সারাবিশ্বেই অন্যতম জনপ্রিয় নাশতা হলো দুধ আর কর্নফ্লেক্স। সহজে বানানো যায় বলে অনেকে সকালের নাশতায় এটি বেছে নেন। কেউ কেউ আবার সকালে দুধ দিয়ে মিল্কশেক, স্মুদি বানিয়ে খান। সাধারণত দুধ প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, ভিটামিন পুষ্টিতে ভরপুর। ছোট থেকে বড় প্রত্যেকের ডায়েটে দুধ থাকা জরুরি। কিন্তু খালি পেটে দুধ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই সকালের নাশতায় দুধ এড়িয়ে যেতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ সকালে খালি পেটে দুধ খেলে শরীরে নানান সমস্যা দেখা দিতে পারে।
পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা জানান, দুধ একটি কমপ্লিট-মিল। একটি ভারি খাবার, যা হজমের জন্য সকাল বেলা অনেকের পাকস্থলী প্রস্তুত থাকে না। শরীর ভেদে এই প্রবণতা ভিন্ন হয়। তাই শরীর কেমন প্রতিক্রিয়া দেয় তার ওপর নির্ভর করে দুধ বা অন্যান্য খাদ্য গ্রহণের সময় নির্ধারণ করা উচিত।
শরীরে কী কী সমস্যা হতে পারে-
বদহজম হতে পারে
খালি পেটে দুধ খেলে হজম হতে বেশি সময় নেয়। তাই বদহজম, গ্যাস, পেটে ব্যথা, অম্বলের সমস্যা দেখা দিতে পারে। দুধে ল্যাকটোজ থাকে, যা এক ধরনের প্রাকৃতিক শর্করা। অনেক সময়ে এই উপাদান পেট খারাপের কারণ হতে পারে।
ইনসুলিন বৃদ্ধি পেতে পারে
খালি পেটে দুধ খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করতে পারে। দুধে ল্যাকটোজ শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।
অন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে
খালি পেটে দুধ খেলে অন্ত্রে থাকা ভালো ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে পারে। তাছাড়া দুধে ফাইবার থাকে না, তাই এটি অন্ত্রকে রক্ষা করতে পারে না। ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স হলেও এই ধরনের সমস্যা আরও বেশি দেখা দেয়। কারো কারো ক্ষেত্রে খালি পেটে দুধ খেলে ওজন বাড়িয়ে তোলে।
অ্যালার্জি সমস্যা হতে পারে
যাদের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স আছে অথবা যাদের দুধে থাকা প্রোটিনে অ্যালার্জি আছে, তাদের পেট এবং হজমের অন্যান্য সমস্যা হতে পারে।
কোন সময়ে দুধ খাওয়া উচিত?
খালি পেটে দুধ না খেলেও সকালবেলা খাওয়ার পরে দুধ খেতে পারেন। তবে সঙ্গে কী খাচ্ছেন, সেদিকে অবশ্যই নজর দিতে হবে। এমন কোনো খাবার খাওয়া যাবে না, যা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা বাড়িয়ে তোলে।
আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে দুধ খাওয়ার আদর্শ সময় বিকেল কিংবা সন্ধ্যা। এ সময় দুধ খেলে সহজে হজম হয়। পেট দীর্ঘ সময়ের জন্য ভরা থাকে। শরীরকে পুনরুজ্জীবিত করতে সাহায্য করে। স্নায়ু শিথিল থাকে তাই রাতে ভালো ঘুম হয়। তবে যাদের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্ট আছে তারা দুধের বদলে সয়ামিল্ক বা আমন্ড মিল্ক খেতে পারেন।
সূত্র: এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া
আরও পড়ুন
এসএকেওয়াই/কেএসকে/এমএস