সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার শতভাগ সাফল্যে দুশ্চিন্তায় ইংল্যান্ড?

নিশ্চিত হয়ে গেছে বিশ্বকাপের শেষ চার দল। গত আসরের দুই ফাইনালিস্ট আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স আবারও সেমিতে। টুর্নামেন্টের এই পর্বে দুই দলের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড ও স্পেন। সম্ভবত সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ সেমিফাইনাল হতে যাচ্ছে স্পেন-ফ্রান্সের লড়াই। জনশ্রুতি আছে ফাইনালের আগে আরেক ফাইনাল হিসেবে। প্রথম সেমিফাইনাল নিয়ে হইচইটা বেশি। এর মানে এই নয় যে, আর্জেন্টিনাকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়ে স্বস্তিতেই আছে ইংল্যান্ড। মোটেও সেই সুযোগ নেই। উল্টো দুশ্চিন্তাটা ইংলিশদেরই বেশি। এই দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে বারবার উঠে আসে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের স্মৃতি। আর্জেন্টাইনদের জন্য সুখের হলেও ইংল্যান্ডের জন্য সেই স্মৃতি বারবার ক্ষোভের সঞ্চার করে। ডিয়েগো ম্যারাডোনা হাত দিয়ে গোল করে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করেছিলেন ইংল্যান্ডকে। স্মরণীয় সেই ম্যাচের কথা এখনও স্মরণ করে ফুটবলবিশ্ব। সেই ম্যাচের প্রতিশোধটাই হয়তো নেওয়ার লক্ষ্য হ্যারি কেইনদের। তবে দুশ্চিন্তা বাড়ছে অন্য এক পরিসংখ্যানে। যা নিশ্চিত করছে, সেমিফাইনালে আকাশি-নীল জার্সিধারিরা অপ্রতিরোধ্য। এখন পর্যন্ত পাঁচবার সেমিফাইনাল খেলে কখনোই হারেনি আর্জেন্টিনা। আরও পড়ুন বিশ্বচ্য

সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার শতভাগ সাফল্যে দুশ্চিন্তায় ইংল্যান্ড?

নিশ্চিত হয়ে গেছে বিশ্বকাপের শেষ চার দল। গত আসরের দুই ফাইনালিস্ট আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স আবারও সেমিতে। টুর্নামেন্টের এই পর্বে দুই দলের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড ও স্পেন। সম্ভবত সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ সেমিফাইনাল হতে যাচ্ছে স্পেন-ফ্রান্সের লড়াই। জনশ্রুতি আছে ফাইনালের আগে আরেক ফাইনাল হিসেবে।

প্রথম সেমিফাইনাল নিয়ে হইচইটা বেশি। এর মানে এই নয় যে, আর্জেন্টিনাকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়ে স্বস্তিতেই আছে ইংল্যান্ড। মোটেও সেই সুযোগ নেই। উল্টো দুশ্চিন্তাটা ইংলিশদেরই বেশি। এই দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে বারবার উঠে আসে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের স্মৃতি। আর্জেন্টাইনদের জন্য সুখের হলেও ইংল্যান্ডের জন্য সেই স্মৃতি বারবার ক্ষোভের সঞ্চার করে।

ডিয়েগো ম্যারাডোনা হাত দিয়ে গোল করে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করেছিলেন ইংল্যান্ডকে। স্মরণীয় সেই ম্যাচের কথা এখনও স্মরণ করে ফুটবলবিশ্ব। সেই ম্যাচের প্রতিশোধটাই হয়তো নেওয়ার লক্ষ্য হ্যারি কেইনদের। তবে দুশ্চিন্তা বাড়ছে অন্য এক পরিসংখ্যানে। যা নিশ্চিত করছে, সেমিফাইনালে আকাশি-নীল জার্সিধারিরা অপ্রতিরোধ্য। এখন পর্যন্ত পাঁচবার সেমিফাইনাল খেলে কখনোই হারেনি আর্জেন্টিনা।

মাঠে পরিসংখ্যান কাজে নাই দিতে পারে। তবে আলবিসেলেস্তেরা এই পরিসংখ্যানকে মনের ভেতর লালন করে সুখানুভূতি নিতে চাইবে নিশ্চিতভাবেই। মাঠের পারফরম্যান্সের উন্নতিতে রাখবে সহায়ক ভূমিকাও। তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিনদের এবার শিরোপা ধরে রাখার লড়াই। তাতে বাকি পাঁচ সেমিফাইনালের না হারার স্মৃতি বাড়তি টনিক হিসেবে কাজ করবে মাঠে।

প্রথম বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রকে বিধ্বস্ত করে ফাইনালে আর্জেন্টিনা (উরুগুয়ে, ১৯৩০)

মাত্র ১৩ দল নিয়ে উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৩০ সালের প্রথম ফিফা বিশ্বকাপ। পরবর্তীতে ট্রফিটি ‘জুলে রিমে কাপ’ নামে পরিচিতি পায়। তখন সেই আসর পরিচিত ছিল জুলে রিমে ট্রফি নামে। প্রথম আসরেই ফাইনালে পা রাখে আর্জেন্টিনা।

এক নম্বর গ্রুপে ছিল আর্জেন্টিনা। গ্রুপ পর্বে ফ্রান্স, মেক্সিকো ও চিলিকে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় আলবিসেলেস্তেরা। সেমিফাইনালে তাদের কাছে পাত্তাই পায়নি যুক্তরাষ্ট্র। ৬-১ গোলে প্রতিপক্ষকে বিধ্বস্ত করে ফাইনালে পা রাখে আর্জেন্টিনা। তাদের হয়ে জোড়া গোল করেন গিয়ের্মো স্তাবিলে ও কার্লোস পেউসেলে। একটি করে গোলের দেখা পান আলেহান্দ্রো স্কোপেল্লি ও লুইস মন্তি।

তবে ফাইনালে স্বাগতিক উরুগুয়ের কাছে ৪-২ ব্যবধানে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় আর্জেন্টিনার। উঁচিয়ে ধরা হয়নি প্রথম বিশ্বকাপের শিরোপা।

বেলজিয়ামকে হারিয়ে ফাইনালে ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা (মেক্সিকো, ১৯৮৬)

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ডিয়েগো ম্যারাডোনার জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতে সেমিফাইনালে পা রাখে আর্জেন্টিনা। ৫১ মিনিটে সেই বিতর্কিত হাত দিয়ে গোল করেন তিনি। পরে ৫৫ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে ৫ জন ইংলিশ ফুটবলারকে কাটিয়ে করেন শতাব্দীর সেরা গোল।

এরপর সেমিফাইনালে অনায়াসেই বেলজিয়ামকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। ২-০ গোলের সেই জয়েও জোড়া গোল করেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। ৫১ ও ৬৩ মিনিটে তার গোলেই নিশ্চিত হয় ফাইনাল।

সেই আসরের ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকে ৩-২ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা।

টাইব্রেকারে জিতে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে আর্জেন্টিনা (ইতালি, ১৯৯০)

ইতালিতে অনুষ্ঠিত ১৯৯০ সালের আসরেও ফাইনালে জায়গা করে নেয় আর্জেন্টিনা। ছিয়াশি তথা আগের আসরের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ফাইনালে ওঠার পথে সেমিতে হারায় স্বাগতিক ইতালিকেই।

১-১ সমতায় থাকা ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে ফাইনালে পা রাখে আলবিসেলেস্তেরা। তবে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা উঁচিয়ে ধরা হয়নি। আগের আসরের দুই ফাইনালিস্ট আবার জায়গা করে নেয় ফাইনালে। তবে এবার পশ্চিম জার্মানি ১-০ গোলে জিতে নিশ্চিত করে নিজেদের তৃতীয় শিরোপা।

সার্জিও রোমেরোর দৃঢ়তায় ডাচদের হারিয়ে ২৪ বছর পর ফাইনালে আর্জেন্টিনা (ব্রাজিল, ২০১৪)

কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ১-০ গোলে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলায়ও গোল করতে পারেনি আর্জেন্টিনা-নেদারল্যান্ডস কোনো দলই।

পেনাল্টি শুটআউটে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরো নেদারল্যান্ডসের রন ফ্লার ও ওয়েসলি স্নেইডারের শট রুখে দেন। আর্জেন্টিনার হয়ে লিওনেল মেসি, এজেকিয়েল গারাই, সার্জিও আগুয়েরো ও ম্যাক্সি রদ্রিগেজ চারজনই সফলভাবে পেনাল্টি থেকে গোল করেন।

২৪ বছর পর ফাইনালে পা রাখলেও সেখানে স্বপ্নভঙ্গ হয় লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলার একেবারে শেষদিকে মারিও গোটজের গোলে ১-০ গোলে জিতে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তোলে জার্মানি।

হেসেখেলে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে ফাইনালে মেসির আর্জেন্টিনা (কাতার, ২০২২)

কোনোরকম কষ্ট ছাড়াই সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে পা রাখে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসি প্রথমার্ধে পেনাল্টি থেকে গোল করে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। প্রথমার্ধের ৩৯ মিনিটে আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির অ্যাসিস্টে দ্বিতীয় গোলটি করেন হুলিয়ান আলভারেজ।

দ্বিতীয়ার্ধে জোসকো গভার্দিওলকে দুর্দান্তভাবে কাটিয়ে হুলিয়ান আলভারেজের দ্বিতীয় গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন মেসিই। সেই অ্যাসিস্টটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। ৩-০ ব্যবধানে জিতে ফাইনালে পা রাখার ম্যাচে হুলিয়ান আলভারেজ জোড়া গোল করে ম্যাচের অন্যতম নায়ক হন।

 লুসাইল স্টেডিয়ামের রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে প্রথমার্ধে মেসি ও ডি মারিয়ার গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। পরে ফ্রান্স ম্যাচে ফিরে আসে দ্বিতীয়ার্ধে কিলিয়ান এমবাপের জোড়া গোলে। ৯০ মিনিটের খেলা শেষ হয় ২-২ সমতায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলায় মেসি ও এমবাপে গোল করে আবারও ম্যাচ নেন ৩-৩ সমতায়।

তবে শেষ পর্যন্ত শিরোপা যায় আর্জেন্টিনার ঘরেই। টাইব্রেকারে এমিলিয়ানো মার্তিনেজের দৃঢ়তায় ৪-২ ব্যবধানে জিতে চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা। ঘরে তোলে তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা।

১৯৭৮ বিশ্বকাপের আসরে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা। সেই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের কথা উল্লেখ না থাকায় পাঠকরা বিভ্রান্ত হতে পারেন। সেই আসরে ১৬টি দল অংশ নেয়। প্রথমে চারটি গ্রুপে দল ভাগ করা হয়। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল (মোট ৮ দল) দ্বিতীয় গ্রুপ পর্বে ওঠে। এরপর এই ৮ দলকে দুটি গ্রুপে ৪টি করে দল ভাগ করা হয়। দ্বিতীয় গ্রুপ পর্বের দুই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন সরাসরি ফাইনালে ওঠে। আর দুই গ্রুপের রানার্স-আপ তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলে।

এই কারণেই ১৯৭৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা কোনো সেমিফাইনাল খেলেনি। তারা দ্বিতীয় গ্রুপ পর্বে শীর্ষে থেকে সরাসরি ফাইনালে উঠে নেদারল্যান্ডসকে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতে।

আইএন

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow