আধুনিক জীবনযাপনের শর্ত পূরণ করতে গিয়ে জীবনকে নানান রকম ঝুঁকিতে ফেলছে মানুষ। যার ফলে বরণ করে নিতে হচ্ছে স্থূলতা, বন্ধ্যাত্ব, অনুর্বরতার মতো সমস্যাগুলো। অনেক দম্পতিকে দেখা যায় সন্তান নেওয়ার জন্য রীতিমতো সংগ্রাম করছেন। বছরের পর বছর চেষ্টা করেও মা-বাবা হতে পারছেন না। অথচ কিছু অভ্যাস বদলে শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন আনতে পারলে মা-বাবা হতে না পারার জটিলতা দূর করা সম্ভব।
পুরুষের শুক্রাণু ও নারীর উর্বরতা কমে যাওয়া বর্তমান সময়ের দুঃখজনক বাস্তবতা। বহু নারী-পুরুষ এ সমস্যায় ভুগছেন। অল্প বয়সেই উর্বরতা কমে যাচ্ছে অনেক নারীর, বাড়ছে বন্ধ্যাত্ব। সন্তান নিতে আগ্রহীরা এসব সংকটের কারণে ছুটছেন চিকিৎসকের কাছে। কিন্তু এই সমস্যাগুলোর পেছনে রয়েছে কিছু বদভ্যাস। সেসব বদলে কয়েকটি ভালো অভ্যাস রপ্ত করতে পারলেই এ সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায়।
পুষ্টিবিদেরা জানান, শুক্রাণু ও উর্বরতা বাড়াতে হলে খাদ্যাভ্যাস উন্নত করতে হবে। সঠিক পুষ্টি শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে এবং প্রজনন ব্যবস্থাকেও উন্নত করে। এ ছাড়া শারীরিক ও মানসিকভাবে ভালো থাকতে হলে আরও বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
উর্বরতা বাড়াতে নারী-পুরুষ উভয়কেই খেতে হবে সবুজ শাক-সবজি, তাজা ফল এবং গোটা শস্য। এ ছাড়া আরও খেতে হবে ভিটামিন সি এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার। অন্যদিকে ছাড়তে হবে জাঙ্ক ফুড। এ ধরণের খাবারে এমন অনেক পদার্থ থাকে যা উর্বরতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
মানসিক চাপের কারণেও মানুষের উর্বরতা নষ্ট হতে পারে। দীর্ঘ সময় মানসিক চাপে থাকার কারণে শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা প্রজনন ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই মানসিক চাপ এড়িয়ে চলতে হবে। এ জন্য নিয়মিত ধ্যান, যোগব্যায়াম এবং শরীরচর্চা করতে হবে। নিয়মিত যোগব্যায়াম করলে মানসিক প্রশান্তি পাওয়া যায়, যা হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং উর্বরতা ঠিক রাখবে। এ ছাড়া পর্যাপ্ত ঘুমও মানসিক চাপ দূর করে।
শরীরচর্চা শুধু শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যই ভালো তা নয়। উর্বরতা ধরে রাখতে এটি সরাসরি ভূমিকা রাখে। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম যেমন, হাঁটা, দৌড়ানো এবং সাঁতার কাটা হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এটি রক্তপ্রবাহকে গতিশীল করে যা উর্বরতা বাড়ায়। প্রতিদিন ব্যায়াম করলে শরীর সুস্থ থাকে এবং প্রজনন স্বাস্থ্যেরও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়।
অতিরিক্ত ওজন বা কম ওজন দুটোই উর্বরতার ওপর প্রভাব ফেলে। মূল কথা হচ্ছে, হরমোনের ভারসাম্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে মানুষের ওজন। বিশেষ করে নারীর অতিরিক্ত ওজন তার উর্বরতা নষ্ট করে দিতে পারে। অতিরিক্ত ওজন হরমোনের ভারসাম্যহীনতার জন্য দায়ী, যা ডিম্বাশয় থেকে ডিম উৎপাদনকে প্রভাবিত করে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকলে প্রজনন ক্ষমতা থাকবে স্বাভাবিক। যারা স্থূলতায় ভুগছেন তাদের উর্বরতা বাড়াতে ওজন কমানোর উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
তামাক এবং অ্যালকোহল সেবন প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর বিপজ্জনক প্রভাব ফেলে। এই দুটি জিনিসও হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে দিতে পারে। ডিমের বিকাশকে বাধাগ্রস্থ করতে পারে এবং শুক্রাণুর গুণ-মান নষ্ট করে দিতে পারে। উর্বরতা ও শুক্রাণু বাড়াতে চাইলে তামাক এবং অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকতে হবে। এ ছাড়া ক্যাফেইন গ্রহণ কমিয়ে আনা উচিত। কারণ এটি উর্বরতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
পুষ্টিবিদ মালিহা পারভীন জানান, মেয়েদের ওজন বেড়ে গেলে ডিম উৎপাদনে সমস্যা না হলেও, সন্তান প্রসবের সময় নানামুখী জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। অন্যদিকে উর্বরতা বাড়াতে স্বাস্থ্যকর খাবারের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে কুমড়ার বীজ, বাদাম, ডিম। তিনিও ওমেগা-৩ এবং ফ্যাট জাতীয় খাবার যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রতিদিনের খাবারে। তিনি বলেন, ‘সন্তান প্রত্যাশী মায়েরা ঢ্যাঁড়শ ভেজানো পানি খেতে পারেন। এটি সাপ্লিমেন্টারি হিসেবে কাজ করবে। প্রতিদিন নিয়ম মেনে যোগব্যায়াম করতে হবে।’
আরএমডি