সন্তানকে শান্ত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় এটি

শিশু রেগে গেলে বা হঠাৎ কান্না শুরু করলে অনেক সময় মা-বাবা দ্রুত থামাতে চান – ‘চুপ করো’, ‘কাঁদবে না’, ‘বুঝে কথা বলো।’ কিন্তু সেই মুহূর্তে সাধারণত শিশুটি কিছুই শুনতে চায় না। কিন্তু অস্থির মুহূর্তে শিশুকে শান্ত করার সবচেয় কার্যকর পদ্ধতিটি কথা বলা বা ধমক দেওয়া না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে স্নেহপূর্ণ স্পর্শ অনেক সময় শিশুকে দ্রুত শান্ত করতে সাহায্য করে। স্পর্শ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা বলছে, কোমল ও নিরাপদ স্পর্শ মানুষের স্নায়ুতন্ত্রে সরাসরি প্রভাব ফেলে। শিশুর মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়া, কাঁধে আলতো করে হাত রাখা বা মুখে স্নেহভরা স্পর্শ - এসব ছোট ছোট আচরণ শরীরে স্ট্রেস হরমোন কমাতে সাহায্য করতে পারে এবং ভালো অনুভূতির হরমোন অক্সিটোসিন নিঃসরণ বাড়ায়। প্রথমে শান্তি, তারপর বোঝানো অনেক সময় শিশুরা খুব বেশি আবেগের মধ্যে থাকলে যুক্তি বা উপদেশ বুঝতে পারে না। এমন মুহূর্তে প্রথম কাজ হলো শিশুর শরীর ও মনকে শান্ত করা। যখন শিশু ধীরে ধীরে স্বস্তি পায়, তখনই সে কথা শুনতে বা পরিস্থিতি বুঝতে পারে। কো-রেগুলেশন কী মনোবিজ্ঞানীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণার কথা বলেন - কো-রেগুলেশন। এর অর্থ হলো, ছোট শিশুরা নিজের আবেগ ন

সন্তানকে শান্ত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় এটি

শিশু রেগে গেলে বা হঠাৎ কান্না শুরু করলে অনেক সময় মা-বাবা দ্রুত থামাতে চান – ‘চুপ করো’, ‘কাঁদবে না’, ‘বুঝে কথা বলো।’ কিন্তু সেই মুহূর্তে সাধারণত শিশুটি কিছুই শুনতে চায় না।

কিন্তু অস্থির মুহূর্তে শিশুকে শান্ত করার সবচেয় কার্যকর পদ্ধতিটি কথা বলা বা ধমক দেওয়া না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে স্নেহপূর্ণ স্পর্শ অনেক সময় শিশুকে দ্রুত শান্ত করতে সাহায্য করে।

স্পর্শ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

গবেষণা বলছে, কোমল ও নিরাপদ স্পর্শ মানুষের স্নায়ুতন্ত্রে সরাসরি প্রভাব ফেলে। শিশুর মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়া, কাঁধে আলতো করে হাত রাখা বা মুখে স্নেহভরা স্পর্শ - এসব ছোট ছোট আচরণ শরীরে স্ট্রেস হরমোন কমাতে সাহায্য করতে পারে এবং ভালো অনুভূতির হরমোন অক্সিটোসিন নিঃসরণ বাড়ায়।

প্রথমে শান্তি, তারপর বোঝানো

অনেক সময় শিশুরা খুব বেশি আবেগের মধ্যে থাকলে যুক্তি বা উপদেশ বুঝতে পারে না। এমন মুহূর্তে প্রথম কাজ হলো শিশুর শরীর ও মনকে শান্ত করা। যখন শিশু ধীরে ধীরে স্বস্তি পায়, তখনই সে কথা শুনতে বা পরিস্থিতি বুঝতে পারে।

সন্তানকে শান্ত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় এটি

কো-রেগুলেশন কী

মনোবিজ্ঞানীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণার কথা বলেন - কো-রেগুলেশন। এর অর্থ হলো, ছোট শিশুরা নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে মূলত বড়দের আচরণ দেখে। মা-বাবা যদি শান্ত থাকেন, নরম স্বরে কথা বলেন এবং আশ্বস্ত করেন, তাহলে শিশুও ধীরে ধীরে শান্ত হতে শেখে। তাই বাবা-মায়ের সহানুভূতিশীল আচরণ শিশুর আবেগ নিয়ন্ত্রণ শেখার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে।

শিশু খুব অস্থির হলে কী করবেন

শিশু যখন খুব উত্তেজিত বা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকে, তখন কয়েকটি সহজ বিষয় কাজে লাগতে পারে -

১. আলতো স্পর্শ দিন
মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়া বা কাঁধে হাত রাখা শিশুকে নিরাপদ বোধ করাতে পারে। শিশু রাজি থাকলে তাকে জড়িয়ে ধরুন।

২. নরম স্বরে কথা বলুন
চিৎকার বা কঠোর স্বর পরিস্থিতি আরও উত্তেজিত করতে পারে। তাই অস্থির সময়ে শিশুর সঙ্গে ধৈর্য ধরে নরম স্বরে কথা বলুন।

৩. কাছাকাছি থাকুন
শিশু যেন নিজেকে একা বোধ না করে, তাই তার আশেপাশেই থাকুন।

সন্তানকে শান্ত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় এটি

শিশুর কাছে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা হলো, মা-বাবার উপস্থিতি ও ভালোবাসা। তাই আপনার ভলোবাসাই তাকে সব থেকে দ্রুত শান্ত করে যুক্তি বোঝার মতো অবস্থায় নিয়ে আসতে পারে।

সূত্র: হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল, আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ, সেন্টার অন দ্য ডেভেলপিং চাইল্ড হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি

এএমপি/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow