সোনার দাম ফের ৫ হাজার ডলার ছাড়াতে পারে এ বছরেই

স্বনামধন্য সুইস ব্যাংকিং জায়ান্ট ইউবিএস (UBS) পূর্বাভাস দিয়েছে যে, ২০২৬ সাল অর্থাৎ চলতি বছরের শেষ নাগাদ সোনার দাম প্রতি আউন্সে ৫ হাজার ৫০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। আগের ৫ হাজার ৯০০ ডলারের লক্ষ্যমাত্রা থেকে কিছুটা কমিয়ে এই নতুন হিসাব দেওয়া হলেও, ব্যাংকটির বিশ্লেষকদের মতে বর্তমান বাজার মূল্যের চেয়ে বছরের শেষ নাগাদ সোনার দাম আরও প্রায় ১ হাজার ডলার বেশি থাকবে। ১ আউন্স = প্রায় ২.৪৩ ভরি মূলত ট্রেজারি ইল্ড (সরকারি বন্ডের লাভ) বৃদ্ধি ও মার্কিন ডলারের টানা শক্তিশালী অবস্থানের কারণে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতার কথা মাথায় রেখেই এই পূর্বাভাস কিছুটা সংশোধন করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী প্রবণতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বর্তমানে সাময়িক স্থবিরতা থাকলেও ইউবিএস-এর বিশ্বাস, ২০২৬ সালে সোনার দাম আরও ২০ শতাংশ বা তার বেশি বাড়তে পারে ও দাম ৫,৯০০ থেকে ৬ হাজার ২০০ ডলারের দিকে যেতে পারে। সোনা মূলত সরাসরি যুদ্ধের হুমকি নয়, বরং যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট মুদ্রা অবমূল্যায়ন, ক্রমবর্ধমান ঘাটতি ও অর্থনৈতিক মন্দার মতো মুদ্রাগত ঝুঁকির বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়। আরও পড়ুন সোনার দাম আরও ১৬ শতাংশ কমতে পারে, দাবি বিশ্লেষকদের স্বল্পমেয়াদে উচ্চ জ্বালানি মূ

সোনার দাম ফের ৫ হাজার ডলার ছাড়াতে পারে এ বছরেই

স্বনামধন্য সুইস ব্যাংকিং জায়ান্ট ইউবিএস (UBS) পূর্বাভাস দিয়েছে যে, ২০২৬ সাল অর্থাৎ চলতি বছরের শেষ নাগাদ সোনার দাম প্রতি আউন্সে ৫ হাজার ৫০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। আগের ৫ হাজার ৯০০ ডলারের লক্ষ্যমাত্রা থেকে কিছুটা কমিয়ে এই নতুন হিসাব দেওয়া হলেও, ব্যাংকটির বিশ্লেষকদের মতে বর্তমান বাজার মূল্যের চেয়ে বছরের শেষ নাগাদ সোনার দাম আরও প্রায় ১ হাজার ডলার বেশি থাকবে।

১ আউন্স = প্রায় ২.৪৩ ভরি

মূলত ট্রেজারি ইল্ড (সরকারি বন্ডের লাভ) বৃদ্ধি ও মার্কিন ডলারের টানা শক্তিশালী অবস্থানের কারণে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতার কথা মাথায় রেখেই এই পূর্বাভাস কিছুটা সংশোধন করা হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদী প্রবণতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

বর্তমানে সাময়িক স্থবিরতা থাকলেও ইউবিএস-এর বিশ্বাস, ২০২৬ সালে সোনার দাম আরও ২০ শতাংশ বা তার বেশি বাড়তে পারে ও দাম ৫,৯০০ থেকে ৬ হাজার ২০০ ডলারের দিকে যেতে পারে। সোনা মূলত সরাসরি যুদ্ধের হুমকি নয়, বরং যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট মুদ্রা অবমূল্যায়ন, ক্রমবর্ধমান ঘাটতি ও অর্থনৈতিক মন্দার মতো মুদ্রাগত ঝুঁকির বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়।

স্বল্পমেয়াদে উচ্চ জ্বালানি মূল্য ও মুদ্রাস্ফীতির চিন্তা মার্কিন ডলারকে শক্তিশালী করেছে এবং সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে, যা সোনার জন্য নেতিবাচক। তবে ইউবিএস আশা করে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো হুট করে সুদের হার না বাড়িয়ে মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকির দিকে নজর রাখবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হবে, অর্থনৈতিক নেতিবাচক প্রভাব তত বাড়বে, যা হেজিং বা ঝুঁকি এড়ানোর মাধ্যম হিসেবে সোনার চাহিদাকে সমর্থন করবে।

‘গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট রিটার্নস ইয়ারবুক’ অনুযায়ী, ১৯০০ সাল থেকে সোনা ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য থেকে আসা প্রকৃত লাভ বা আয়ের সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতির একটি ইতিবাচক সম্পর্ক রয়েছে। বর্তমানে ইটিএফ বিনিয়োগকারীরা তাদের হোল্ডিং কিছুটা কমালেও সামগ্রিক অবস্থান স্থিতিশীল ও হেজ ফান্ডগুলো সোনার নেট পজিশন সামান্য বাড়িয়েছে।

এশিয়ার ক্রমবর্ধমান আয়ের কারণে গহনার কাঠামোগত চাহিদা বৃদ্ধি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা কেনা অব্যাহত রাখার ফলে সামগ্রিক চাহিদা শক্তিশালী থাকবে। সেই সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণ এবং ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর জন্য বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর প্রচেষ্টা সোনার দীর্ঘমেয়াদী সম্ভাবনাকে আরও দৃঢ় করবে।

সুযোগ ব্যয়ের হিসাব ও বাজারের বর্তমান গতিপ্রকৃতি

ইউবিএস-এর বিশ্লেষক ডমিনিক শ্নিডার ও ওয়েন গর্ডন জানিয়েছেন, বন্ডের লাভ চড়া থাকায় বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে সোনা থেকে কিছুটা দূরে থাকছেন। তারা উল্লেখ করেন, বাজার এখন ‘সুযোগ ব্যয়’ বা অপরচুনিটি কস্টের ধারণাটি নতুন করে উপলব্ধি করছে। রিয়েল রেট (প্রকৃত সুদের হার) চড়া থাকায় সোনা থেকে সরাসরি কোনো লভ্যাংশ না পাওয়ার বিষয়টি এখন বিনিয়োগকারীদের কাছে বড় বিবেচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইটিএফ (ETF) ও ফিউচার মার্কেটে সোনার চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রবাহে কিছুটা স্থিতিশীলতা এলেও, ২০২৬ সালের শুরুর দিকে সোনা যে তীব্র ঊর্ধ্বমুখী গতি পেয়েছিল, তা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনার জন্য এটি এখনো যথেষ্ট নয়।

তবে ইউবিএস মনে করে না যে সোনার এই কাঠামোগত চাঙ্গা ভাব (Bull Market) শেষ হয়ে গেছে; বরং বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের কিছুটা ধৈর্য ধরতে হবে। ২০২৭ সালের দিকে একটি নিরপেক্ষ মুদ্রানীতি তৈরি হলে ডলারের শক্তি কমতে পারে, যা আবারও সোনার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ বাড়িয়ে দেবে।

বিশ্লেষক স্টাউনোভোর মতে, সরবরাহ-চাহিদার ভারসাম্যহীনতা বা মুদ্রাস্ফীতি ও ভূ-রাজনৈতিক সংকটের মতো সামষ্টিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি যখন বেশি থাকে, তখন কমোডিটি থেকে ভালো রিটার্ন আসে। সুদের হারের পূর্বাভাস কমে এলে এবং ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বজায় থাকলে মাঝারি মেয়াদে সোনা উল্লেখযোগ্যভাবে ঘুরে দাঁড়াবে।

যারা সোনা পছন্দ করেন, তারা পোর্টফোলিওর ঝুঁকি কমাতে একক অঙ্কের মাঝারি শতাংশ (Mid-single-digit) পর্যন্ত বরাদ্দ রাখতে পারেন। আর যাদের সোনা থেকে এরই মধ্যে বড় অঙ্কের অবাস্তবায়িত মুনাফা (Unrealized Profits) রয়েছে, তারা মুনাফার উৎস বাড়াতে তামা, অ্যালুমিনিয়াম ও কৃষি পণ্যে বিনিয়োগ করতে পারেন।

 

সূত্র: kitco

এসএএইচ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow