শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ চেয়ে হুঁশিয়ারি ছাত্রদল নেতার

‘সন্ত্রাসী ও জঙ্গি সংগঠন’ উল্লেখ করে ছাত্রশিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ চেয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক। সংগঠনটির প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেছেন, ছাত্রশিবির সন্ত্রাসী ও জঙ্গি সংগঠন। শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। শিবির নামক জঙ্গি সংগঠনকে বাংলাদেশের কোথাও স্থান দেবে না ছাত্রদল। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে ঢাকা আলিয়া মাদরাসা ক্যাম্পাসের সামনে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে এদিন দুপুরের পর আলিয়া মাদরাসায় হল দখলকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ছাত্রদল নেতা রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, আজ প্রধানমন্ত্রীর একটি প্রোগ্রাম ছিল কেআইবিতে, আমরা সবাই সেখানে ছিলাম। সেসময় হঠাৎ খবর পাই, জামায়াত নেতার ছেলে ও শিবিরের ক্যাডাররা আলিয়া মাদরাসার কক্ষগুলো দখল করে নিচ্ছে এবং তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে সন্ত্রাসী ও মাফিয়া কায়দায় হামলা করেছে। আরও পড়ুন ‘ধৈর্য হারিয়ে’ মুখোমুখি ছাত্রদল-শিবির, অস্থির শিক্ষাঙ্গন এখন পর্যন্ত কতজ

শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ চেয়ে হুঁশিয়ারি ছাত্রদল নেতার

‘সন্ত্রাসী ও জঙ্গি সংগঠন’ উল্লেখ করে ছাত্রশিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ চেয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক।

সংগঠনটির প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেছেন, ছাত্রশিবির সন্ত্রাসী ও জঙ্গি সংগঠন। শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। শিবির নামক জঙ্গি সংগঠনকে বাংলাদেশের কোথাও স্থান দেবে না ছাত্রদল।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে ঢাকা আলিয়া মাদরাসা ক্যাম্পাসের সামনে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে এদিন দুপুরের পর আলিয়া মাদরাসায় হল দখলকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

ছাত্রদল নেতা রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, আজ প্রধানমন্ত্রীর একটি প্রোগ্রাম ছিল কেআইবিতে, আমরা সবাই সেখানে ছিলাম। সেসময় হঠাৎ খবর পাই, জামায়াত নেতার ছেলে ও শিবিরের ক্যাডাররা আলিয়া মাদরাসার কক্ষগুলো দখল করে নিচ্ছে এবং তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে সন্ত্রাসী ও মাফিয়া কায়দায় হামলা করেছে।

এখন পর্যন্ত কতজন আহত হয়েছেন, জানতে চাইলে ছাত্রদলের এ নেতা বলেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সভাপতি শামীম মাহমুদ, লালবাগ ছাত্রদলের রাব্বি, আলিয়া মাদরাসার ছানাহউল্লাহসহ অসংখ্য নেতাকর্মী আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি রয়েছেন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক এনামুল হক এনাম সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের ছাত্রদলের ভাইদের ওপর হামলা হচ্ছে। তাদের রক্তাক্ত ছবি দেখে বিবেকের তাড়নায় আলিয়া মাদরাসায় আমরা ছুটে এসেছি। কারণ, জামায়াত-শিবির এমন একটা জঙ্গি সংগঠন, তারা মানুষ হত্যা করতে দ্বিধাবোধ করে না। তারা এই প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপালকে হত্যার জন্য তার ওপর হামলা চালিয়েছে, যেন ছাত্রদলের ওপর দোষ চাপানো যায়।

তিনি বলেন, যখন সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে, যখন জুলাই দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে, ঠিক সেই মুহূর্তে যারা জুলাইকে বাজার করে, পুঁজি করে রাজনীতি করে তারা আজকের হামলা চালিয়েছে। এই এলাকায় জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থী ছিলেন এনায়াত উল্লাহ, তার উসকানিতেই আজকের হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এনামুল হক আরও বলেন, হামলার ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেনি। এখানকার (চকবাজার থানা) ওসিকে অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। কিন্তু ওসির ভূমিকা থাকা দরকার ছিল দুই পক্ষকে শান্ত করার, কিন্তু তারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছে। হয় তারা ফ্যাসিবাদের দোসর না হয় তারা জামায়াত-শিবির-রাজাকারের চক্র।

সবাইকে শান্তিপূর্ণ অবস্থানে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নিজ থেকে কারও ওপর আক্রমণ করবো না। কারও ওপর হামলা করতে চাই না। কারও ওপর হামলা করতে আমরা এখানে আসিনি।

শিবিরের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে ছাত্রদলের উসকানিতে হামলা শুরু হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে যুবদল নেতা এনামুল হক বলেন, এটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। শিবির অপপ্রচারের রাজনীতি করে, তারা গুপ্ত সংগঠন।

এসময় কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়নসহ ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, একই দিনে ঢাকা কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারি ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশের একটি সূত্র বলছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রবেশ করা নিয়ে ছাত্রদলের সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও মারামারির ঘটনা ঘটে।

এর জেরে ঢাকা কলেজে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে মারামারি হয়। এখন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের বাইরে মূল সড়কে মিছিল করেন। আর ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের ভেতরে অবস্থান করছেন।

বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নিউমার্কেট এলাকায় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে কারও হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, রাজধানীর ন্যাশনাল মেডিকেলের সামনে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যার পরও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অবস্থান করতে দেখা গেছে। তবে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের দেখা যায়নি। সেখানে পুলিশ সদস্যরা সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন।

এর আগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল, শিবির, ছাত্রশক্তির সংঘর্ষের ঘটনার জেরে ন্যাশনাল মেডিকেলের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে যাওয়া আহতদের মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে মেডিকেলের সামনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জাগো নিউজকে জানান, এখন পরিস্থিতি শান্ত, চিকিৎসাধীন যারা ছিলেন তারা অন্য হাসপাতালে চলে গেছেন। তবে কবি নজরুল কলেজ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা অবস্থান করছে। পুলিশও সতর্ক অবস্থায় আছে।

সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হাসপাতালের সামনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অবস্থান করতে দেখা যায়। সেখানে পুলিশ সদস্যরাও আছেন। তবে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের কাউকে দেখা যায়নি।

টিটি/এমকেআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow