সরকারি পাটকলের ১৪টি ইজারায় গেছে, চালুর প্রক্রিয়ায় আরও ৭
দেশে সরকারি ২৫টি পাটকলের সবগুলোই একসময় বন্ধ থাকলেও এরই মধ্যে ১৪টি বেসরকারি খাতে ইজারায় গেছে। সেই সঙ্গে আরও সাতটি একইভাবে চালুর প্রক্রিয়ায় আছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সচিবালয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। জাতীয় পাট দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি। এসময় জানানো হয়, ‘পাটশিল্প গড়ে তুলুন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুন’ এই প্রতিপাদ্যের এবারের পাট দিবসের অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। ৬ মার্চ অনলাইনে তিনি এই দিবসের কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। দেশে বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো ধাপে ধাপে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে সচিব বিলকিস জাহান বলেন, বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) আওতায় ২৫টি পাটকল আছে। বন্ধ এসব মিলের মধ্যে ১৪টি এরই মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ইজারার আওতায় আনা হয়েছে এবং আরও সাতটি চালুর প্রক্রিয়া চলছে। তিনি জানান, সরকার পাটশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। যেসব পাটকল এরই মধ্যে চালু হয়েছে ব
দেশে সরকারি ২৫টি পাটকলের সবগুলোই একসময় বন্ধ থাকলেও এরই মধ্যে ১৪টি বেসরকারি খাতে ইজারায় গেছে। সেই সঙ্গে আরও সাতটি একইভাবে চালুর প্রক্রিয়ায় আছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সচিবালয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। জাতীয় পাট দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি।
এসময় জানানো হয়, ‘পাটশিল্প গড়ে তুলুন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুন’ এই প্রতিপাদ্যের এবারের পাট দিবসের অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। ৬ মার্চ অনলাইনে তিনি এই দিবসের কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন।
দেশে বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো ধাপে ধাপে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে সচিব বিলকিস জাহান বলেন, বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) আওতায় ২৫টি পাটকল আছে। বন্ধ এসব মিলের মধ্যে ১৪টি এরই মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ইজারার আওতায় আনা হয়েছে এবং আরও সাতটি চালুর প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি জানান, সরকার পাটশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। যেসব পাটকল এরই মধ্যে চালু হয়েছে বা চালুর প্রক্রিয়ায় রয়েছে, সেগুলো বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে। বাকি মিলগুলোও পর্যায়ক্রমে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যাগ ব্যবহারে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে সচিব বলেন, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এবং জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় পাটজাত ব্যাগ ব্যবহারের প্রচার বাড়ানো হচ্ছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় প্রথমবারের মতো প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহার করা হয়নি। সেখানে পাটের ব্যাগ ও জুট কটন ব্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে পাটের ব্যাগ ব্যবহারে উৎসাহ দিতে অনেক জায়গায় ভর্তুকি মূল্যে ব্যাগ বিক্রি করা হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, যে ব্যাগ তৈরি করতে প্রায় ১০০ টাকা খরচ হয়, সেটি ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
এসময় প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, সরকারি বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রমেও পাটের ব্যাগ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে চাল, ডালসহ অন্যান্য পণ্য বিতরণে পাটের ব্যাগ ব্যবহারের বিষয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয় ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
কাঁচা পাট রপ্তানি কমিয়ে পাটের তৈরি পণ্য (ফিনিশড প্রোডাক্ট) উৎপাদনে জোর দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দিতে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার, সনদ ও প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, নতুন সরকার সম্প্রতি দায়িত্ব নেওয়ায় খাতটির বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় পাটশিল্পের প্রতিবন্ধকতা দূর করে উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানোর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা নেওয়া হবে।
কবে নাগাদ বন্ধ পাটকল চালু করা হবে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বন্ধ পাটকল চালুর বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনই জানাতে চাই না। তবে নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে দ্রুত এসব মিল চালুর লক্ষ্যে কাজ চলছে।’
সরকার নিজে মিল পরিচালনা না করে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে সচিব জানান, অতীতে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় অনেক পাটকল দীর্ঘদিন লোকসানে চলেছে। তাই বিনিয়োগ ও দক্ষ পরিচালনার জন্য বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে, আর সরকার নীতিগত সহায়তা ও প্রণোদনা দেবে।
পাটের তৈরি সোনালি ব্যাগ প্রকল্পটি এখন কী অবস্থায় রয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, পাট থেকে তৈরি তথাকথিত সোনালি ব্যাগ প্রকল্পটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে দেখা গেছে, ওই ব্যাগ তৈরিতে ব্যবহৃত কিছু রাসায়নিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সে কারণে বড় পরিসরে উৎপাদনের পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে।
এমএএস/একিউএফ
What's Your Reaction?