সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের অর্থপাচার মামলায় আরও ৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল) থেকে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তা বিদেশে পাচারের মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তার স্ত্রী রুখমিলা জামানসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে আরও সাতজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (৫ মে) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালতে এ সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়। দুদকের পিপি মোকাররম হোসাইন কালবেলাকে বলেন, গত ৪ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত মোট ১৮ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। আদালত পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২০ মে দিন ধার্য করেছেন। দুদকের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, সাইফুজ্জামান চৌধুরী তার মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপের প্রটোকল অফিসার মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে মালিক সাজিয়ে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে জাল নথিপত্র ব্যবহার করে ইউসিবি ব্যাংকের পোর্ট শাখা থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়।  অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংকের ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগ ১৭টি নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ দিলেও তৎকালীন চেয়ারম্যান রুখমিলা জামানের প্রভাব ও সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সরা

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের অর্থপাচার মামলায় আরও ৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল) থেকে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তা বিদেশে পাচারের মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তার স্ত্রী রুখমিলা জামানসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে আরও সাতজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৫ মে) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালতে এ সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়।

দুদকের পিপি মোকাররম হোসাইন কালবেলাকে বলেন, গত ৪ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত মোট ১৮ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। আদালত পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২০ মে দিন ধার্য করেছেন।

দুদকের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, সাইফুজ্জামান চৌধুরী তার মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপের প্রটোকল অফিসার মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে মালিক সাজিয়ে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে জাল নথিপত্র ব্যবহার করে ইউসিবি ব্যাংকের পোর্ট শাখা থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়। 

অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংকের ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগ ১৭টি নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ দিলেও তৎকালীন চেয়ারম্যান রুখমিলা জামানের প্রভাব ও সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সরাসরি হস্তক্ষেপে এই ঋণ অনুমোদন করা হয়। সাইফুজ্জামান চৌধুরী ব্যাংকটিতে ‘ডি-ফ্যাক্টো’ চেয়ারম্যান হিসেবে নিজের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

ঋণের ২৫ কোটি টাকার মধ্যে প্রায় ১৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা সাইফুজ্জামান চৌধুরীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আরামিট সিমেন্ট ও আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়ামের পুরনো দেনা পরিশোধে ব্যবহৃত হয়। অবশিষ্ট ৯ কোটি ৪১ লাখ টাকা নগদে উত্তোলন করে হুন্ডি ও হাওলা প্রক্রিয়ায় দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়।

১০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ ও ২৩ বস্তা নথি

মামলাটির তদন্তের সময় রুখমিলা জামানের গাড়িচালকের এক প্রতিবেশীর বাসা থেকে ২৩ বস্তা গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও আলামত উদ্ধার করে দুদক। এসব নথিতে বিদেশে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা মূল্যের ১ হাজার ১০০টির বেশি ফ্ল্যাট ও রিয়েল এস্টেট কেনার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর আদালত সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিলেও দুদকের তথ্যমতে, তারা আইন ফাঁকি দিয়ে আগেই বিদেশে চলে গেছেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow