শুটিংয়ে নিরাপত্তা নিয়ে যা বললেন তারকারা
ভারতের তালসারির সমুদে সৈকতে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে সমুদ্রের পানিতে ডুবে মারা যান ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা, লেখক ও নাট্যব্যক্তিত্ব রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতোমধ্যে তার এই মৃত্যুকে ঘিরে দানা বেঁধেছে রহস্যের। তবে সমুদ্র পাড়ে শুটিংয়ের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন থাকে সেটে এ বিষয়ে ভারতীয় এক গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ওপার বাংলার ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা দিব্যজ্যোতি দত্ত, অভিনেত্রী অন্বেষা হাজরা ও অহনা দত্ত ।
জানা যায়, সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ ছবিতে বুক পর্যন্ত জলে নেমে সমুদ্রে শুটিং করেছিলেন দিব্যজ্যোতি।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে-র শুটিং হয়েছিল পুরীতে। জল যখন আমার বুক পর্যন্ত তখন শটটা কেটেছিল। সন্ধ্যাবেলা শট দেওয়ার সময় বুঝেছিলাম ওই সময় জলে কতটা কারেন্ট থাকে। কত বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ে। দু’হাত তুলে শট দেওয়ার সময় বেশ কয়েকবার ঢেউয়ের উলটো গতিতে পড়ে গিয়েছি। ডুবুরিরা আমাকে সাহায্য করেছিলেন।
ওরা না থাকলে আমি তো আতঙ্কেই শট দিতে পারতাম না বা পরিচালককে বলে দিতে হত আমার দ্বারা এটা সম্ভব নয়। আমার কাছে জীবনের আগে কিছু নয়। ব
ভারতের তালসারির সমুদে সৈকতে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে সমুদ্রের পানিতে ডুবে মারা যান ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা, লেখক ও নাট্যব্যক্তিত্ব রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতোমধ্যে তার এই মৃত্যুকে ঘিরে দানা বেঁধেছে রহস্যের। তবে সমুদ্র পাড়ে শুটিংয়ের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন থাকে সেটে এ বিষয়ে ভারতীয় এক গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ওপার বাংলার ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা দিব্যজ্যোতি দত্ত, অভিনেত্রী অন্বেষা হাজরা ও অহনা দত্ত ।
জানা যায়, সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ ছবিতে বুক পর্যন্ত জলে নেমে সমুদ্রে শুটিং করেছিলেন দিব্যজ্যোতি।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে-র শুটিং হয়েছিল পুরীতে। জল যখন আমার বুক পর্যন্ত তখন শটটা কেটেছিল। সন্ধ্যাবেলা শট দেওয়ার সময় বুঝেছিলাম ওই সময় জলে কতটা কারেন্ট থাকে। কত বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ে। দু’হাত তুলে শট দেওয়ার সময় বেশ কয়েকবার ঢেউয়ের উলটো গতিতে পড়ে গিয়েছি। ডুবুরিরা আমাকে সাহায্য করেছিলেন।
ওরা না থাকলে আমি তো আতঙ্কেই শট দিতে পারতাম না বা পরিচালককে বলে দিতে হত আমার দ্বারা এটা সম্ভব নয়। আমার কাছে জীবনের আগে কিছু নয়। বেঁচে থাকলে তো কাজ করব। নিরাপত্তাটা ছিল বলেই আমার শট দিতে কোনওরকম ভয় করেনি।
বিগ বাজেটের সিনেমার ক্ষেত্রেই শুধু এই নিরাপত্তা? এমন প্রশ্নের জবাবে অভিনেতা বলেন, সিরিয়ালের ক্ষেত্রেও যথেষ্ঠ নিরাপত্তা থাকে। আমি নিজেই অনুরাগের ছোঁয়ায় কাজ করার সময় জলের মধ্যে নৌকায় কত শট দিয়েছি। তখনও সেখানে কড়া নিরাপত্তাবলয় ছিল। সেটাই তো হওয়া উচিত। ইউনিটের দায়িত্ব প্রতিটি কলাকুশলীদের খেয়াল রাখা। আমার মতে, আজ থেকে দশ হাজার বছর পিছনে ফিরে তাকালেও দেখা যায় প্রতিটি প্রাণী নিজেদের মতো করে জীবনে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে সামিল হত। খাবারের জোগান নিশ্চিত করাই তো জীবনে বেঁচে থাকার মূল রসদ। আমরাও তো কাজ করি খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার জন্যই। ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে যদি জীবনই শেষ হয়ে যায় তাহলে তো কাজটাই বৃথা হয়ে যাবে।‘
এরপর আরেকটি সাক্ষাৎকারে উঠে আসে ভারতীয় অভিনেত্রী অন্বেষা হাজরার বক্তব্য। ধারাবাহিকের শুটিংয়ের জন্য সমুদ্রে, পাহাড়ে যেতে হয় তাকে। অভিনেতা রাহুলের এই ঘটনায় ভবিষ্যৎ-এ আউটডোর শুটিংয়ে আতঙ্কে তৈরি হবে? নিরাপত্তার অভাব কখনও বোধ করেছেন?
এমন প্রশ্নের জবাবে অভিনেত্রী বলেন, ঝুঁকি শুধু আউটডোরেই থাকে এমনটা নয়, স্টুডিওতে শুটিংয়ের সময়ও অনেক অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে। বিপদ তো কখনও দরজায় কড়া নেড়ে আসে না। রাহুলদার ঘটনাটা অত্যন্ত দুঃখজনক। ওখানে ঠিক কী ঘটেছে সেটা একমাত্র তারাই জানে ঘটনার সময় যারা উপস্থিত ছিলেন। তবে ভবিষ্যতে আউটডোর শুটিং নিয়ে ভয় পেয়ে তো লাভ নেই, চরিত্রের প্রয়োজনে যেতে হবেই। আর নিরাপত্তার কথা যদি বলতে হয়, আমি কখনও অভাববোধ করিনি। যদি সঠিক নিরাপত্তা না থাকত তাহলে তো আমার উপস্থিতিটাই থাকত না ।
ভারতীয় ছোটপর্দার আরও এক জনপ্রিয় অভিনেত্রী অহনা দত্তের কাছে এই একই প্রশ্ন করা হলে, জবাবে তিনি বলেন, ‘এই ঘটনাটা যে সত্যি হতে পারে সেটা এখনও বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। সহজ কত ছোট, ওর মনের উপর কী সাংঘাতিক প্রভাব পড়ছে! আর আউটডোর শুটিং, আজ তো সারাদিন আমাদের বাইরেই কাজ।
আমার একটা প্রোজেক্ট চার বছর চলেছে আর এখন নতুন আর একটা ধারাবাহিকে কাজ করছি। সেই দিক থেকে বিচার করলে আমাকে নবাগতা বলাই যায়। এখনও পর্যন্ত কখনও নিরাপত্তার অভাববোধ করিনি। তবে দীঘা-মন্দারমণি আমার খুব প্রিয় জায়গা। প্রায়ই আমরা ঘুরতে যাই। এবার থেকে আমি আর কখনও সমুদ্রের গভীরে যাব না। এটা নিয়ে আমার সত্যিই একটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।'