শুমারিতে বিএনপি নেতাদের স্ত্রী-সন্তান ও আত্মীয়দের নিয়োগ, সমালোচনার ঝড়
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক সুপারিশের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বঞ্চিত নিয়োগ প্রত্যাশীরা ইউএনও এবং রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে পোস্ট করে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ের নোটিশ বোর্ড ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। জানা যায়, গত ১ থেকে ৪ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১৩ জন সুপারভাইজারের বিপরীতে ১২৫ জন ও ১২৯ জন তথ্য সংগ্রহকারীর বিপরীতে ৯৫৪ জন অংশ নেন। অভিযোগকারীদের দাবি, স্থানীয় প্রভাবশালী বিএনপি নেতাদের সুপারিশের ভিত্তিতে তাদের স্ত্রী, সন্তান ও নিকট আত্মীয়-স্বজনদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমনকি একই পরিবারের দুই থেকে তিনজন সুপারিশের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করছেন তারা। তাদের অভিযোগ, পরীক্ষায় ভালো ফল করেও অনেক মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থী চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। এতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ ও চূড়া
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক সুপারিশের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বঞ্চিত নিয়োগ প্রত্যাশীরা ইউএনও এবং রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে পোস্ট করে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ের নোটিশ বোর্ড ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
জানা যায়, গত ১ থেকে ৪ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১৩ জন সুপারভাইজারের বিপরীতে ১২৫ জন ও ১২৯ জন তথ্য সংগ্রহকারীর বিপরীতে ৯৫৪ জন অংশ নেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, স্থানীয় প্রভাবশালী বিএনপি নেতাদের সুপারিশের ভিত্তিতে তাদের স্ত্রী, সন্তান ও নিকট আত্মীয়-স্বজনদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমনকি একই পরিবারের দুই থেকে তিনজন সুপারিশের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করছেন তারা।
তাদের অভিযোগ, পরীক্ষায় ভালো ফল করেও অনেক মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থী চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। এতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ ও চূড়ান্ত তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, রায়গঞ্জ পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে ৯ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি হাতেম আলী সুজনের মেয়ে নাদিয়া আফরিন শুচি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল হাসান মিরনের মেয়ে মার্জিয়া খাতুন মেঘা, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রোম বাদশাহ সরকারের মেয়ে নুসরাত নাহার রজনী ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব হাছিবুর রহমানকে রাজনৈতিক সুপারিশে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এছাড়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও আসন্ন ধানগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ-প্রার্থী হাসান ইকবাল সোহাগের স্ত্রী আফরোজা পারভীন লাকীকে সুপারভাইজার ও তার দুই ভাতিজাকে তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এমন স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক সুপারিশের অভিযোগ শুধু রায়গঞ্জ পৌরসভা ও ধানগড়া ইউনিয়নেই নয়। উপজেলার চান্দাইকোনা, নলকা, পাঙ্গাসী, ঘুড়কা, ধুবিল, ধামাইনগর, ব্রম্মগাছা ও সোনাখাড়া ইউনিয়নেও রয়েছে।
জাতীয় ছাত্র শক্তি উপজেলা শাখার সদস্য সচিব রেজুয়ান হাসান সিফাত জাগো নিউজকে বলেন, যোগ্যতা ও মেধার পরিবর্তে যদি সুপারিশই নিয়োগ হয়, তাহলে এতো ঢাকঢোল পিটিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন কি? তিনি এই নিয়োগের সুষ্ঠু তদন্ত করে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তবে স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক সুপারিশের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইলিয়াস হাসান শেখ। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, এই নিয়োগ পরীক্ষায় কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি ও সুপারিশ আমলে নেওয়া হয়নি। মেধার ভিত্তিতে ১২৯ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ১৩ জন সুপারভাইজার হিসেবে উত্তীর্ণ হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল খালেক পাটোয়ারীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোনটি অন্য একজন রিসিভ করে বলেন স্যার একটু অসুস্থ পরে ফোন দেন।
এম এ মালেক/কেএইচকে/এএসএম
What's Your Reaction?