স্ত্রীর জানাজায় অংশ না নেওয়ার বিষয়ে ‘বিস্ফোরক’ তথ্য জানালেন আলভী

স্ত্রীর জানাজায় অংশ না নেওয়াকে ঘিরে চলমান সমালোচনার মধ্যেই অবশেষে মুখ খুললেন আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় অভিযুক্ত অভিনেতা যাহের আলভী। ফেসবুকে প্রকাশিত প্রায় ২৯ মিনিটের একটি ভিডিওতে তিনি স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুর বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন এবং জানাজা-দাফনে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন। মঙ্গলবার (২ মার্চ) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক আইডিতে ২৮ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডের একটি রেকর্ডেড ভিডিও প্রকাশ করেন আলভী। এসময় এ অভিনেতা ১ মার্চ কাঠমান্ডু টু ঢাকার একটি টিকিটের ছবিও দেখান। তিনি জানান, দেশে আসার সব প্রস্তুতি নিয়েও, পরে আর রওনা দেননি। এর কারণ হিসেবে তিনি সকল দায় দেশের মানুষ ও ইকরার পরিবারের ওপর চাপালেন। অভিনেতা ভিডিওতে বলেন, ‘আমি সবকিছু ঠিক করে দেশে যেতে পারলাম না শুধুমাত্র আপনাদের জন্য। আপনারা আমাকে দেশে যেতে দেননি। ইকরার মুখটি শেষবারের মতো দেখতে দেননি। ইকরার পরিবার আমাকে আমার স্ত্রীর মুখ দেখতে দেয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে প্রচুর হুমকি দেওয়া হচ্ছে, আমি দেশে গেলেই মব সৃষ্টি করে আমাকে মেরে ফেলা হবে। এ অবস্থায় আমি কি করে যাই? আমার রিজিকের (ছেলে) মা আর বেঁচে নেই, এখন যদিও আমিও মারা যাই

স্ত্রীর জানাজায় অংশ না নেওয়ার বিষয়ে ‘বিস্ফোরক’ তথ্য জানালেন আলভী

স্ত্রীর জানাজায় অংশ না নেওয়াকে ঘিরে চলমান সমালোচনার মধ্যেই অবশেষে মুখ খুললেন আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় অভিযুক্ত অভিনেতা যাহের আলভী। ফেসবুকে প্রকাশিত প্রায় ২৯ মিনিটের একটি ভিডিওতে তিনি স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুর বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন এবং জানাজা-দাফনে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন।

মঙ্গলবার (২ মার্চ) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক আইডিতে ২৮ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডের একটি রেকর্ডেড ভিডিও প্রকাশ করেন আলভী।

এসময় এ অভিনেতা ১ মার্চ কাঠমান্ডু টু ঢাকার একটি টিকিটের ছবিও দেখান। তিনি জানান, দেশে আসার সব প্রস্তুতি নিয়েও, পরে আর রওনা দেননি। এর কারণ হিসেবে তিনি সকল দায় দেশের মানুষ ও ইকরার পরিবারের ওপর চাপালেন।

অভিনেতা ভিডিওতে বলেন, ‘আমি সবকিছু ঠিক করে দেশে যেতে পারলাম না শুধুমাত্র আপনাদের জন্য। আপনারা আমাকে দেশে যেতে দেননি। ইকরার মুখটি শেষবারের মতো দেখতে দেননি। ইকরার পরিবার আমাকে আমার স্ত্রীর মুখ দেখতে দেয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে প্রচুর হুমকি দেওয়া হচ্ছে, আমি দেশে গেলেই মব সৃষ্টি করে আমাকে মেরে ফেলা হবে। এ অবস্থায় আমি কি করে যাই? আমার রিজিকের (ছেলে) মা আর বেঁচে নেই, এখন যদিও আমিও মারা যাই তাহলে আমার রিজিকের কী হবে! আপনারা কি চান যে আমিও মরে যাই? যদি পুলিশ আমাকে ধরে নিয়ে যায় কোনো সমস্যা নেই, আইনিভাবে আমি এটা মোকাবিলা করব। কিন্তু কোনো মব সৃষ্টি করে যদি আমাকে মেরে ফেলা হয় তাহলে আমার রিজিকের কী হবে। আমার কাছে এখন আমার ছেলে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

অভিনেতা বলেন, ‘আপনার অনেকেই বলছেন, যে মানুষটা আমাকে ভালোবেসে মরে গেল, আমি তাকে দেখতে এলাম না। দেখেন, ১৬ বছর তার সঙ্গে আমি সংসার করেছি। একটা শত্রুর সঙ্গেও এত বছর একসঙ্গে এক ছাদের নিচে থাকলে মৃত্যুর পর তার মুখ দেখার জন্য ছটফট করতে হয়। সেখানে ইকরা তো আমার বউ ছিল। আমি তার মৃত্যুর পর ট্রমার মধ্যে আছি। আমাকে আপনারা দেশে আসার সুযোগ দেন নাই। ইকরার পরিবার আমাকে আমার স্ত্রীর মুখ দেখতে দেয় নাই। এ দায় তার পরিবারকেই নিতে হবে।’

জানা গেছে, ইকরার মৃত্যুর আগেই নেপালে যান আলভী। সেখান থেকেই স্ত্রীর মৃত্যুর খবর শুনে পরদিন (রোববার) তার দেশে আসার কথা থাকলেও, তার আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বলা যায়, অনেকটা আত্মগোপনে ছিলেন। দেশে আসছেন কি না বা এসে থাকলেও কোথায় তিনি সে খবর মিলছিল না। এ নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে বেশ সমালোচনার মুখে পড়েন এ অভিনেতা। স্ত্রীর মুখটি শেষবারের মতোও দেখতে এলেন না এ অভিনেতা। এরইমধ্যে গতকাল (রোববার) ইকরার দাফন সম্পন্ন হয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow