শেয়ারবাজারে ব্যাপক দরপতন, কমেছে লেনদেনের গতি
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দেশের শেয়ারবাজারে ব্যাপক দরপতন হয়েছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার পাশাপাশি মূল্য সূচকের বড় পতন হয়েছে। সেই সঙ্গে ডিএসইতে কমেছে লেনদেনের গতি। এর আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর রোববার (১ মার্চ) লেনদেনের শুরুতেই ডিএসইর প্রধান সূচক ২২৩ পয়েন্ট কমে যায়। তবে পরবর্তীতে পতনের মাত্রা কিছুটা কমে। এরপরও দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক কমে ১৩৮ পয়েন্ট। এই পতনের পর সোমবার সূচকটি ৭২ পয়েন্ট বাড়ে। তবে মঙ্গলবার ২০৮ পয়েন্ট কমে যায়। এরপর গতকাল বুধবার (৪ মার্চ) সূচকটি কমে ২ পয়েন্ট। এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই দাম কমার তালিকায় চলে আসে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান। আর লেনদেনের শেষদিকে ঢালাও দরপতন হয়। এতে দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম ল
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দেশের শেয়ারবাজারে ব্যাপক দরপতন হয়েছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার পাশাপাশি মূল্য সূচকের বড় পতন হয়েছে। সেই সঙ্গে ডিএসইতে কমেছে লেনদেনের গতি।
এর আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর রোববার (১ মার্চ) লেনদেনের শুরুতেই ডিএসইর প্রধান সূচক ২২৩ পয়েন্ট কমে যায়। তবে পরবর্তীতে পতনের মাত্রা কিছুটা কমে। এরপরও দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক কমে ১৩৮ পয়েন্ট। এই পতনের পর সোমবার সূচকটি ৭২ পয়েন্ট বাড়ে। তবে মঙ্গলবার ২০৮ পয়েন্ট কমে যায়। এরপর গতকাল বুধবার (৪ মার্চ) সূচকটি কমে ২ পয়েন্ট।
এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই দাম কমার তালিকায় চলে আসে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান। আর লেনদেনের শেষদিকে ঢালাও দরপতন হয়।
এতে দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে মাত্র ৫২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ৩০৮টির। আর ৩৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২২টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৬৫টির দাম কমেছে এবং ১৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ১২টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ৬০টির দাম কমেছে এবং ৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৮টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৮৩টির এবং ৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে একটির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২২টির দাম কমেছে এবং ১১টির দাম অপরিবর্তিত আছে।
অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৮২ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৪০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৪৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৩৩ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১ পয়েন্টে নেমে গেছে।
মূল্য সূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪৫৯ কোটি ৪২ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫৮২ কোটি ৩৭ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ১২২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার। কোম্পানিটির ৩২ কোটি ২৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিটি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৫ কোটি ২২ লাখ টাকার। ১২ কোটি ৬৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—সামিট এলায়েন্স পোর্ট, ইনটেক লিমিটেড, রবি, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরি, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস এবং ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ১৯২ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮১ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪১টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১২৬টির এবং ১৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৪১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।
এমএএস/এমএমকে
What's Your Reaction?