শিশু মুজাহিদ হত্যা: এবার ঘরে আগুন দিয়ে মাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ৭ মাসের শিশু মুজাহিদকে হত্যার পর তার মা মামলার বাদী তাসলিমা আক্তারসহ পরিবারকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বাবা মেরাজের বিরুদ্ধে। রোববার (২৬ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদি গ্রামের পূর্বাকান্দা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার ভোরে দুর্বৃত্তের দেওয়া আগুনে মুহূর্তেই পুড়ে ছাই হয়ে যায় দুটি বসতঘর। এসময় ক্ষতিগ্রস্ত হয় কয়েক লাখ টাকার বিভিন্ন জিনিসপত্র ও আসবাবপত্র। পরিবারের সদস্যদের দাবি, সন্ত্রাসী মেরাজ ও তার পরিবারের লোকজনকে শিশু মুজাহিদ হত্যা মামলার আসামি করায় মামলার বাদী তাসলিমা আক্তারসহ পুরো পরিবারের সদস্যদের প্রাণে মারতে পেট্রোল ঢেলে এই আগুন দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে শিশুর মা তাসলিমা আক্তার বলেন, আমাকে ও আমার পরিবারের সকলকে একসঙ্গে পুড়িয়ে মেরে ফেলতেই রাতের আঁধারে আমার ছেলের হত্যাকারী সন্ত্রাসী মেরাজ মিয়া পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। পরে আগুনের তাপে পরিবারের সবাই ঘুম থেকে উঠে দরজা ভেঙে কোনো রকমভাবে জীবন রক্ষা করি। সে ভাবছে আমাকে মেরে ফেললে ছেলে হত্যার বিচার করতে পারবো না। সে আমার নিষ্পাপ শিশু সন্তানকে রক্তাক্ত করে নির্মমভাবে
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ৭ মাসের শিশু মুজাহিদকে হত্যার পর তার মা মামলার বাদী তাসলিমা আক্তারসহ পরিবারকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বাবা মেরাজের বিরুদ্ধে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদি গ্রামের পূর্বাকান্দা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার ভোরে দুর্বৃত্তের দেওয়া আগুনে মুহূর্তেই পুড়ে ছাই হয়ে যায় দুটি বসতঘর। এসময় ক্ষতিগ্রস্ত হয় কয়েক লাখ টাকার বিভিন্ন জিনিসপত্র ও আসবাবপত্র।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, সন্ত্রাসী মেরাজ ও তার পরিবারের লোকজনকে শিশু মুজাহিদ হত্যা মামলার আসামি করায় মামলার বাদী তাসলিমা আক্তারসহ পুরো পরিবারের সদস্যদের প্রাণে মারতে পেট্রোল ঢেলে এই আগুন দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে শিশুর মা তাসলিমা আক্তার বলেন, আমাকে ও আমার পরিবারের সকলকে একসঙ্গে পুড়িয়ে মেরে ফেলতেই রাতের আঁধারে আমার ছেলের হত্যাকারী সন্ত্রাসী মেরাজ মিয়া পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। পরে আগুনের তাপে পরিবারের সবাই ঘুম থেকে উঠে দরজা ভেঙে কোনো রকমভাবে জীবন রক্ষা করি। সে ভাবছে আমাকে মেরে ফেললে ছেলে হত্যার বিচার করতে পারবো না। সে আমার নিষ্পাপ শিশু সন্তানকে রক্তাক্ত করে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আজ আবার আমাকেসহ পুরো পরিবারের মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে মারতে চেয়েছিল। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় আছি। কার কাছে বিচার চাইবো আমরা? আগুনে আমার ভাইয়ের দুটি ঘর পুড়ে সবাই এখন রাস্তায় বসে গেছি।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভৈরব থানার উপপরিদর্শক মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আজ সকালে খবর পেলাম ভোরে শিশু মুজাহিদ হত্যা মামলার বাদী তাসলিমা আক্তারের বাবার বাড়িতে কে বা কারা আগুন দিয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে দুটি বসতঘর ছাই হয়ে যায়। এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া শিশু হত্যা মামলার আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান।
উল্লেখ্য, গত ২৪ এপ্রিল উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদি গ্রামের পূর্বকান্দা এলাকার একটি ডোবা থেকে শিশু মুজাহিদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শিশুটি মানিকদি পুরানগাঁও এলাকার মেরাজ মিয়ার ছেলে। দুই বছর আগে তাসলিমা আক্তারের সঙ্গে মেরাজের বিয়ে হয়। সাত মাস আগে তাদের ঘরে জন্ম নেয় শিশু মুজাহিদ। গত ২০ দিন আগে স্বামী ও শাশুড়ির সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়ার পর বাবার বাড়িতে চলে যান তাসলিমা বেগম। এরপর গত ১৬ এপ্রিল মেরাজ মিয়া তার শ্বশুরবাড়িতে যান। তখন স্ত্রীর কাছ থেকে ছেলেকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে নিয়ে আসেন। তারপর আর শিশুটিকে ফেরত নিয়ে আসেননি।
পরদিন তাসলিমার বাবার বাড়ির লোকজন শিশুকে ফেরত আনতে মেরাজের বাড়িতে গেলে মোজাহিদকে পাওয়া যায়নি। পরে গত ২১ এপ্রিল শিশুর মা ভৈরব থানায় অভিযোগ করেন। নিখোঁজের ৭ দিন পর গত বৃহস্পতিবার সকালে বিলের ডোবায় শিশুর মরদেহ দেখে স্থানীয়রা খবর দিলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পরিচয় শনাক্ত করে।
এ ঘটনায় ২৫ এপ্রিল রাতে মুজাহিদের মা তাসলিমা আক্তার বাদী হয়ে শিশুর বাবা মেরাজ মিয়াকে প্রধান আসামিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
রাজীবুল হাসান/এফএ/জেআইএম
What's Your Reaction?