‘সেভেন আপ’ এর গৌরব আছে ব্রাজিলেরও

২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে লজ্জাজনকভাবে হেরেছিল ব্রাজিল। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ এক যুগ। কিন্তু সময় যতই অতিবাহিত হোক না কেন ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারের এই স্কোরলাইন বারবারই ফিরে আসে। কখনো মিম হয়ে, কখনোবা অন্য কোনো ম্যাচের স্কোরলাইন এমন হলে, এমনকি কোনো দল ৭ গোল করলে কিংবা হজম করলেও ফিরে আসে ব্রাজিলিয়ানদের সেই হারের প্রসঙ্গ—যা আবার বাংলাদেশের অনেক ফুটবলপ্রেমীর কাছে ‘সেভেন আপ’ নামেও পরিচিত। এখন চলছে ফিফা বিশ্বকাপ। এবারই প্রথম তিন দেশে ৪৮ দলের বিশ্বকাপের আয়োজন করেছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। এবারের বিশ্বকাপেও ব্যাপক আলোচনায় সেই ‘সেভেন আপ’। শুধু আলোচনা বললে অবশ্য কমই বলা হয়ে যায়। বরং এবারের বিশ্বকাপেও সেভেন-আপ এর নতুন গল্প রচনা করেছে ফুটবল ইতিহাসে পাওয়ার হাউজ খ্যাত জার্মানি। ২০২৬ বিশ্বকাপে তুলনামূলক খর্ব শক্তির দল কুরাসাওকে ‘সেভেন আপ’ খাইয়ে-ই যে বরণ করেছে জার্মানি। সেইসঙ্গে ৭ গোলের গর্বিত ইতিহাসটাকে আরও সমৃদ্ধ করে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।  এরপর আবারও সামনে চলে আসে ব্রাজিলের সেই ‘সেভেন আপ’ প্রসঙ্গ। জার্মানির সমর্থকরা তো বট

‘সেভেন আপ’ এর গৌরব আছে ব্রাজিলেরও

২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে লজ্জাজনকভাবে হেরেছিল ব্রাজিল। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ এক যুগ। কিন্তু সময় যতই অতিবাহিত হোক না কেন ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারের এই স্কোরলাইন বারবারই ফিরে আসে। কখনো মিম হয়ে, কখনোবা অন্য কোনো ম্যাচের স্কোরলাইন এমন হলে, এমনকি কোনো দল ৭ গোল করলে কিংবা হজম করলেও ফিরে আসে ব্রাজিলিয়ানদের সেই হারের প্রসঙ্গ—যা আবার বাংলাদেশের অনেক ফুটবলপ্রেমীর কাছে ‘সেভেন আপ’ নামেও পরিচিত।

এখন চলছে ফিফা বিশ্বকাপ। এবারই প্রথম তিন দেশে ৪৮ দলের বিশ্বকাপের আয়োজন করেছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। এবারের বিশ্বকাপেও ব্যাপক আলোচনায় সেই ‘সেভেন আপ’। শুধু আলোচনা বললে অবশ্য কমই বলা হয়ে যায়। বরং এবারের বিশ্বকাপেও সেভেন-আপ এর নতুন গল্প রচনা করেছে ফুটবল ইতিহাসে পাওয়ার হাউজ খ্যাত জার্মানি। ২০২৬ বিশ্বকাপে তুলনামূলক খর্ব শক্তির দল কুরাসাওকে ‘সেভেন আপ’ খাইয়ে-ই যে বরণ করেছে জার্মানি।

সেইসঙ্গে ৭ গোলের গর্বিত ইতিহাসটাকে আরও সমৃদ্ধ করে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।  এরপর আবারও সামনে চলে আসে ব্রাজিলের সেই ‘সেভেন আপ’ প্রসঙ্গ। জার্মানির সমর্থকরা তো বটেই ব্রাজিল বিরোধী সকল প্রতিপক্ষের জন্যই যেন তা হয়ে উঠে ট্রল কিংবা ‘ঘায়েল’ করার অন্যরকম আনন্দ-উদযাপনের উপলক্ষ্য।
এর মধ্যেই আগামীকাল নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামছে ব্রাজিল। প্রতিপক্ষ হাইতি। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে হতাশাজনক ড্রয়ের পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়া সেলেসাওদের জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ। আর কাগজে-কলমে সেই সুযোগটা বেশ বড়ই। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের রেকর্ড যে একেবারেই একপেশে। 

২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে ব্রাজিল। অন্যদিকে স্কটল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হারে হাইতি। ফলে ‘সি’ গ্রুপে প্রথম জয়ের খোঁজে আছে দুই দলই। তবে শক্তির বিচারে দুই দলের অবস্থান একেবারেই ভিন্ন।

হাইতির ফুটবল ইতিহাসে বিশ্বকাপের স্মৃতি বলতে ১৯৭৪ সালের আসর। এরপর দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে এবার আবারও বিশ্বমঞ্চে ফিরেছে ক্যারিবীয় দেশটি। বিপরীতে ব্রাজিল খেলছে নিজেদের ২৩তম বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সব আসরে অংশগ্রহণ এবং সবচেয়ে বেশি শিরোপার মালিকও তারা।

এখন পর্যন্ত তিনবার দেখা হয়েছে ব্রাজিল ও হাইতির। তিনটিতেই জিতেছে ব্রাজিল। শুধু জয়ই নয়, গোলবন্যাও বইয়ে দিয়েছে সেলেসাওরা। তিন ম্যাচে ব্রাজিল করেছে ১৭ গোল, বিপরীতে গোল হজম করতে হয়েছে মাত্র ১টি। দুই দলের প্রথম দেখা ১৯৭৪ সালে একটি প্রীতি ম্যাচে। সেবার ৪–০ গোলে জিতেছিল ব্রাজিল। এরপর ২০০৪ সালে আরেক প্রীতি ম্যাচে হাইতিকে ৬–০ ব্যবধানে হারায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

সবচেয়ে স্মরণীয় ম্যাচটি হয় ২০১৬ কোপা আমেরিকায়। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত সেই টুর্নামেন্টে গ্রুপ পর্বে হাইতির জালে ৭ গোল দেয় ব্রাজিল। ম্যাচটি শেষ হয় ৭–১ ব্যবধানে। সেদিন হ্যাটট্রিক করেছিলেন ফিলিপে কৌতিনহো। গোল করেছিলেন রেনাতো অগুস্তো, গ্যাব্রিয়েল বারবোসা ও লুকাস লিমারাও।
শুধু তাই নয়? বিশ্বকাপেও ‘সেভেন আপ’ এর গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে ব্রাজিলের। যা নিয়ে গর্ব করতে পারেন সেলেসাও সমর্থকরা। ১৯৫০ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত রাউন্ডের সেই ম্যাচে যে ব্রাজিল ৭–১ গোলে পরাজয়ের লজ্জা উপহার দিয়েছিল সুইডেন।
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow