শুভজিত বিশ্বাসের কবিতা

স্বপ্ন কথক     প্রতিদিন একটি গোলাপ রাখি যে ফুলদানিতে, যেন মনে হয় তোমার খোঁপায় ভেসে যাই প্রেমের স্রোতে। প্রতিদিন একটি পাখি গেয়ে যায় খুব সকালে, মনে হয় তুমি এসে আমারই ঘুম ভাঙালে। মনে হয় প্রথম আভায় ছুঁয়ে যাও আমার হৃদয়পাতে। বর্ষার প্রথম ধারা ঝরে যবে আমার চোখে, মনে হয় তোমার আঁচল মুছে দেয় অবাক সুখে। কেড়ে নেয় সকল দুঃখ ভালোবাসার নীরব স্রোতে। কতো কি যে ভাবি আমি ভাবি শুধু তোমায় নিয়ে, হৃদয়ের শূণ্যতা সব ভরে ওঠে তোমায় পেয়ে। তোমারই উষ্ণ ছোঁয়ায় কাঁপি যে গো সাঁঝ-প্রভাতে।     ভালোবাসি   একটু দাঁড়া, ফিরে তাকা, মিষ্টি হেসে বল না কথা। বুঝে নে তুই আমার ব্যথা, শুনে যা না মনের কথা।     সত্যি বলছি খুব করে চাই কেমনে বুঝাই ধুত্তরি ছাই। মনের মাঝে কালবোশেখী ঝড় তুলেছিস সর্বনাশী।     খোলা চুলে সকাল হলে আসিস যখন বকুল তলে বুঝিস না তুই তখন আমি তোরে নিয়েই স্বর্গে নামি।     সন্ধ্যে বেলা প্রদীপ জ্বেলে সাজিস যখন পুজোর ফুলে তখন আমি খুব গোপনে লুটিয়ে পড়ি তোর চরণে।     এমন করেই সারাদিনে মেতে থাকি তোরই প্রেমে। তোরই নামে কাঁদি হাসি সত্যি বলছি ভালোবাসি।     আমি বসন্ত চাই না   

শুভজিত বিশ্বাসের কবিতা

স্বপ্ন কথক

 

 

প্রতিদিন একটি গোলাপ রাখি যে ফুলদানিতে,
যেন মনে হয় তোমার খোঁপায় ভেসে যাই প্রেমের স্রোতে।

প্রতিদিন একটি পাখি গেয়ে যায় খুব সকালে,
মনে হয় তুমি এসে আমারই ঘুম ভাঙালে।
মনে হয় প্রথম আভায় ছুঁয়ে যাও আমার হৃদয়পাতে।

বর্ষার প্রথম ধারা ঝরে যবে আমার চোখে,
মনে হয় তোমার আঁচল মুছে দেয় অবাক সুখে।
কেড়ে নেয় সকল দুঃখ ভালোবাসার নীরব স্রোতে।

কতো কি যে ভাবি আমি ভাবি শুধু তোমায় নিয়ে,
হৃদয়ের শূণ্যতা সব ভরে ওঠে তোমায় পেয়ে।
তোমারই উষ্ণ ছোঁয়ায় কাঁপি যে গো সাঁঝ-প্রভাতে।

 

 

ভালোবাসি

 


একটু দাঁড়া, ফিরে তাকা,
মিষ্টি হেসে বল না কথা।
বুঝে নে তুই আমার ব্যথা,
শুনে যা না মনের কথা।

 

 

সত্যি বলছি খুব করে চাই
কেমনে বুঝাই ধুত্তরি ছাই।
মনের মাঝে কালবোশেখী
ঝড় তুলেছিস সর্বনাশী।

 

 

খোলা চুলে সকাল হলে
আসিস যখন বকুল তলে
বুঝিস না তুই তখন আমি
তোরে নিয়েই স্বর্গে নামি।

 

 

সন্ধ্যে বেলা প্রদীপ জ্বেলে
সাজিস যখন পুজোর ফুলে
তখন আমি খুব গোপনে
লুটিয়ে পড়ি তোর চরণে।

 

 

এমন করেই সারাদিনে
মেতে থাকি তোরই প্রেমে।
তোরই নামে কাঁদি হাসি
সত্যি বলছি ভালোবাসি।

 

 



আমি বসন্ত চাই না 
 

 

আমি বসন্ত চাই না!
আমি পলাশের আগুন চাই না, 
আমি কোকিলের কুহু কুহু সুরের মূর্ছনায় ভাসতে চাই না।
আমি রঙিন পৃথিবী চাই না।

 

 

আমি অন্ধকার তপস্যী!
অমেঘ তমসায় আমি নিজেকে লুকাতে চাই,
আমি নিজেকে লুকাতে চাই তোমার প্রণয়ের ঢেউয়ের আঘাত থেকে।
সত্যি বলছি, তোমার প্রণয়কাব্য আমার অসহ্য লাগে।

 

 

কাঁকনের রিনিঝিনি শব্দ কিংবা কপোলের রঙিন কবিতা,
আর কোনো সুন্দরেরই আবেদন নেই আমার কাছে।
সব সুন্দরের প্যাকেজ ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলেছি।
সত্যি, আজ আমি নেশায় মত্ত এক অসামাজিক!

 

 

 


জীবনের গান

 

যদি শোনাতে চাই ‘জীবনের গান’, শুনবে?
ভরা বর্ষার কল্লোলিত নদীর ঢেউয়ের মতো হৃদয়ের সবগুলো আবেগ
যদি ছড়িয়ে দেই তোমার চারপাশে,
তুমি কি বৃষ্টির জল ভেবে দু’হাতে তুলে নেবে?
পরম মমতায় অদ্ভুত শিহরণে ছুঁইয়ে দেবে তোমার শান্ত চোখে?
নাকি সর্বংসহা আমার তৃষিত হৃদয়ের দিকে ছুঁড়ে মারবে তোমার ক্রুর দৃষ্টি?

