শ্রমিক সংকটে হাওরে ধান কাটলেন ইউএনও

শ্রমিক সংকট ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ধান কাটতে না পেরে বিপাকে পড়া কৃষকদের পাশে দাঁড়ালেন দিরাই উপজেলা প্রশাসন। ছুটির দিনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে দরিদ্র কৃষকদের জমির পাকা ধান কেটে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজীব সরকার। শুক্রবার (১ মে) উপজেলার বরাম হাওরে নরোত্তমপুর গ্রামের তিন কৃষকের প্রায় চার কেদার বোরো জমির পাকা ধান কাটেন বিভিন্ন দপ্তরের প্রায় ৪৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। এতে উপকারভোগী কৃষক পরিবারের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে। কৃষক লুৎফুর রহমান জানান, তার জমির ধান ৮-১০ দিন আগেই কাটার উপযোগী ছিল। কিন্তু শ্রমিকের উচ্চ মজুরির কারণে তিনি ধান কাটাতে পারছিলেন না। চার সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে সংসারে অন্য কোনো উপার্জনক্ষম ব্যক্তি না থাকায় চরম বিপাকে পড়েন তিনি। ইউএনও’র উদ্যোগে ধান কেটে দেওয়ায় তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। কৃষাণী জোছনা বেগম বলেন, স্বামী পরিত্যক্ত হওয়ার পর প্রতিবন্ধী ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দেড় কেদার জমিতে চাষ করা ধানই ছিল তার পরিবারের একমাত্র ভরসা। কিন্তু শ্রমিক সংকট ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ধান কাটতে না পেরে তিনি দুশ্চি

শ্রমিক সংকটে হাওরে ধান কাটলেন ইউএনও

শ্রমিক সংকট ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ধান কাটতে না পেরে বিপাকে পড়া কৃষকদের পাশে দাঁড়ালেন দিরাই উপজেলা প্রশাসন। ছুটির দিনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে দরিদ্র কৃষকদের জমির পাকা ধান কেটে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজীব সরকার।

শুক্রবার (১ মে) উপজেলার বরাম হাওরে নরোত্তমপুর গ্রামের তিন কৃষকের প্রায় চার কেদার বোরো জমির পাকা ধান কাটেন বিভিন্ন দপ্তরের প্রায় ৪৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। এতে উপকারভোগী কৃষক পরিবারের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে।

কৃষক লুৎফুর রহমান জানান, তার জমির ধান ৮-১০ দিন আগেই কাটার উপযোগী ছিল। কিন্তু শ্রমিকের উচ্চ মজুরির কারণে তিনি ধান কাটাতে পারছিলেন না। চার সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে সংসারে অন্য কোনো উপার্জনক্ষম ব্যক্তি না থাকায় চরম বিপাকে পড়েন তিনি। ইউএনও’র উদ্যোগে ধান কেটে দেওয়ায় তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

কৃষাণী জোছনা বেগম বলেন, স্বামী পরিত্যক্ত হওয়ার পর প্রতিবন্ধী ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দেড় কেদার জমিতে চাষ করা ধানই ছিল তার পরিবারের একমাত্র ভরসা। কিন্তু শ্রমিক সংকট ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ধান কাটতে না পেরে তিনি দুশ্চিন্তায় ছিলেন। পরে প্রশাসনের সহায়তায় তার জমির ধান কেটে দেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ধান কাটার এই উদ্যোগে অংশ নেন ইউএনও সনজীব সরকার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনোরঞ্জন অধিকারী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল কাইয়ুমসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

ইউএনও সনজীব সরকার বলেন, সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যে দিরাই উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ধান উৎপন্ন হয়। চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকেরা ব্যাপক সমস্যায় পড়েছেন। পাশাপাশি যান্ত্রিক কৃষির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ায় শ্রমিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, ছুটির দিনে আমরা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একসঙ্গে মাঠে নেমেছি। সামান্য এই উদ্যোগ যদি কৃষকের কিছুটা কষ্ট লাঘব করে, সেটিই আমাদের সার্থকতা।

তিনি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে কৃষকদের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow