শিক্ষার্থীদের গলায় জুতার মালা পরানো সেই প্রধান শিক্ষিকা বরখাস্ত

বগুড়া সদর উপজেলার বুজর্গধামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীর গলায় জুতার মালা পরিয়ে ও পিঠে চোর লিখে ঘোরানোর ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকা গোল সাহানারাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয় থেকে বুধবার (৬ মে) এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। রাজশাহী বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক নূর আখতার জান্নাতুল ফেরদৌসের স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়েছে, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এভাবে প্রকাশ্যে অপমান করার ঘটনায় শিক্ষা বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। জনস্বার্থে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী জারির দিন থেকেই এ বরখাস্ত আদেশ কার্যকর হবে। বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২৮ এপ্রিল বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের একটি গাছ থেকে দুটি আম পেড়ে খেয়েছিল চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির তিন শিক্ষার্থী। এই অপরাধে পরদিন ২৯ এপ্রিল প্রধান শিক্ষিকা গোল সাহানারা ওই তিন শিশুকে ডেকে নিয়ে বেত্রাঘাত করেন। এরপর তাদের গলায় জুতার মালা পরিয়ে এবং পিঠে ‘আমি আম চোর’ লেখা স্টিকার লাগিয়ে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ ও বারান্দায় ঘোরানো হয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে তী

শিক্ষার্থীদের গলায় জুতার মালা পরানো সেই প্রধান শিক্ষিকা বরখাস্ত

বগুড়া সদর উপজেলার বুজর্গধামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীর গলায় জুতার মালা পরিয়ে ও পিঠে চোর লিখে ঘোরানোর ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকা গোল সাহানারাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয় থেকে বুধবার (৬ মে) এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।

রাজশাহী বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক নূর আখতার জান্নাতুল ফেরদৌসের স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়েছে, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এভাবে প্রকাশ্যে অপমান করার ঘটনায় শিক্ষা বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। জনস্বার্থে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী জারির দিন থেকেই এ বরখাস্ত আদেশ কার্যকর হবে।

বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২৮ এপ্রিল বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের একটি গাছ থেকে দুটি আম পেড়ে খেয়েছিল চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির তিন শিক্ষার্থী। এই অপরাধে পরদিন ২৯ এপ্রিল প্রধান শিক্ষিকা গোল সাহানারা ওই তিন শিশুকে ডেকে নিয়ে বেত্রাঘাত করেন। এরপর তাদের গলায় জুতার মালা পরিয়ে এবং পিঠে ‘আমি আম চোর’ লেখা স্টিকার লাগিয়ে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ ও বারান্দায় ঘোরানো হয়।

ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

এ ঘটনায় ওই স্কুলের একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সামান্য কারণে শিশুদের এভাবে অপমান করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ফল গাছ তো শিক্ষার্থীদের জন্যই। তাদের শাসনের বদলে এভাবে লজ্জিত করা অন্যায়।

ঘটনাটি গণমাধ্যমে আসার পর গত ৩ মে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজোয়ান হোসেন তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় তাকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয় অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজোয়ান হোসেন বলেন, এটি প্রাথমিক ব্যবস্থা। বিধি অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হবে।

এলবি/এনএইচআর/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow