সিলেটে হামে একদিনে ৫ শিশুর মৃত্যু 

সিলেটে একদিনে হাম ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হামের উপসর্গে একদিনে পাঁচ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা এটিই প্রথম। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতের বিভিন্ন সময়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল ও সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়েছে।  এ নিয়ে সিলেট বিভাগে হাম উপসর্গে ৪৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে ২৮৩ জন সন্দেহজনক রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই সময়ে নতুন করে কোনো ল্যাব কনফার্ম হাম রোগী শনাক্ত না হলেও বিভিন্ন হাসপাতালে বেড়েছে সন্দেহজনক রোগীর চাপ। বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম। মৃত্যু হওয়া শিশুরা হলেন, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জের দেবপাড়া গ্রামের আব্দুল মালিকে ৫ মাসের শিশু রাইসা ও  সুনামগঞ্জের ছাতকের ইশাক আলীর ৬ বছর ২৭ দিনের শিশু ছেলে আলী আফসান, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার জগদলের মুসাদ্দিক মিয়ার ১০ মাসের মুসলিমা ও সিলেট সিটি করপোরেশনের জইনপুর শিববাড়ীর বাহরাম আহমদের ১ বছর ২ মাসের শিশু ছেলে মো. রাশেদ আহমদ ও সুনামগঞ্জের শামিমা আহমদ নামের ৪ বছর ২ মাসের মেয়ে। সিলেট বিভাগীয়

সিলেটে হামে একদিনে ৫ শিশুর মৃত্যু 
সিলেটে একদিনে হাম ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হামের উপসর্গে একদিনে পাঁচ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা এটিই প্রথম। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতের বিভিন্ন সময়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল ও সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়েছে।  এ নিয়ে সিলেট বিভাগে হাম উপসর্গে ৪৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে ২৮৩ জন সন্দেহজনক রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই সময়ে নতুন করে কোনো ল্যাব কনফার্ম হাম রোগী শনাক্ত না হলেও বিভিন্ন হাসপাতালে বেড়েছে সন্দেহজনক রোগীর চাপ। বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম। মৃত্যু হওয়া শিশুরা হলেন, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জের দেবপাড়া গ্রামের আব্দুল মালিকে ৫ মাসের শিশু রাইসা ও  সুনামগঞ্জের ছাতকের ইশাক আলীর ৬ বছর ২৭ দিনের শিশু ছেলে আলী আফসান, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার জগদলের মুসাদ্দিক মিয়ার ১০ মাসের মুসলিমা ও সিলেট সিটি করপোরেশনের জইনপুর শিববাড়ীর বাহরাম আহমদের ১ বছর ২ মাসের শিশু ছেলে মো. রাশেদ আহমদ ও সুনামগঞ্জের শামিমা আহমদ নামের ৪ বছর ২ মাসের মেয়ে। সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১ জানুয়ারি থেকে অদ্যাবধি সিলেট বিভাগে ল্যাব কনফার্ম হাম রোগীর সংখ্যা ১৫৮ জন। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে ৮৪ জন, সিলেটে ৪২ জন, হবিগঞ্জে ১৬ জন এবং মৌলভীবাজারে ১৬ জন শনাক্ত হয়েছেন। হবিগঞ্জের শনাক্তদের মধ্যে ২ জন রুবেলা রোগী রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৪ জন সন্দেহজনক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ২৮৩ জন সন্দেহজনক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিভিন্ন হাসপাতালে বর্তমানে সন্দেহজনক হাম রোগে ভর্তি রয়েছেন মোট ২৮৩ জন, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৮০ জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫৯ জন, উইমেন্স মেডিকেল হাসপাতালে ২ জন, লায়ন্স শিশু হাসপাতালে ৭ জন, জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে ৮ জন, সিলেট আল হারামাইন হাসপাতালে ২ জন, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ৩ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৪ জন, পার্কভিউ মেডিকেল হাসপাতালে ৫ জনসহ বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা হাসপাতালসহ অন্যান্য স্থানে বাকি রোগীরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে মোট মৃত্যু হয়েছে ৪৩ জনের। এছাড়া নিশ্চিত হাম রোগে মারা গেছেন আরও ৪ জন। সব মিলিয়ে বিভাগে হাম ও উপসর্গজনিত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭ জনে। সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম কালবেলাকে বলেন, সন্দেহজনক হাম  উপসর্গ ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।  গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৭৪ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে ৪৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, হাম ও রুবেলা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। রুবেলা হামের তুলনায় কম তীব্র এবং এমআর ভ্যাকসিনে দুই রোগের প্রতিরোধ একসাথেই দেওয়া হয়। হামে সবচেয়ে বড় জটিলতা হলো ব্রঙ্কোনিউমোনিয়া, যার কারণেই অধিকাংশ শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। তিনি জানান, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে অতিরিক্ত রোগীর চাপে রয়েছে ৯০০ শয্যার বিপরীতে প্রায় ৩০০০ রোগী ভর্তি থাকে। শয্যা বাড়ালেও জনবল ও সরঞ্জাম না বাড়ালে সেবার মান উন্নত হবে না। তিনি আরও বলেন, উপজেলা ও জেলা হাসপাতালকে শক্তিশালী করে কার্যকর রেফারাল ব্যবস্থা চালু করতে হবে, যাতে জটিল রোগীরা শুধু ওসমানীতে আসে। এতে হাসপাতালের চাপ অর্ধেকে নেমে আসবে। সম্প্রতি শেষ হওয়া ভ্যাকসিনেশন কর্মসূচির ফলে এক মাসের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হবে এবং ধীরে ধীরে হাম ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ কমে আসবে।  

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow