সরকারি কর্মচারী স্বামীর পরকীয়ায় বাধা, নির্যাতনের শিকার স্কুলশিক্ষিকা স্ত্রী

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলা পরিষদের সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর (সিএ) রনজিৎ হালদারের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৩ জুন) সন্ধ্যার পর তাকে মাটিতে ফেলে বেদম মারধর করেছেন রনজিৎ হালদার। স্বামীর মারধরে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিচার দাবি করেছেন স্ত্রী পপি রানী মিস্ত্রী। নির্যাতিতা পপি রানী উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা পদে চাকরি করছেন। পপি রানী মিস্ত্রীর অভিযোগ, স্বামী রনজিৎ হালদার দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ায় জড়িত এবং এতে বাধা দেওয়ায় তাকে নিয়মিত প্রায়ই নির্যাতন করা হয়। বুধবার সন্ধ্যার পরও তাকে বেদম মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।  পপি রানী জানান, তাদের সংসারে দুই শিশু সন্তান রয়েছে। দুই বছর ধরে তার স্বামী পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েছেন। এতে বাধা দিলে নানা অজুহাতে মারধর করা হয়। এমনকি পপি রানী মিস্ত্রী নিজের চাকরির বেতনও তুলতে পারেন না। নতুন মাস এলেই রনজিৎ তাকে মারধর করে চেকে অগ্রিম স্বাক্ষর নিয়ে বেতন উঠিয়ে নেন রনজিৎ হালদার। তিনি আরও জানান, এর আগেও নির্যাতনের ঘটনায় তৎকালীন ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল

সরকারি কর্মচারী স্বামীর পরকীয়ায় বাধা, নির্যাতনের শিকার স্কুলশিক্ষিকা স্ত্রী

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলা পরিষদের সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর (সিএ) রনজিৎ হালদারের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (৩ জুন) সন্ধ্যার পর তাকে মাটিতে ফেলে বেদম মারধর করেছেন রনজিৎ হালদার। স্বামীর মারধরে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিচার দাবি করেছেন স্ত্রী পপি রানী মিস্ত্রী। নির্যাতিতা পপি রানী উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা পদে চাকরি করছেন।

পপি রানী মিস্ত্রীর অভিযোগ, স্বামী রনজিৎ হালদার দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ায় জড়িত এবং এতে বাধা দেওয়ায় তাকে নিয়মিত প্রায়ই নির্যাতন করা হয়। বুধবার সন্ধ্যার পরও তাকে বেদম মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। 

পপি রানী জানান, তাদের সংসারে দুই শিশু সন্তান রয়েছে। দুই বছর ধরে তার স্বামী পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েছেন। এতে বাধা দিলে নানা অজুহাতে মারধর করা হয়। এমনকি পপি রানী মিস্ত্রী নিজের চাকরির বেতনও তুলতে পারেন না। নতুন মাস এলেই রনজিৎ তাকে মারধর করে চেকে অগ্রিম স্বাক্ষর নিয়ে বেতন উঠিয়ে নেন রনজিৎ হালদার।

তিনি আরও জানান, এর আগেও নির্যাতনের ঘটনায় তৎকালীন ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন, তবে কোনো প্রতিকার পাননি নির্যাতিতা পপি রানী। তার ভাষ্য, স্বামীর আচরণের কারণে ঘরে কোনো কাজের লোক থাকতে পারে না। কিছুদিন আগে বেড়াতে এসে স্বামীর আচরণে সেদিন রাতেই বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন তার বোন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় ওই রাতেও পপিকে নির্মমভাবে নির্যাতন করেছেন স্বামী রনজিৎ হালদার। বুধবার সন্ধ্যায় তাকে মাটিতে ফেলে এলোপাতাড়ি মারধর করে রক্তাক্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

পপির বোন ও স্কুলশিক্ষিকা শিল্পি মিস্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, রনজিৎ হালদার লোভী ও সুদের কারবারের সঙ্গে জড়িত। আর্থিক লেনদেন ও পারিবারিক নানা বিষয়ে কথা বলায় তার বোনকে মারধর করা হয়েছে। তার দাবি, রনজিৎ পরকীয়ায় আসক্ত এবং এ নিয়ে প্রতিবাদ করলেই বোনের উপর নির্যাতন চালান রনজিৎ।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে রনজিৎ হালদার বলেন, আমি স্ত্রীকে মারিনি। সে নাটক সাজিয়ে হাসপাতালে গেছে। এ সময় পরকীয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন।

নেছারাবাদ থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান বলেন, ভুক্তভোগী থানায় এসেছিলেন। তাকে চিকিৎসা নিয়ে এসে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত বলেন, অফিসের কাজে সকালে জেলায় যাব। দুপুরের পরে আমার কাছে এলে ভুক্তভোগী ওই স্কুলশিক্ষিকার অভিযোগ আমি নিজে শুনব। শুনে প্রয়োজনে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow