‘শেষ বয়সে এসে হলেও নিজের ঘর পেলাম’

এক হাতে ক্রাচ, অন্য হাতে ঘরের প্রতীকী চাবি। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া আবুল কালামের মুখে তখন প্রশান্তির ছাপ। চারপাশে মানুষের ভিড়, সামনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জীবনের দীর্ঘ সংগ্রামের পর প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে চাবি নেওয়ার মুহূর্তটি যেন তার জীবনের নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করে। ঘর পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে আবুল কালাম বলেন, ‘নিজের একটা নিরাপদ ঘর হবে এটা অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল। এখন সেই স্বপ্নপূরণ হয়েছে। জীবনের শেষ সময়ে এসে হলেও পরিবারের জন্য একটা নিরাপদ আশ্রয় পেলাম, এটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।’ রোববার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে সহায়তা ও নতুন ঘরের চাবি বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পুঁইছড়ি ইউনিয়নের কৃষক আবুল কালাম ছিলেন চাবি পাওয়া ১০০ পরিবারের একজন। তার হাতে তুলে দেওয়া প্রতীকী চাবিতে লেখা ছিল ‘প্রধানমন্ত্রীর উপহার’। ক্রাচে ভর দিয়ে থাকা কালামের হাতে চাবি তুলে দেওয়ার দৃশ্যটি উপস্থিত অনেকের দৃষ্টি কাড়ে। কৃষিকাজ করেই সংসার চালান আবুল কালাম। সীমিত আয়ে পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে গিয়ে নিজের বসতঘর নির্মাণের সামর্থ্য হয়ে ওঠেনি। বছরের প

‘শেষ বয়সে এসে হলেও নিজের ঘর পেলাম’
এক হাতে ক্রাচ, অন্য হাতে ঘরের প্রতীকী চাবি। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া আবুল কালামের মুখে তখন প্রশান্তির ছাপ। চারপাশে মানুষের ভিড়, সামনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জীবনের দীর্ঘ সংগ্রামের পর প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে চাবি নেওয়ার মুহূর্তটি যেন তার জীবনের নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করে। ঘর পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে আবুল কালাম বলেন, ‘নিজের একটা নিরাপদ ঘর হবে এটা অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল। এখন সেই স্বপ্নপূরণ হয়েছে। জীবনের শেষ সময়ে এসে হলেও পরিবারের জন্য একটা নিরাপদ আশ্রয় পেলাম, এটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।’ রোববার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে সহায়তা ও নতুন ঘরের চাবি বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পুঁইছড়ি ইউনিয়নের কৃষক আবুল কালাম ছিলেন চাবি পাওয়া ১০০ পরিবারের একজন। তার হাতে তুলে দেওয়া প্রতীকী চাবিতে লেখা ছিল ‘প্রধানমন্ত্রীর উপহার’। ক্রাচে ভর দিয়ে থাকা কালামের হাতে চাবি তুলে দেওয়ার দৃশ্যটি উপস্থিত অনেকের দৃষ্টি কাড়ে। কৃষিকাজ করেই সংসার চালান আবুল কালাম। সীমিত আয়ে পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে গিয়ে নিজের বসতঘর নির্মাণের সামর্থ্য হয়ে ওঠেনি। বছরের পর বছর সেই আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণই থেকে যায়। শেষ বয়সে এসে নতুন ঘরের চাবি হাতে পেয়ে সেই অপেক্ষার অবসান হলো। আবুল কালামের মতো আরও ৯৯টি পরিবার এদিন ঘরের চাবি পেয়েছে। তাদের মধ্যে ছিলেন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত, গৃহহীন ও দীর্ঘদিন ধরে আবাসন সংকটে থাকা পরিবার। নতুন ঘরের চাবি হাতে পেয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন অনেকে। সাম্প্রতিক বন্যায় বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকায় বসতঘর, কৃষি ও মৎস্যসম্পদের ক্ষতি হয়। উপকূলীয় নিম্নাঞ্চলের অনেক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ে। পানির তোড়ে ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় কোথাও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আবার কোথাও বসতঘর বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর দুর্ভোগ বেড়ে যায়। বন্যার পর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য খাদ্য ও জরুরি সহায়তার পাশাপাশি পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাহারছড়ার অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে ত্রাণ তুলে দেওয়ার পাশাপাশি ১০০ পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি দেওয়া হয়। পুইছড়ির আরেক উপকারভোগী লক্ষ্মী দাশ বলেন, ‘ঘর পাওয়া আমাদের কাছে অনেক বড় পাওয়া। নিজের একটা নিরাপদ ঠিকানা থাকবে ভাবতেই ভালো লাগছে। দীর্ঘদিনের কষ্টের পর পরিবারের জন্য স্থায়ী একটি ঠিকানা পাওয়ায় তাদের দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমেছে বলে জানান লক্ষ্মী দাশ। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়েও এখন আগের চেয়ে স্বস্তিতে থাকতে পারবেন বলে জানান তিনি।’ বাঁশখালী উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকা। বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রতিবছরই ক্ষতিগ্রস্ত হন এখানকার মানুষ। কৃষি, মৎস্য ও দিনমজুরির ওপর নির্ভরশীল নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা পুনর্নির্মাণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দুর্যোগের পর ত্রাণ মানুষের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটায়। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে স্থায়ীভাবে পুনর্বাসন করা গেলে তারা দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে। এ কারণে নতুন ঘর পাওয়াকে তারা দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।  

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow