাস করতে থাকে। দেখলে বোঝা যায় তারা দলগতভাবে আক্রমণ করে শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক মনোভাব সরিয়ে নেয়।’

তবে অনেক নারী প্রার্থী ভয়ে কিছু লিখতে বা পোস্ট করতে পারছেন না, কেউ কেউ কমেন্ট করার অপশন বন্ধ রেখে পোস্ট করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পুরুষ প্রার্থীদের মধ্যে ভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন বাম গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের জিএস (সাধারণ সম্পাদক) প্রার্থী মেঘমল্লার বসু। তার দেওয়া বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও ভিডিওর নিচে পাওয়া মন্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সেখানে তাকে তার ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে কটাক্ষ করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাকে ‘ভারতীয় এজেন্ট’ বলেও অপমানজনকভাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী শামীম হোসেনের সাক্ষাৎকারের পাশাপাশি তার কবিতা আবৃত্তি ও ইংরেজি ক্লাসের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তার প্রতিভা ও আত্মবিশ্বাসে মুগ্ধ হয়ে অনেকেই ইতিবাচক মন্তব্য করছেন। তবে কেউ কেউ তাকে ছাত্রশিবির কিংবা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের প্রতিনিধি বলেও ট্যাগ করছেন।

ছাত্রদলের জিএসপ্রার্থী তানভীর বারী হামিম অভিযোগ করেন, অনলাইনে তাদের বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। নারী প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে বিরত রাখতে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাছে অনলাইন হয়রানি প্রতিরোধে একটি কমিটি গঠনের অনুরোধ জানানো হলেও এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

প্রার্থীদের এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চিফ রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, আমরা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বারবার সাইবার বুলিং না করার অনুরোধ জানিয়েছি। যেসব পেজের অ্যাডমিনদের শনাক্ত করতে পেরেছি, তাদের ডেকে বলা হয়েছে ভবিষ্যতে যেন আর না করে। যদি আবার করে তাহলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের আর কী করার আছে! এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

নারী প্রার্থীদের হয়রানির বিষয়ে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, নারীদের বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের ‘সাইবার সহিংসতা’ চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাস্তব জগতের মতো অনলাইনেও নারীদের প্রতি যৌন সহিংসতা বেড়েছে। বিশেষ করে ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এটি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এর মাধ্যমে নারীদের সামাজিক ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে।

মালেকা বানু বলেন, সাইবার সহিংসতার বিরুদ্ধে আইন থাকলেও তা কার্যকরভাবে প্রয়োগ হচ্ছে না। দায়বদ্ধতার অভাবে অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রগতিশীল ও সাংস্কৃতিক চর্চার কেন্দ্রেও যখন এই ধরনের হয়রানির শিকার হয়, তা হলে বোঝা যায় সমাজে পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা কীভাবে নারীদের দমন করতে চাইছে। এই প্রবণতা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং নারী অগ্রযাত্রার বিরুদ্ধে এক মারাত্মক চ্যালেঞ্জ।

জেপিআই/এফএআর/এসএনআর/এমএস

Read Entire Article