 

 

জানি, তোমার অনুভুতির কংক্রিটের দেয়ালে আমার আর্তি কখনো পৌঁছবে না।
তোমার মনের খুব গহীনে লুকিয়ে থাকা নরম রোদের মিষ্টি ছোঁয়ার
কখনোই জীবনের উষ্ণতা ফিয়ে পাওয়া হবে না।
তবুও তো ভালোবাসি!
শুধু তোমাকেই ভালোবাসি।
তাই অনুভূতির সকল কল্পনায় তোমাকে জড়িয়ে রেখেই আমি গাইতে চাই,,
জীবনের গান।
শুনবে?

 

 

 


সেই জানালা

 

 

যখন আমার বিষন্নতার সন্ধ্যা শেষে, ধীরে ধীরে আঁধার নামে।
প্রবল সুখে খুব গোপনে জানলা খুলি।
তাকিয়ে দেখি, সেই জানালা বন্ধ এখন!
চৈতি হাওয়া, জুঁইয়ের সুভাষ আগের মতোই।
পায়রা গুলো খোপের মাঝে ঘুমিয়ে গেছে। 
কালো কুকুর, সাদা বিড়াল সবাই দেখি আগের মতো আপন নীড়ে।
শুধু তোমার সেই জানালা বন্ধ এখন।

 

 

সেই তো আমি আগের মতোই, জানলা খুলে চেয়ে আছি।
চেয়ে আছি আগের মতোই তোমার আশায়।
এইতো ভাবি হঠাৎ বুঝি সরবে পর্দা, জ্বলবে আলো।
হাসবে তুমি আগের মতোই।
নবীন আলোয়া চোখাচোখি, 
বইয়ের পাতা খোলা রেখে, কলম মুখে ডাকাকি।
নিঃশব্দের অনেক গল্পে মনের কথা বলে দেয়া,
আবেগ দিয়ে স্বপ্ন এঁকে কোথায় যেন হারিয়ে যাওয়া।

 


হঠাৎ করেই নিভবে আলো, দুই জানালা লুকিয়ে যাবে অন্ধকারে।
সন্তর্পণে দরজা খুলে বেরিয়ে যাবো আগের মতোই।
কাল কেউটে, ভুতের ভয়কে হারিয়ে দিয়ে
আমি তোমার জানালা ধরে দাঁড়িয়ে রবো আগেই মতোই। 
আগের মতোই, আগের মতোই ।

 

 

কতো আবেগ গল্প মেখে সেই জানালা বন্ধ এখন।
বুকের মাঝে করুন সুরের গল্প মেখে তাকিয়ে থাকি আগের মতোই ঠিক সময়ে।
খুলবে বুঝি সেই জানালা। হাসবে তুমি দেখবো আমি, আগের মতোই।
হঠাৎ করেই কই হারালে বন্ধ করে এই জানালা?
গল্প কথার স্বপ্ন গুলো হঠাৎ করেই নিভিয়ে দিলে কোন খেয়ালে?
হারিয়ে গেলে অস্তাচলে।
হারিয়ে গেলে অস্তাচলে, কোন খেয়ালে?

 

 

 


স্বাধীনতা
 

 

 

আমার সাথে খেলবে তুমি তেমন খেলা ভাই,
যেমন খেলা খেলেই আমি অবাক মজা পাই।

 

 

তুমি খেলো তোমার মতো তোমার সবুজ মাঠে,
যেথায় ওড়ে রঙিন ঘুড়ি নাটাই তোমার হাতে।
সেথায় আমি শুভ্র সারস কোথায় রাখি পা,
কোথায় বলো আমার প্রিয় ঝিলের আঙিনা?

 

 

আমার সবুজ মাঠে দেখো জায়গা অবারিত,
তোমার জন্য মুক্ত আছে খেলতে পারো যত।
শুধু তুমি উড়বে নাকো রঙিন ঘুড়ির মাঝে,
ওটা দেখতে বিশ্রী যে একেবারেই বাজে।

 

 

আমি হলাম সারস পাখি উড়ে মজা পাই,
তাই তো তোমার মাঠে যেতে চাই না ভাই।
চাই না তোমার সবুজ বনের রঙিন বনলতা,
নীল আকাশ আর ঝিলের জলেই আমার স্বাধীনতা

 

 

 


প্রণয় কাব্য

 

 

আমি হংস বলাকা নই
তবু ডানা মেলি মনে মনে ,
হৃদ প্রনয়ের রং ছড়িয়ে
উড়ে যাই তোমার পানে ।

 

 

ভালোবাসার বর্ণ ছটায়
আকাশ রাঙায় রংধনুতে ,
কেঁপে ওঠে চঞ্চু আমার
তোমার রাঙা অধর দেখে।

 

 

অমানিশার গ্রহণ কালে
জেগে রয় ধ্রুব তারা ,
আমি থাকি নেশায় ডুবে
তোমাতেই পাগলপারা।

 

 

তোমারি চুলের খোপায়
ভ্রমরের লুকোচুরি ,
বুঝে নাও , ভ্রমর না সে
আমারই উড়াউড়ি।

 

 

ভালোবাসার ঝরনা ধারায়
ভেসে যাই তোমায় নিয়ে ,
হৃদয়ের শুন্যতা সব
ভরে ওঠে তোমায় পেয়ে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow