সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে অব্যবস্থাপনা, দুর্ভোগে রোগীরা
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের পরিদর্শনের এক সপ্তাহ না পেরোতেই সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে সামনে এসেছে অব্যবস্থাপনার চিত্র। রোববার (২ আগস্ট) দুপুর দেড়টা পর্যন্ত হাসপাতাল প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি।
একই সময়ে চিকিৎসক সংকট, দীর্ঘ রোগীর সারি ও শয্যাসংকটে চিকিৎসাসেবা নিয়েও চরম ভোগান্তিতে পড়েন রোগীরা। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে দুপুর ২টার দিকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা রোগীদের ভিড়ে বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে দীর্ঘ লাইন। অনেক রোগীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। চিকিৎসকের স্বল্পতার কারণে একজন চিকিৎসককে বিপুলসংখ্যক রোগী দেখতে হচ্ছে। আবার কয়েকটি চিকিৎসক কক্ষের দরজায় তালা কিংবা ভেতর থেকে বন্ধ অবস্থাও দেখা যায়। এতে নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসক না পেয়ে রোগীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
শয্যার অভাবে অনেক রোগীকে হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজন জানান, সকালে হাসপাতালে এলেও দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তারা টিকিট কাটতে পারেননি। টিকিট পাওয়ার পরও চিকিৎস
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের পরিদর্শনের এক সপ্তাহ না পেরোতেই সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে সামনে এসেছে অব্যবস্থাপনার চিত্র। রোববার (২ আগস্ট) দুপুর দেড়টা পর্যন্ত হাসপাতাল প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি।
একই সময়ে চিকিৎসক সংকট, দীর্ঘ রোগীর সারি ও শয্যাসংকটে চিকিৎসাসেবা নিয়েও চরম ভোগান্তিতে পড়েন রোগীরা। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে দুপুর ২টার দিকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা রোগীদের ভিড়ে বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে দীর্ঘ লাইন। অনেক রোগীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। চিকিৎসকের স্বল্পতার কারণে একজন চিকিৎসককে বিপুলসংখ্যক রোগী দেখতে হচ্ছে। আবার কয়েকটি চিকিৎসক কক্ষের দরজায় তালা কিংবা ভেতর থেকে বন্ধ অবস্থাও দেখা যায়। এতে নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসক না পেয়ে রোগীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
শয্যার অভাবে অনেক রোগীকে হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজন জানান, সকালে হাসপাতালে এলেও দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তারা টিকিট কাটতে পারেননি। টিকিট পাওয়ার পরও চিকিৎসকের দেখা মিলবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। তাদের অভিযোগ, টিকিট ব্যবস্থাপনা সহজ করা গেলে রোগীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসত।
এদিকে সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রতিদিন সরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও রোববার বেলা দেড়টা পর্যন্ত সদর হাসপাতালে পতাকা উত্তোলন করা হয়নি। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে দুপুর ২টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে।
সমাজকর্মী হোসেন আলী বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন বাধ্যতামূলক। এটি না করা জাতীয় পতাকা বিধিমালা লঙ্ঘনের শামিল। এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক বা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আইনে এ অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আব্দুর রহমান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি এ বিষয়ে সিভিল সার্জনের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম বলেন, আমি ছুটিতে আছি। আমার অবর্তমানে আবাসিক মেডিকেল অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ জুলাই স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করে চিকিৎসক সংকট নিরসনে নতুন নিয়োগের উদ্যোগের কথা জানিয়েছিলেন। পাশাপাশি হাসপাতালের সেবার মান ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের নির্দেশনাও দিয়েছিলেন।
তবে সেই পরিদর্শনের এক সপ্তাহের মধ্যেই জাতীয় পতাকা উত্তোলনে বিলম্ব, চিকিৎসক অনুপস্থিতি ও রোগীদের ভোগান্তির চিত্র হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।